Freelancing in Bangladesh | online marketplace for freelancers| online earn money


বাংলাদেশে অনলাইনে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ

বৈশ্বিক ডিজিটাইজেশন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সুবাদে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ডিজিটাল আউটসোর্সিংয়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ হয়ে উঠছে এখন বাংলাদেশ। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের ডিজিটাল ইকোনমাই রিপোর্ট-২০১৯ অনুযায়ী, বৈশ্বিক এ খাতে বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সার কাজ করছেন, যাদের মাধ্যমে প্রতিবছর দেশে ১০ কোটি ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আসছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের আইটি খাতে ৩ লাখের বেশি পেশাজীবী কাজ করছে। এই কাজে প্রতিনিয়ত আইটি কর্মী ও পেশাজীবীর দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য যেমন প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হচ্ছে তেমনি নতুনদের ক্ষেত্রেও বাজারে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণের চাহিদা বেড়েছে। কোভিড পরিস্থিতিতে এই প্রশিক্ষণ অনলাইনে বিস্তার লাভ করেছে।

 

কেন বাড়ছে অনলাইনে তথ্য প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ

শ্রমব্যয় কম থাকায় বিশ্বের আউটসোর্সিং বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াসহ উন্নত বিশ্বের অনেক বড় বড় কোম্পানি এখন বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ থেকে আইটি আউটসোর্সিং করছে। এতে বাংলাদেশ হয়ে উঠছে ফ্রিল্যান্সিং কর্মসংস্থানের একটি বড় উৎস। ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং থেকে শুরু করে ওয়েব ডিজাইন, কর প্রতিবেদন প্রস্তুতকরণ ও অনুসন্ধান ইঞ্জিন ওপটিমাইজেশনসহ অনেক কাজই রয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক এসব কাজ উদীয়মান দেশগুলোতে কর্মসংস্থানের বিপুল সুযোগ তৈরি করেছে, যা আগে ছিল না। ফলে তৈরি হয়েছে বিপুল কর্মসংস্থান। 

 

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৪ কোটি ৪০ লাখ তরুণদের প্রতি ১০ জনের একজন বেকার। প্রতিবছরই বিশ্ববিদ্যালয় পেরোনো হাজার হাজার শিক্ষার্থী মনের মতো চাকরি না পেয়ে বেকার হয়ে বসে আছেন। ফলে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে খুব সহজেই আইটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে। আর শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য আইটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সংখ্যাও বাড়ছে। এতে বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজেদেরকে ফ্রিল্যান্সিংয়ে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশীরভাগই সরাসরি ক্লাস নেবার পাশাপাশি অনলাইনেও সেবা দিয়ে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে সুবিধাজনক সময়ে এবং অনেক কম খরচেই বিভিন্নরকম কোর্স করতে পারে যার মাধ্যমে তারা  ফেসবুক মার্কেটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, এসইও, অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের মতো নানা বিষয় দক্ষতা অর্জন করার সুযোগ রয়েছে।

 

ফ্রিল্যান্সিং এবং আইটি প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করছে যারা

বাংলাদেশের তরুণরা বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং শেখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রশিক্ষক সেবা প্রতিষ্ঠান এবং কেউ কেউ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আইটি খাতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ঘরে বসে অনলাইনে কোর্স করার সুবিধা দিচ্ছে ইনস্ট্রাক্টরি, উই মেক প্রো এবং বহুব্রীহিসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, তরুণেরা এখন নতুন নতুন বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এর মধ্যে গ্রাফিকস, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, একাউন্টিং, পাওয়ার পয়েন্টের পাশাপাশি রয়েছে এক্সেলের বিভিন্ন কাজ। আর অফলাইনের চেয়ে বেশীরভাগ শিক্ষার্থী এসব প্রশিক্ষণ অনলাইনে করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। অনলাইনে করার সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থীরা ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা শহর থেকেও এসব প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার সুযোগ পাচ্ছেন, ফলে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে।

 

সরকারিভাবেও বাংলাদেশের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সীমিত আকারে তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অনলাইনে চালাচ্ছে এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এছাড়া ইউটিউব বা গুগলে ব্লগ পড়েও শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা বাড়াচ্ছে।

 

অনলাইনে প্রশিক্ষণের পথে বাধা

প্রশিক্ষণের ক্লাসগুলো অনলাইন হয়ে যাওয়ায় এখনও বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বাংলাদেশের। সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে ইন্টারনেট সেবার মান। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মূল্যও অনেক বেশি। তাছাড়া দেশের সব জায়গায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পাওয়া যায় না। বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এটা অনেক বড় সমস্যা। এছাড়া ব্রডব্যান্ড সুবিধা থাকলেও অনেক সময় তা ধীরগতির হয়। মোবাইল ফোনের নেট ব্যবহার করে ইন্টারনেট ব্যবহার করা বেশ ব্যয়বহুল।

 আরো পড়ুন- উদ্দীপন এনজিও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২২

যান্ত্রিক ত্রুটি অন্য একটি কারণ। শিক্ষার্থীরা আইটি খাতে জ্ঞান বাড়াতেই যেহেতু এসব প্রশিক্ষণে অংশ নেয় তাই বেশির ভাগ শিক্ষার্থী এর আগে থেকেই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক গুলোতে দক্ষতা থাকে না। এ কারণে তাদের ডিভাইসগুলোতে অথবা মিটিং সফট্ওয়ারে কোন ধরনের সমস্যা হলে তা সমাধান করতে গিয়ে তারা হিমশিম খায়।

 

আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে টাকার সহজ লেনদেন ব্যবস্থা। সরাসরি দেখা না হওয়ায় আর্থিক লেনদেনের উপায়গুলো বলতে শুধু থাকে ব্যাংকিং মোবাইলে মানি ট্রান্সফার ইত্যাদি। কিন্তু শিক্ষানবিস এসব শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যাংক একাউন্ট থাকেনা এবং তারা মোবাইলে মানি ট্রানস্ফার করে থাকেন। মোবাইলে মানি ট্রান্সফারে সিস্টেম লস হয় অনেক বেশি এবং এতে অর্থ ব্যয় বাড়ে।

 

বাংলাদেশ অনলাইন তথ্য প্রযুক্তি প্রশিক্ষণের সম্ভাবনা

বাংলাদেশ এই সময়ে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের জনসংখ্যার অধিকাংশই কর্মক্ষম। এই বিশাল যুব জনগোষ্ঠীকে মানব সম্পদে রূপান্তর করার মধ্যে একটি বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। বৈশ্বিক ভাবেও ফ্রিল্যান্সিং জগতের বাংলাদেশের একটি শক্ত অবস্থান আছে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের যুব জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্রিল্যান্সিং শেখা একটি আদর্শ সময়। যেখানে তরুণদের মধ্যে একটি বিশাল অংশ বেকার। এই সবকিছু বিবেচনায় বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং এর একটি বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

 

বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত ফ্রিল্যান্সার এবং আইটি খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রশিক্ষণের নানান সুযোগ সুবিধা। অনলাইনে প্রশিক্ষণের এই ধারণা যদিও বেশ পুরনো কিন্ত এটি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে ২০২০ সালে বৈশ্বিক করোনা মহামারীর পর। ২০২০ সালে যেখানে প্রায় সকল খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, আইটি খাতে পড়েছে এর ইতিবাচক প্রভাব। যার ফলে অনলাইনে আইটি প্রশিক্ষণ সম্ভবপর হয়েছে।

 

ফ্রিল্যান্সিং খাতের উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু-বিভাগীয় গবেষণা ও শিক্ষাদান বিভাগ অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইন্সটিটিউট (ওআইআই) এর এক গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে যে অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং এ বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ লক্ষ ফ্রিল্যান্সার নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বার্ষিক ১০ কোটি ডলার আয় করছে। বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সার এর ২৪ শতাংশ নিয়ে ভারত শীর্ষে অবস্থান করছে, এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশর ফ্রিল্যান্সার এর সংখ্যা বিশ্বে ১৬ শতাংশ এবং ১২ শতাংশ ফ্রিল্যান্সার নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশে ভেদে ফ্রিল্যান্সারদের ধরন আলাদা। বাংলাদেশ এর ফ্রিল্যান্সাররা বিক্রয় ও মার্কেটিং সেবায় এগিয়ে আছে।

 

বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং এর অবস্থা

বাণিজ্যবিষয়ক পত্রিকা ফোর্বস এর তথ্যমতে ফ্রিল্যান্সিং থেকে আয়ে এগিয়ে থাকা শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। ফ্রিল্যান্সিং আয়ে বাংলাদেশ এর অবস্থান অষ্টম এবং বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ২৭ শতাংশ। বিশ্বে বছরে এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজার রয়েছে আউটসোর্সিংয়ে। বাংলাদেশে এই খাতে আয় ১ বিলিয়ন হলেও, সম্ভাবনা আছে ৫ বিলিয়ন ডলারের। কিন্তু এই ৫ বিলিয়ন ডলার আয় এর লক্ষ্য পূরন করতে প্রয়োজন প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার এর সরকারি বিনিয়োগ। বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিংয়ে অনেক উন্নতি করেছে যার ফলে বাংলাদেশের আয় ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পেরেছে কিন্তু বাংলাদেশের সামনে ফ্রিল্যান্সিং খাতে বিরাটা সুযোগ রয়েছে। আর এ খাতে ভালো কর‍তে হলে অবকাঠামো এবং ইন্টারনেট সুবিধা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের জন্য ফ্রিল্যান্সিং একটি সম্ভাবনাময় খাত। কারন যেখানে দেশের চাকরির বাজার বেশ নাজুক অবস্থায় আছে, যেখানে ৪৭% শিক্ষিত জনগোষ্ঠী বেকার, পর্যাপ্ত চাকরির ক্ষেত্র তৈরি হয় না, সেখানে বিকল্প পেশা হিসেবে সম্মানজনক অবস্থায় আছে ফ্রিল্যান্সিং। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৪ কোটি ৪০ লাখ তরুণদের প্রতি ১০ জনের একজন বেকার। প্রতিবছরই বিশ্ববিদ্যালয় পেরোনো হাজার হাজার শিক্ষার্থী মনের মতো চাকরি না পেয়ে বেকার হয়ে বসে আছেন। ফলে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। কিন্তু এই বেকার জনগোষ্ঠীকে ফ্রিল্যান্সিংয়ে যুক্ত করে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে।

 

ফ্রিল্যান্সিং খাতে সরকারি উদ্যোগ

ফ্রিল্যান্সিংকে খাত হিসেবে আরো সফল করতে সরকারি উদ্যোগই বেশি প্রয়োজন। ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশের রোডম্যাপঘোষণার দশ বছর পর সরকার আমার গ্রাম-আমার শহর, সুশাসনও তারুণ্যের শক্তি’- এই তিনটি উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নেয়। তাতে ডিজিটাল বিপ্লবের বাস্তবায়ন আরো গতিশীলহয়েছে। এই রোডম্যাপ অনুযায়ী সরকার ইতিমধ্যে নানা রকম উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি ভাবে প্রশিক্ষণের সুযোগ। আইসিটি মন্ত্রনালয়ের অধীনে লার্নিং এন্ড আর্নিং প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশব্যপী চল্লিশ হাজার প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে সরকার পাঁচ লক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহন করেছে। ইতিমধ্যে, আইসিটি বিভাগ এবং বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার ডেভলপমেন্ট সোসাইটি ফ্রিল্যান্সারদের ডাটাবেইজ তৈরি করেছে। এছাড়া সরকার তথ্য প্রযুক্তি সেবা নিশ্চিত করতে প্রতি জেলায় আইসিটি পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের ফ্রিল্যান্সারদের সরকারি কাজ করার সুযোগ দিতে একটি মার্কেটেপ্লেস তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে । যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরও এই কার্যক্রমে নানান প্রশিক্ষণ ও ভাতার ব্যবস্থা করছে। সরকারিভাবে বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গুলোকেও নানা ভাবে সাহায্য করছে সরকার।

 

সরকারি নানা উদ্যোগের পরেও এখনো বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বাংলাদেশের। যার মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ইন্টারনেট সেবার মান এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের অধিক মূল্য। ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য ইন্টারনেটের বিকল্প নেই। ঢাকাতে ইন্টারনেট আগের চেয়ে কিছুটা সহজলভ্য ও গতি সম্পন্ন হলেও ঢাকার বাইরে ইন্টারনেট সেবার মান আরো বাড়ানো প্রয়োজন। অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে এখনো ইন্টারনেটের দাম অনেক বেশি। সেখানে দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা পেতে অনেক টাকা ব্যয় কর‍তে হয়। এছাড়া যেসব এলাকা ব্রডব্যান্ড সংযোগ এর আওতায় নেই সেখানে টেলিকম ইন্টারনেট ব্যাবহার ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই, যা অনেক ব্যয়বহুল এবং কম গতিসম্পন্ন। দেশের সর্বত্র ব্যান্ডউইথের মাত্রাও এক নয়। তাই সরকারের উচিৎ দ্রুত গতির নেটওয়ার্ক সর্বত্র বিস্তৃত এবং সহজলভ্য করা এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের দাম নির্ধারণে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা।

 আরো পড়ুন- Fire Service Job Circular 2022

ফ্রিল্যান্সিং এর আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে টাকার সহজ লেনদেনের ব্যবস্থা। বিশেষ করে বিদেশ থেকে টাকা নেওয়ার ক্ষেত্রে সহজ কোনও উপায় নেই। বর্তমানে বাংলাদেশে অনলাইন পেমেন্ট মেথড হিসেবে পেওনিয়ার, স্কিল, পেইজা, নেটেলার, জুম চালু আছে। কিন্তু উন্নত বিশ্বে অনলাইন অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় পেপাল। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো পেপাল সেবা চালু করা হয়নি ফলে ফ্রিল্যান্সারদের উপার্জিত অর্থ গ্রহণ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থ প্রদানের জন্য পেমেন্ট মেথড নিয়ে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়, ব্যয় হয় অতিরিক্ত অর্থ। যদিও ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকার এবং পেপালের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কাজ চলমান আছে। পেপাল কর্তৃপক্ষ বাজার যাচাইসহ নানা পরীক্ষা চালিয়েছে। সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের কথা ভেবে বাংলাদেশে পুরোপুরি পেপাল সেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নয়টি ব্যাংকের সাথেও সরকারি উদ্যোগে আলোচনা হয়েছে। এদিকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালোয়ও পেপালের সঙ্গে আলোচনা চলমান রেখেছে। পেপাল সেবা চালু হলে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা উপকৃত হবেন। এ ছাড়া রেমিট্যান্স আসার হার বাড়বে। ডিজিটাল ট্রানজেকশন বাড়বে। তাই সরকারের উচিত দেশে দ্রুত পেপাল সেবা চালু করা জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া। 

 

ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। সরকার ইতোমধ্যে এই খাত নিয়ে কাজ করছে। সরকারের যথাযথ বিনিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার মাধ্যমে এই সম্ভাবনায় খাত থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক অর্জন এবং বেকার সমস্যা দূর করা সম্ভব।

 

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন মাধ্যম ফ্রিল্যান্সিং

 

ডিজিটালাইজেশনের আগমনের সাথে সাথে বাংলাদেশের মতো অনেক উন্নয়নশীল দেশ ডিজিটাল অর্থনীতিতে মনোনিবেশ করছে। একটি দেশের অর্থনীতির ডিজিটালাইজেশন কেবল তার শিল্পে নতুনত্বকে চালিত করে না, এটি গার্হস্থ্য কর্মসংস্থানের সুযোগকেও উন্নীত করে, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সক্ষম করে। ব্যয় এবং ঝুঁকি হ্রাসের সন্ধানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশগুলির অনেকগুলি বড় কর্পোরেশন বাংলাদেশসহ নানা দেশ থেকে আইটি আউটসোর্সিংয়ের দিকে ঝুঁকছে, যা বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিংকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে। বৈশ্বিক ডিজিটালাইজেশন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সুবাদে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল আউটসোর্সিংয়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ হয়ে উঠছে। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের ডিজিটাল ইকোনমাই রিপোর্ট-২০১৯মতে, বৈশ্বিক এ খাতে বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ৬ লাখ

 ফ্রিল্যান্সার কাজ করছেন, যাদের মাধ্যমে প্রতিবছর দেশে ১০ কোটি ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আসছে। একটি দেশের অর্থনৈতিক ডিজিটালাইজেশন শুধু পণ্য ও সেবার উদ্ভাবনই বাড়ায় না, সাথে অভ্যন্তরীণ বাজারে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি করে ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে জোরালো করে।

 

ফ্রিল্যান্সিং এর সুবিধা

 

ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং থেকে শুরু করে ওয়েব ডিজাইন, অডিট প্রস্তুতি, এডোবির কাজ এবং সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন সবকিছু অন্তর্ভুক্ত। এটি উদীয়মান বাজারগুলিতে মানুষের জন্য বিস্তৃত নতুন সুযোগ তৈরি করেছে যা আগে এতো বেশী বেশি ছিল না। এশিয়া বিশ্বজুড়ে আউটসোর্সিং এর ক্ষেত্রে নামকরা জায়গা করে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। আর সেই জায়গায় বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে। ফ্রিল্যান্সারদের চাহিদা বর্তমানে অনেক বেশী। তার একটি কারণ এই খাতে কাজের পরিমাণ অনেক বেশী। এ ধরনের কাজের সুবিধাও অনেক। বিশেষ করে গ্রাহক ও কাজের  পরিসর অনেক মুক্ত। বিশ্ব বাজারে কাজ করা যায়, কাজের স্থান নিয়েও ভোগান্তি নেই। আর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ফ্রিল্যান্সারদের ঢাকার মতো জনবহুল শহরের রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যাম ঠেলে অফিস যেতে হয় না। নেই কোন যাতায়ত খরচ বা আলাদা খাবার খরচ। ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে নতুন চাকরি বাজার তৈরি হয়েছে, তৈরি হয়েছে অনেক সুযোগ। এখন আউটসোর্সিংয়ের বাজার সবচেয়ে বড় এশিয়াতেই।  স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখতে এখান থেকে ভালো আয় করার সুযোগ রয়েছে। দ্রুতগতিতে বাংলাদেশে ডিজিটাল রুপ লাভ করায়, শহরে ইন্টারনেট সুবিধা, সরকারি-বেসরকারি প্রচারণায় এই খাত ধীরে ধীরে সবার কাছে পরিচিত ও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এবং প্রতিদিনই বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা বাড়ছে।

 

বাংলাদেশের সম্ভাবনা

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৪ কোটি ৪০ লাখ তরুণদের প্রতি ১০ জনের একজন বেকার। প্রতিবছরই বিশ্ববিদ্যালয় পেরোনো হাজার হাজার শিক্ষার্থী মনের মতো চাকরি না পেয়ে বেকার হয়ে বসে আছেন। ফলে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে খুব সহজেই ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে নানা সুযোগ রয়েছে।  বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই নিবন্ধে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, এতে করে তারা শুধু নিজের জীবিকাই নিশ্চিত করবে না, বরং দেশে অনেক বৈদেশিক মুদ্রাও অনবে সমর্থ হবে যা নতুন বাংলাদেশর অর্থনৈতিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

 আরো পড়ুন- Milk Vita job circular

ফ্রিল্যান্সিং এর বাজার যেহেতু প্রতিদিনই বড় হচ্ছে এবং কাজের জন্য কোন পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই তাই বাংলাদেশি যুব সমাজের জন্য ফ্রিল্যান্সিং একটি অনন্য সুযোগ। প্রশিক্ষণ নিয়ে অল্প কদিনের মধ্যেই এই খাতে উপার্জন করা সম্ভব।

 

ফ্রিল্যান্সিং এর অবদান ও গুরুত্ব

বিগত কয়েক বছরে দেশের অর্থনীতিতে ফ্রিল্যান্সারদের অবদান লক্ষণীয়। দেশের বার্ষিক আয়ের এক উল্লেখযোগ্য অংশ আসে তাদের কাজের মাধ্যমে। বাংলাদেশ তথ্য-প্রযুক্তি অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর ফ্রিল্যান্সররা ১০ কোটি ডলার আয় করে থাকেন। শ্রমব্যয় কম থাকায় বিশ্বের আউটসোর্সিং বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে বাংলাদেশ।

 

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু-বিভাগীয়ভ গবেষণা ও শিক্ষাদান বিভাগ অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইন্সটিটিউট (ওআইআই) এর এক গবেষণায় প্রকাশিত  হয়েছে যে অনলাইন শ্রমিক সরবরাহে বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার এর সংখ্যা বিশ্বে ১৬ শতাংশ। বাণিজ্যবিষয়ক পত্রিকা ফোর্বস এর তথ্যমতে ফ্রিল্যান্সিং থেকে আয়ে এগিয়ে থাকা শীর্ষ ১০ দেশের  মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। ফ্রিল্যান্সিং আয়ে বাংলাদেশ এর অবস্থান অষ্টম এবং বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ২৭ শতাংশ। বিশ্বে বছরে এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজার রয়েছে আউটসোর্সিংয়ে। বাংলাদেশে এই খাতে আয় ১ বিলিয়ন হলেও, সম্ভাবনা আছে ৫ বিলিয়ন ডলারের। কিন্তু এই ৫ বিলিয়ন ডলার আয় এর লক্ষ্য পূরণ করতে ফ্রিল্যান্সার এর সংখ্যা ৫ গুণ বৃদ্ধি করতে হবে। সেই ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়কে এগিয়ে আসতে হবে।

 

যুবসমাজের বিশাল জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশ, এশিয়ার কয়েকটি দেশগুলোর মধ্যে একটি। এর ১৬৩ মিলিয়ন লোকের মধ্যে প্রায় ৬৫% পচিশ বছরের কম বয়সি। এই বিশাল, তরুণ ও শক্তিশালী মানবসম্পদ, এখনো প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক বাজারে সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয়জ্ঞানের অভাব রয়েছে। যদিও ক্যারিয়ার হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং গত কয়েক বছরে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, হাজার হাজার বাংলাদেশের তরুণ এই সুযোগটি কাজে লাগাতে তাদের সহায়তা করার জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং সরকারি সহায়তার প্রয়োজন। আমাদের আইটি সেক্টর এবং আইটি উন্নয়নের উত্থানের কারণে বাংলাদেশে আউটসোর্সিং বেড়েছে। দেশের অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে সরকারকে এই খাতে জোরদার হতে হবে যা প্রচুর বিদেশি রেমিট্যান্স উৎপাদন করতে পারে। আউটসোর্সিং বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করেছে এবং তা অর্থনীতির সার্থকতা অব্যাহত রাখবে বলে ধারণা করা যায়।

 

একজন উৎসাহী ফ্রিল্যান্সার হিসেবে যেভাবে আপনার কভার লেটারটিকে অভিনব করে তুলবেন

ঘরে বসে টাকা রোজগার করার সবচেয়ে সহজ পথ হলো ফ্রিল্যান্সিং। আপনার যদি একটি কম্পিউটার এবং একটি ইন্টারনেট সংযোগ থাকে, তাহলে আপনিও পারেন আপনার আগ্রহ ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ বেছে নিতে। তবে যেকোনো অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মাধ্যমে কাজ পেতে হলে শুরুতেই আপনাকে একটি সংক্ষিপ্ত, মার্জিত ও পেশাদার কভার লেটার লিখে বিনিয়িগকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে।  কভার লেটার লেখা ফ্রিল্যান্সিং জগতে পা দেয়ার প্রথম এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়। একটি সুন্দর ও নিখুঁত কভার লেটার আপনার ক্যারিয়ারকে অনেকাংশেই সহজ করে তুলবে। বিনিয়োগকারী আপনার কাজের ফলাফল ও নির্ভুলতা দেখার আগে আপনার কভার লেটার দেখেই আপনার সম্পর্কে ধারণা করবে। অর্থাৎ, একটি ভালো কভার লেটার আপনাকে কাজ পাইয়ে দিতে সাহায্য করবে, আর আপনার কাজটি বিনিয়গকারীকে সন্তুষ্ট করবে কি না তা নির্ধারণ করবে আপনার দক্ষতা। কাজেই আপনি যদি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে চান তাহলে সবার শুরুতেই একটি ভালো কভার লেটার লেখা আপনার প্রধান কাজ।

 

কিভাবে ফ্রীল্যান্সিং শুরু করবেন?

অক্সফোর্ড এর রিসার্চ অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ২য় বৃহত্তম ফ্রীলান্সার সরবরাহকারী দেশ। এটিই বুঝিয়ে দিচ্ছে আমাদের তরুণ সমাজ ফ্রীল্যান্সিং সেক্টরে কাজ করতে আগ্রহী। শুধু তাই নয়, তারা ভালো ও করছে।

 

আর এর দেখা দেখি আরো অনেকেই আছেন যারা এখন ফ্রীল্যান্সিং করতে চাচ্ছেন। তবে সবাই আসলে ঠিক পরিষ্কার ধারনা রাখেন না কিভাবে শুরু করা উচিত। তাই অনেক সময় তারা ভুল পথে পরিচালিত হয়ে ব্যার্থ হয়। এই পোস্টে আমরা স্টেপ বাই স্টেপ প্রসেস নিয়ে আলোচনা করবো।

 

তবে একটা কথা শুরুতেই বলে নেয়া যেতে পারে যে ফ্রীল্যান্সিং খুব সহজ কিছু নয়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটি চাকরীর চাইতেও চ্যালেঞ্জিং, তবে এর সম্ভাবনা অনেক বড়।

 

১) সঠিক ইন্ডাস্ট্রি সিলেক্ট করা

যেহেতু সব পেশাতেই ফ্রীল্যান্সিং করা যায়, তাই এটি অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায়, কোন পেশাতে ফ্রীল্যান্সিং ক্যারিয়ার ডেভেলপ করা যায়। আমরা সবসময় শুনে থাকি, এমন কোথাও কাজ করা উচিত যেখানে শখ আছে।

 

আবার, মানুষের নানা রকমের শখ, ভাল লাগার জায়গা থাকে; কিন্তু সবকিছুর সমান মার্কেট ডিম্যান্ড থাকেনা। তাই আমরা যদি যাচাই করতে পারি, আমাদের ভাল লাগার জায়গাগুলোর মধ্যে কোনগুলোর চাহিদা আছে; তাহলে শখকে পেশায় পরিণত করার পথটুকু অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। বাংলাদেশে বসে, বিশ্বের বাজারে একজন ফ্রীল্যান্সার হিসেবে সার্ভিস দেয়ার জন্য অনেক রকমের কাজ রয়েছে, নিচে আমি বেশ কিছু ডিমান্ডিং কাজ এর নাম দিচ্ছি, যা আপনাকে ডিসিশন নিতে সহায়তা করবে।

 

  • ওয়েব ডেভেপলপমেন্ট
  • অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট
  • ওয়েব ডিজাইন
  • গ্রাফিক্স ডিজাইন
  • অনুবাদ, ভার্চুয়াল অ্যাসিসট্যানট
  • অ্যাকাউন্টিং ও ফিন্যান্স সাপোর্ট
  • কনটেন্ট রাইটিং
  • ভিডিও এডিটিং
  • ডিজিটাল মার্কেটিং
  • এসইও
  • এনিমেশন
  • ডাটা এন্ট্রি

 

২) কাজ শেখা এবং দক্ষতা অর্জনঃ

যে ক্ষেত্রেই কাজ করতে আগ্রহী হন না কেন, যদি দক্ষতার ঘাটতি থাকে তাহলে বুদ্ধিমানের কাজ হবে, কাজ শুরুর আগে নিজেকে প্রশিক্ষিত করে নেয়া।  ইন্টারনেটে মোটামুটি সব বিষয়েই পাবেন প্রচুর ফ্রি/ পেইড রিসোর্স।

 

ইউডেমি, ইউডাসিটি, স্কিলশেয়ার বা কোরসেরার মত বিশ্ববিখ্যাত প্লাটফর্মগুলোতে রয়েছে হাজারো টিউটোরিয়াল সহ অনলাইন মেন্টরশিপের সুবিধা । এছাড়া অফলাইনেও  বিভিন্ন নামীদামী ইন্সটিটিউটে এসব বিষয়ে ট্রেনিং, ডিপ্লোমা ইত্যাদি অফার করা হয়।

 আরো পড়ুন- Samsung galaxy M53 5G

দক্ষতা উন্নয়নের আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম হল ইন্টার্নশিপ। ইন্ডাস্ট্রি সংশ্লিষ্ট নামীদামী কোম্পানিতে ইন্টার্নি করার মাধ্যমে প্র্যাকটিকাল দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন সম্ভব।

 

৩) পোর্টফলিও তৈরি করা

কাজ শেখার পরের ধাপ হল পোর্টফলিও বানানো।  ফ্রিল্যান্সিং পেশায় সফল হওয়ার জন্য তথ্যসমৃদ্ধ, আকর্ষণীয় পোর্টফলিও তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনার দক্ষতা প্রমানের অন্যতম উপায়। এতে টেকনিক্যাল স্কিলের পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষন ইত্যাদির পাশাপাশি কাজের অভিজ্ঞতা ও নমুনার বিস্তারিত বিবরণ রাখতে হবে।

 

পোর্টফলিও আকর্ষণীয় করার জন্য প্রফেশনের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিনিয়ত এটিকে আপডেট রাখতে হবে। এর সাথে সাথে নতুন দক্ষতা তৈরিতে কাজ করে যেতে হবে।

 

নিজের একটি ওয়েবসাইট আপনার পোর্টফলিওর সবচে বড় প্লাস পয়েন্ট।  গুগলের ব্লগার, ওয়ার্ডপ্রেস, উইক্স বা উইব্লির সাহায্য আপনি সহজেই বিনামূল্য নিজের ওয়েবসাইট বানিয়ে নিতে নিতে পারেন।

 

এছাড়াও বিভিন্ন পেশার ক্ষেত্রে নানা রকমের বিশেষ পোর্টফলিও তৈরি করার ওয়েবসাইট থাকে। চাহিদামত এসব সাইটও আপনি ব্যবহার করতে পারেন। যেমন, গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে যারা কাজ করতে আগ্রহী, তারা বিহ্যানস প্লাটফর্মে পোর্টফলিও বানাতে পারেন।

 

৪) নেটওয়ার্ক এবং নেটওয়ার্কিং

ফ্রিল্যান্সিং এ আপনি গতানুগতিক চাকুরি করেন না বরং আপনাকেই আপনার দক্ষতা অনুযায়ী কাজ খুঁজে নিতে হয়। সঠিকভাবে নিজেকে উপস্থাপন করা আর কাজের জন্য পরিচিতি বাড়ানোর সবচে কার্যকরী মেথড হল নেটওয়ার্কিং।

 

ফ্রিল্যান্সিংএর যে শাখাতেই থাকুন না কেন নেটওয়ার্ক তৈরি গুরুত্বপূর্ণ। নেটওয়ার্ক তৈরির জনপ্রিয় পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে পেশাগত ফোরাম, সোশ্যাল মিডিয়া, প্রফেশনাল ইভেন্টে অংশগ্রহণ ইত্যাদি।

 আরো পড়ুন- ইসলামের প্রচারণায় সলিডারিটি গেমস

তবে পেশাগত নেটওয়ার্ক তৈরির সবচে ভাল উপায় হতে পারে ইন্টার্নশিপ, ভলান্টিয়ারি ওয়ার্ক ও বিভিন্ন ধরনের কম্পেটিশনে অংশ নেয়া।

 

৫) মার্কেটপ্লেস খুঁজে বের করা এবং কাজ শুরু করা

কি সার্ভিস দিতে চাচ্ছেন তা নির্দিষ্ট করার পরের ধাপ হল উপযুক্ত মার্কেটপ্লেস নিশ্চিত করা। অর্থাৎ আপনি যে সার্ভিস সেল করতে চান তার চাহিদা কোথায় বেশি, অনলাইনে কোন মাধ্যমে এ সংক্রান্ত কাজ বেশি পাওয়া যায় তা বের করতে হবে। মার্কেটপ্লেস মুলত ক্লায়েন্ট এবং সার্ভিস সেলার এর মধ্যে যোগাযোগের প্লাটফর্ম। ক্লায়েন্ট  তার চাহিদা অনুযায়ী কাজের বিবরণ এবং সম্ভাব্য বাজেট দিয়ে পোষ্ট করে এবং সেলার তার অভিজ্ঞতা, পারিশ্রমিক অনুযায়ী কাজে বিড করে।

মার্কেটপ্লেস ব্যবহারের অন্যতম সুবিধা হল নিয়মিত কাজ পাওয়া এবং সময়মত কাজের পেমেন্ট পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকা।

নবীন ফ্রীলান্সারদের জন্য সহজে কাজ পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হল এই মার্কেটপ্লেসগুলো।

 

কিছু মার্কেপ্লেস সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক

বর্তমানে অনলাইনে আপওয়ার্ক, ফিভার, পিপল-পার-হাওয়ার ইত্যাদিতে মোটামুটি সব ধরনের কাজ পাওয়া যায়।

ডিজিতাল মার্কেটিং থেকে সং রাইটিং, টেকনিক্যাল বা  সফট স্কিল, আপনার পছন্দমত কাজ এখান থেকে সহজেই খুঁজে পাবেন।

 

এগুলো ছাড়াও বিভিন্ন ক্যাটাগরি ভিত্তিক মারকেটপ্লেস রয়েছে। যেমন গ্রাফিক এবং ওয়েব এলেমেন্ট সংক্রান্ত কাজের জন্য এনভাটো, ফ্রিপিক অত্যন্ত জনপ্রিয়। ফটোগ্রাফির বিখ্যাত ওয়েবসাইট হল এডোব স্টক, শাটারস্টক, ভেক্টর ইমেজ ইত্যাদি।

 

এপিকিউরিয়াস বা ফুড.কম  টাইপের সাইটগুলোতে আপনি চাইলে কুকিং টিপস বা রেসিপি বিক্রির মত সার্ভিসও সেল করতে পারেন।

 

মার্কেটপ্লেসে এ্যাকাউন্ট করা

কোথায় কাজ করবেন তা ঠিক করার পরের ধাপ মার্কেটপ্লেসের নিয়মনীতি মেনে একাউন্ট খোলা। মোটামুটি সব মার্কেটেই একাউন্ট তৈরি করার পদ্ধতি একইরকম। প্রফেশনাল এবং প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে প্রদান এবং পোর্টফলিও সংযুক্ত করে একাউন্ট ওপেন করতে হবে। এক্ষেত্রে ভুয়া তথ্যর ব্যবহার এবং স্কিলের ফাঁকফোকর থাকলে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরুর আগেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

 

আবার নির্দিষ্ট কোন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে আবদ্ধ না থেকে ভাল হয় ভিন্ন ক্যাটাগরির একাধিক জায়গায় কাজের জন্য রেজিস্ট্রেশন করা।

 

রিসার্চ করা

একাউন্ট করার পর এবার পালা আপনার প্রোফাইলকে প্রফেশনালি গুছিয়ে নেয়া। এর জন্য সবচে সহজ উপায় হল অন্যরা কি করছে তা দেখা। অর্থাৎ, আপনি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করলে রিসার্চ করতে হবে অন্যান্য যারা ওয়েব নিয়ে সার্ভিস দিচ্ছে তারা ঠিক কি কি অফার করছে তা খুঁজে বের করা। এছাড়া তারা কি ধরণের টেকনোলোজি ব্যবহার করছে বা মার্কেটপ্লেসে কোন ধরণের স্কিলের চাহিদা বেশি এসব জানতে রিসার্চ দক্ষতার জুড়ি নাই।

 

সার্ভিসের মূল্য নির্ধারণ করা

আপনার ফ্রীলান্স সেবার মূল্য কত হবে তা ঠিক করার সিদ্ধান্ত আপনার। তবে এক্ষেত্রে বেশ কিছু বিবেচ্য বিষয় রয়েছে। মার্কেটে এই ধরণের সেবার গড় মূল্য যাচাই করে তবেই ঠিক করুন সার্ভিস চার্জ কিরকম হবে।

 

আবার আপনার দক্ষতাও মূল্য নির্ধারণের অন্যতম ক্রাইটেরিয়া। সাধারণত উচ্চমানের দক্ষতা থাকলে ন্যায্যমূল্য  সার্ভিস চার্জ ও বেশি হবে। আবার মিডিয়াম স্কিল হলে সেবার দামও কিছুটা কম পাওয়া যায়।

নতুন ফ্রীলান্সারদের জন্য প্রথমেই বাজারমূল্য সার্ভিস সেল করা কষ্টকর হলেও অন্যায্য মূল্য মেনে নেয়া উচিত নয়।

মার্কেটপ্লেসে বা অনলাইনের অন্য যে মাধ্যমেই আপনি কাজ করেন না কেন, পারিশ্রমিক নেয়ার জন্য পেমেন্ট গেটওয়ে ঠিক করা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বাংলাদেশে পেওনিয়ার, জুম, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, ট্রান্সফারওয়াইজ ইত্যাদি ব্যবহার করে সহজেই দেশের বাইরে থেকে টাকা আনা সম্ভব।

আবার বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসের ইন্টিগ্রেটেড পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করেও উপার্জিত টাকা উত্তোলন করা যায়।

উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাংক একাউন্ট থাকা প্রয়োজনীয়।

 

৬) ব্র্যান্ডিং এবং বিক্রয় দক্ষতা

ফ্রীলান্সিং এ যারা লম্বা সময় ধরে ভাল কাজ করছেন তাদের সবাই সেলফ ব্র্যান্ডিং এবং বিক্রয় দক্ষতা বাড়ানোর পেছনে জোড় দিয়েছেন।  ভাল করতে হলে ব্র্যান্ডিং এর কোন বিকল্প নাই। পারদর্শিতা থাকা সত্ত্বেও আপনার ক্যারিয়ার গ্রোথ আশানুরূপ হবেনা, যদি এ বিষয়ে আপনি দুর্বল হন।

 ব্র্যান্ডিং এর মূল পয়েন্ট হল, আপনি আসলেই কাজটা পারেন এবং আপনার দক্ষতা যে আন্তর্জাতিকমানের তা তুলে ধরা।

ফ্রীলান্সিংএ  সার্ভিস সেল করার দায়িত্ব আপনার নিজের। এক্ষেত্রে, কাজের বিশেষত্ব কি, কত দিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে, জটিল প্রজেক্টে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন কিনা, টেকনোলোজি ব্যবহারে পারদর্শীতা কেমন; ইত্যাদি বিষয়গুলো ক্লায়েন্টের কাছে কিভাবে প্রকাশ করছেন তা নির্দেশ করে আপনার সার্ভিস সেলিং স্কিল কতটা ভাল।

 

যোগাযোগ দক্ষতা

সফল ফ্রীলান্সার হওয়ার অন্যতম চাবিকাঠি হল সঠিকভাবে যোগাযোগের দক্ষতা। ফ্রীলান্সিং এর যে কোন কাজেই আপনাকে সরাসরি ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। ফলে যোগাযোগ দক্ষতা ভাল না হলে বিশেষ করে ইংরেজিতে ভাল না হলে ফ্রীলান্সিং ক্যারিয়ারে টিকে থাকা কষ্টকর। এক্ষেত্রে স্মার্ট হ্যাকস হল নিজেকে ইংরেজিতে দক্ষ করে তোলা। আর যদি আগে থেকেই দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে তা আরো উন্নত করা। কেননা সামান্য বানান ভুল ও ক্লায়েন্টের কাছে আপনার নেগেটিভ ইমেজ তৈরি করে।

 

শিডিউল মেনে চলা

ফ্রীলান্সিং বিজনেসে ধরাবাঁধা কাজের চাপ নাই একথা যেমন সত্যি আবার যেকোনো প্রজেক্টের কাজ ডেডলাইন মেনে  সময়মত ডেলিভার করার সক্ষমতার সাথে এ ক্যারিয়ারের সফলতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

 

স্মার্ট উপায় হল কাজের গুরুত্ত অনুযায়ী  শিডিউল তৈরি করে নেয়া। কাজের চাপ কম থাকলে শিডিউল কিছুটা শিথিল হতেই পারে। তবে আপনি শিডিউল অনুযায়ী উচ্চমানের কাজ ডেলিভারি দিতে চাইলে, সঠিক পরিকল্পনা মেনে চলা প্রয়োজন।

 

এর জন্য কোন কাজে কি পরিমান সময় লাগতে পারে তার সম্যক ধারনা রাখতে হবে। আবার কাজের চাপে নিজের ব্যক্তিগত জীবনে কি ধরনের প্রভাব পড়ছে তাও বিবেচনা করতে হবে। মূল বিষয় হল, সঠিক  সময়ে গুনগতমানের কাজ নিশ্চিত করাই যেন আপনার লক্ষ্য হয়।

 

নিজেই নিজের বস, ফ্রীলান্সিং দুনিয়ায় প্রায়ই এ চিত্তাকর্ষক কথা শোনা যায়। কর্পোরেশনের বস যেমন তার অর্গানাইজেশনের সফলতা, দুর্বলতা সম্পর্কে ধারনা রাখে, তেমনি একজন নবীন ফ্রীলান্সারকেও তার পেশাগত সক্ষমতা, দুর্বলতা সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা রাখতে হবে।

 

শত ভাগ পেশাদারিত্ব, আত্মবিশ্বাস আর দক্ষতা ফ্রীলান্সিং ক্যারিয়ারের সফলতার হাতিয়ার। আর ফ্রীলান্সিং এর মত স্মার্ট ক্যারিয়ারে ভাল করতে হলে সাধারণ পেশাজীবী নয় বরং একজন স্মার্ট প্রফেশনাল হতে জানতে হবে। হ্যাপি ফ্রীলান্সিং!! 

 

কোথায় আপনি ফ্রিল্যান্সিং কাজ পাবেন

 

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস শুনলেই আপওয়ার্ক এবং ফাইবারের নাম চলে আসে, এবং এ দুটিতেই বাংলাদেশি ফ্রীল্যান্সাররা খুব ভাল করছে। তবে এর বাইরে আর অনেক মার্কেটপ্লেস আছে যেখানে প্রচুর কাজের সুযোগ রয়েছে।

 

আজকের এই পোস্টে আমরা ১২ টি ভিন্ন মার্কেটপ্লেস নিয়ে কথা বলবো, যা আপনাকে আপনার ক্যারিয়ার ডেভেলপ করতে সহায়তা করবে।

 

আপনি যদি কখনো ফ্রিল্যান্সিং জব সার্চ করে থাকেন, তবে আপনি সম্ভবত জানেন যে কতটা ক্লান্তিকর কাজ এটি হতে পারে। তবে, আপনাদের মতো পেশাদারদের কাজ খুঁজতে সহায়তা করার জন্য বেশ কিছু ফ্রিল্যান্স ওয়েবসাইট রয়েছে। এই আর্টিকেলে, আমরা সেরা কিছু ফ্রিল্যান্স ওয়েবসাইটগুলির লিস্ট করব। আপনার জন্য কোন প্লাটফর্মটি বেস্ট হবে তা আপনি এটি পড়া শেষে বুঝতে পারবেন সেই আশা রাখছি।

 

১) আপওয়ার্ক (Upwork)

আপওয়ার্ক ফ্রিল্যান্স মার্কেট প্লেসে সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম গুলোরা মধ্যে একটা। আপওয়ার্কে মূলত ছোট বড় সব ধরনের প্রোজেক্ট পাওয়া যায়। এখানে একজন ফ্রীল্যান্সার দুই ধরনের প্রজেক্টে কাজ করতে পারে।

 

ফিক্সড প্রাইস

আওয়ারলি প্রাইস

তাদের নিজস্ব একটি টাইম ট্র্যাকিং ট্যুল রয়েছে। যার মাধ্যমে আপনি একটি কাজ করতে কতটুকু সময় লাগছে তা ট্রাক করতে পারবেন এবং ক্লায়েন্ট আপনাকে সেই সময়ের বিপরীতে পেমেন্ট করবে।

 

আপোয়ার্কে জবে এপ্লাই করতে হলে আপনাকে টাকা খরচ করে কানেক্ট কিনতে হবে। এখানে ফ্রিতে জবে এপ্লাই করা যায় না।

 আরো পড়ুন- Karagar (কারাগার) 2022 Web Series

আপওয়ার্ক বেশ কিছু টুল প্রোভাইড করে থাকে যেগুলো ব্যবহার করে আপনি আপনার ফ্রিল্যান্স যাত্রা শুরু করতে পারবেন। আপনি অনেক বিখ্যাত ক্লায়েন্ট যেমন মাইক্রোসফ্ট, এয়ারবিএনবি, ড্রপবক্স এরকম প্রতিষ্ঠান এর জন্যও কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন।

 

যে কেউ তাদের চাকরিতে ফ্লেক্সিবিলিটি পাবার আশায় থাকলে তাদের অবশ্যই এই ফ্রিল্যান্স ওয়েবসাইটটি চেক করা উচিত।

 

২) ফাইবার (Fiverr)

ছোট ছোট কাজ সেল করার জন্য ফাইবার খুবই ভাল একটি প্লাটফর্ম। এখানে প্রচুর ক্রেতা রয়েছে। আপনি যেই সার্ভিস টা বিক্রি করতে চান তা আপনাকে একটি গিগ আকারে এই মার্কেটপ্লেসে তুলতে হবে।

 

এখানে ভাল করতে হলে আপনার গিগটিকে সুন্দর করে সাজাতে হবে, অপ্টিমাইজ করতে হবে, কোন ক্লায়েন্ট যদি আপনাকে কিছু জানতে চেয়ে মেসেজ করে খুব দ্রুত রিপ্লাই দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। এতে আপনার রেসপন্স রেট বাড়বে যা আপনার কাজ পাবার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিবে।

এছাড়া আপনার আগের কাজের ফিডব্যাক আপনাকে নতুন কাজ পেতে সহায়তা করবে। ফাইবার আপনার প্রতি অর্ডার থেকে ২০% কেটে নিবে তাদের ফী হিসেবে।

 

ফাইভারের একটি ফ্রি কোর্স আছে যা আপনাকে আপনার স্কিল ডেভেলপ করতে এবং ক্লায়েন্টদের সঠিক উপায়ে পিচ করতে সহায়তা করবে।

 

৩) টপটাল (Toptal)

টপটাল একটি ফ্রিল্যান্স ওয়েবসাইট যা কোম্পানিদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয় যে তারা গ্লোবালি শীর্ষস্থানীয় ৩% ফ্রিল্যান্সারদের নিয়োগ করতে পারে। টপটালে এক্সপিরিয়েন্সড ফ্রিল্যান্সারদের হায়ার করা হয়, যেখানে তারা প্রতি ঘন্টায় $৫০-$২৫০(USD) আয় করে থাকে।আপনি যদি নিজের স্কিল বৃদ্ধিতে যথেষ্ট পরিশ্রম করেন, তবে অবশ্যই আপনি তাদের একজন হতে পারেন।

 

৪) সিমপ্লি হায়ারড(Simply Hired)

সিম্পি হায়ার্ড এর বেস্ট জিনিসগুলির মধ্যে একটি হল আপনি নিজের কাছের লোকেশনে ফ্রিল্যান্স কাজগুলি ব্রাউজ করতে পারেন। আপনি টপ বেতনের একটি লিস্ট তৈরি করতে এবং আপনার ফি কেমন হবে তা জানতে এর কিছু টুল রয়েছে যা আপনি ব্যবহার করতে পারবেন। আপনি তাদের ওয়েবসাইট থেকে রিসিউমে(resume) তৈরি করতে পারবেন। তাদের ব্লগের অনেক ম্যাটেরিয়াল আছে যেগুলো থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবেন।

 

৫) পিপল পার আউয়ার (People Per Hour)

এই ফ্রিল্যান্স ওয়েবসাইটে ১.৫ মিলিয়নেরও বেশি ফ্রিল্যান্সার রয়েছে যা তাদের সার্ভিস ব্যবহার করে। প্রতিটি ওয়ার্কারদের(worker) কাজের বেসিসে একটি রেটিং থাকে। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এটি বিনামূল্যে সার্ভিস দিয়ে থাকে, তবে এখানে কম্পিটিশন খুব চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।

 

৬) গুরু (Guru)

এখানে চিপ জবের লিস্টিং খুব কম পাবেন, ফ্রিল্যান্সারদের বিশেষজ্ঞ গ্রুপকে (Group) আকর্ষণ করার জন্য এই সাইটটি ডিজাইন করা হয়েছে।

 

৭) ক্রাউডেড (Crowded)

ক্রাউডেড তাদের এআই-চালিত নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে গর্ব করে যা কোম্পানিগুলির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত এপ্লাইকারীদের খুঁজে নেয়। এই ফ্রিল্যান্স ওয়েবসাইটটি প্রত্যেককে তাদের প্রাইস, অভিজ্ঞতা এবং স্কিল এর ভিত্তিতে র‍্যাংঙ্ক করে থাকে। এপ্লাইকারীদের ম্যানুয়ালি প্রত্যেক জব ওপেনিং এ এপ্লাই করতে হয় না। তাদের সিস্টেমেটিক অ্যালগরিদম এই কাজটি করে দেয়। শুধু নিয়োগ দাতার কলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আপনাকে।

 

৮) নাইন্টি-নাইন-ডিসাইন্স (99designs)

এই ফ্রিল্যান্স ওয়েবসাইটটি ডিজাইনিং কাজের উপর বেশি ফোকাস করে থাকে লোগো থেকে বুক কভার পর্যন্ত সমস্ত কাজ। সুতরাং আপনার যদি ডিসাইনিং এর প্রতি ঝোঁক থেকে থাকে, তাহলে এই সাইটটি আপনার জন্য। এটি ক্লায়েন্টদের এমন একটি প্রতিযোগিতা শুরু করার অনুমতি দেয় যা 99 ডিজাইনের প্রত্যেকে অংশ নিতে পারে। বিনা খরচে, আপনি নিজের কাজটি দেখানোর জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম পাচ্ছেন এবং আপনার ক্রিয়েটিভ জ্ঞানকে ইম্প্রুভ (Improve) করার জন্য তাদের আর্টিকেল গুলো দেখতে পারেন।

 

৯) নেক্সট (Nexxt)

নেক্সট জব সার্চকে চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছেঃ ক্যারিয়ার ফোকাস, লোকাল ফোকাস, ডাইভারসিটি (Diversity) ফোকাস এবং গ্লোবাল ফোকাস। এছাড়া ও এই ফ্রিল্যান্স ওয়েবসাইটটি থেকে আপনি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্স কাজের চেষ্টা করতে পারবেন যা আপনার ক্যারিয়ারের লাইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

 

১০) রাইটার এক্সসেস (Writer Access)

আপনি যদি ফ্রিল্যান্স রাইটার হতে চান তবে রাইটার এক্সসেস সেরা প্ল্যাটফর্ম। এটিতে অনলাইন আর্টিকেল, কেস স্টাডি, টেক রিলেটেড পেপার ইত্যাদি সহ সব ধরণের লেখার কাজ রয়েছে। এই ফ্রিল্যান্স ওয়েবসাইটটির অনেক টুল যেমনঃ কনটেন্ট এনালাইটিক্স, কীওয়ার্ড অপ্টিমাইজেশন এবং কনটেন্ট প্ল্যানার আছে যেগুলো আরও কাজ দক্ষতার সাথে শেষ করতে সহায়তা করে থাকে।

 

১১) টাস্ক র‍্যাবিট (Taskrabbit)

সমস্ত ফ্রিল্যান্সিং কাজ ডিজিটাল হয় না। টাস্ক র‍্যাবিট হল একটি ফ্রিল্যান্স ওয়েবসাইট যা বাড়ির কাজের উপর ফোকাস করে থাকে। সেগুলি ফার্নিচার সাজানো, মুভিং এবং প্যাকিং, প্লাম্বিং বা অন্য যে কোনও কিছু হতে পারে আপনি এসব টাস্ক র‍্যাবিট খুঁজে পেতে পারেন।

 

১২) ফ্লেক্সজবস ( Flexjobs)

ফ্লেক্সজবস কেবল ফ্রিল্যান্স কাজের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রোভাইড করে না, তবে সবাইকে এরা ক্যারিয়ারের পথ খুঁজে নিতে উৎসাহিত করে। প্রতি মাসে ১৪.৯৫ ডলারে খরচে, আপনি জব প্রোভাইডারদের নেটওয়ার্ক, বিভিন্ন স্কিল সেট এবং প্রতিটি কোম্পানির ডিটেইল ডেসক্রিপশন এর সম্পূর্ণ অ্যাক্সেস পাবেন।

 

এছাড়া আরও বেশ কিছু পপুলার ফ্রিল্যান্স সাইট রয়েছে যেগুলো থেকে ও উপার্জন করা সম্ভব। ফ্রিল্যান্সার হওয়ার অর্থই কিন্তু হচ্ছে আপনি কখন এবং কোথায় কাজ করবেন তা বুঝে নিতে পারবেন এবং একইসাথে আপনার পরবর্তী কাজটি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার আরও ফ্লেক্সিবিলিটি থাকবে। তাই আপনি যে রকম কাজ করতে আগ্রহ বোধ করবেন সেটি যাতে অনায়াসে করে যেতে পারেন তার জন্য সঠিক প্ল্যাটফর্ম চেনাটা আপনার জরুরী। আর উপরের এই ইনফো গুলো আপনাকে আপনার পছন্দের প্লাটফর্ম বেছে নিতে সহায়তা করবে আশা করি।


শুরুতেই আপনার কাজের ক্ষেত্র নির্ধারণ করুন

কভার লেটার লিখতে বসার আগে চিন্তা করুন আপনি কোন কাজটিতে পারদর্শী। যে কাজটি আপনি ভালো পারেনফ্রিল্যান্সিং ফিল্ড হিসেবে সেটিকেই বেছে নিন। উদাহরণ স্বরূপআপনি যদি ওয়েব ডিজাইনিং এ পারদর্শী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার কভার লেটারের মাধ্যমে একজন দক্ষ ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে বিনিয়োগকারির সামনে নিজেকে তুলে ধরুন। আর যদি আপনি একটির বেশি কাজে পারদর্শী হোন তবে একাধিক কভার লেটার লেখার মানসিকতা রাখতে। প্রতিটি কভার লেটারই যেন আপনার নির্দিষ্ট যোগ্যতাকে যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারে এটি নিশ্চিত করন। তবে এক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট কভার লেটার নির্ধারণ করুনআপনার সব বিষয়ের পারদর্শিতা একটি লেটারে অন্তর্ভুক্ত করলে তা বিনিয়োগকারীকে বিভ্রান্ত ও অনাগ্রহী করে তুলবে। প্রতিটি কভার লেটারে আপনি ঠিক কোন কাজটিতে আগ্রহী ও পারদর্শী শুধুমাত্র তা নিয়েই আলচনা করুন। বিনিয়গকারী আপনার  কাজে সন্তুষ্ট হলে আপনার অন্যান্য যোগ্যতা অনুযায়ী পরবর্তী কাজের জন্য আপনাকেই বেছে নিবে। মনে রাখবেনএকটি কভার লেটারে আপনি জ্যাক অফ অল ট্রেডস হতে চান নামাস্টার অফ ওয়ান হতে চান।  মনে রাখবেনআপনি কতটুকু দক্ষ সেটি আপনার কভার লেটারের মধ্য দিতেই প্রকাশিত হবে। কাজেই চেষ্টা করুন আপনার প্রতিভা আপনার কভার লেটারের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে।


কিভাবে আপনি ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট হবেন

বর্তমান যুগে ফ্রিল্যান্স জার্নালিসম একটি কন্টিনিউয়াস যুদ্ধের মত। এখানে আপনাকে ভাল আইডিয়া (idea) নিয়ে আসতে হবে, সেই আইডিয়া গুলোকে সঠিক জায়গায় পিচ করতে হবে। সেই পিচের সফলতার উপর আপনাকে প্রজেক্ট পেতে হবে যেটি একইসাথে ভাল পে করে থাকে এবং ভবিষ্যতে আর ও নতুন প্রজেক্ট/এসাইনমেন্ট এ অপরচুনিটি এনে দিবে। 

অনেক জার্নালিস্ট তাদের ক্যারিয়ারের এক পর্যায়ে ফ্রিল্যান্সিং এর দিকে ঝুঁকে থাকেন। আবার অনেকে কলেজ থেকে পাস করে নতুন কিছুর আশায় এই লাইনে ইন্টারেস্টেড দেখায়। কিন্তু মেজর কেসে দেখা যায়, প্রায় সকলেই ক্যারিয়ারের ফ্লেক্সিবিলিটির চিন্তা করে থাকে যেটা তাদের ফ্রিল্যান্সিং প্রোভাইড করতে পারবে।

ফ্রিল্যান্সিং এ যেমন বেশ কিছু ডাউনসাইড রয়েছে যেমনঃ ইন-স্ট্যাবিলিটি, পেমেন্ট ক্লিয়ার হতে মাস দুয়েক অপেক্ষা করা তেমনি ভাবে এর কিছু ভাল দিক ও রয়েছে। সবচেয়ে ভাল দিক হচ্ছে আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং অনেক ফ্রিডম এনে দিবে যেখানে আপনার হাতেই সব কন্ট্রোল থাকবে।

এমন অপরচুনিটি তাই এখন সবাইকে লুফে নিতে দেখা যায়। এর উপর ফ্রিল্যান্সিং জার্নালিসম খুব ইউনিক একটি প্রস্পেক্ট। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সারদের ভীড়ে জার্নালিসম করার সুযোগ খুঁজে পাওয়া এবং তা কাজে লাগানোটা খুব কম্পিটেটিভ। তাই আজকে আপনাদের জন্য কিছু টিপস শেয়ার করবো।  

 

১) নেটওয়ার্ক বিল্ড করুন

অনেকেই তাদের ফ্রিল্যান্সিং এর প্রথম কাজ পারসোনাল কনটাক্ট এর মাধ্যমে পেয়ে থাকে। পরবর্তীতে দেখা যায়, তার ঐ চেনা পরিচত লোক আর ও এক লোকের সাথে পরিচয় করিয়ে আরেকটি কাজ পাইয়ে দিচ্ছে। শুরুর দিকে এভাবে প্রায় অনেকে বিভিন্ন কাজে যুক্ত হয়ে যায়। অলমোস্ট অনেকের ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের শুরুটা কেন যেন মিলে যায়! এর উওর জানেন? নেটওয়ার্কিং!

আরো পড়ুন- Shutter Island 2010 Download

হ্যাঁ, নেটওয়ার্কিং। এগুলো বলার মোটিভ হচ্ছে আপনার ফ্রিল্যান্সিং এ ভাল করতে হলে নেটওয়ার্কিং করে যেতে হবে। এটি ছাড়া কোন বিকল্প নেই। বর্তমানে ফেসবুক, টুইটারের সহজলভ্যতার কারনে অনেক ইনফরমেশন আপনার কাছে চলে আসছে যা পূর্বে এক্টু ডিফিকাল্ট ছিল। আপনাকে কো-ফ্রিল্যান্সারদের সাথে এড হতে হবে। তারা কি করছে তা জানতে হবে। যেটি আপনার অনেক কনফিউশান ক্লিয়ার করবে। অন্য ফ্রিল্যান্সারদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন কেননা তাদের সাথে থেকে ও আপনি কোন এক প্রজেক্টে যুক্ত হতে পারবেন।

 

২) পটেনশিয়াল পাবলিকেশন এবং তাদের এডিটর সম্পর্কে রিসার্চ করুন

পিচ করার আগে প্রথমত আপনি কোন নিউজপেপার, ম্যাগাজিন অথবা কোন ওয়েবসাইট কি কি টপিক নিয়ে পাবলিশ হয় এ নিয়ে স্টাডি করে নিতে পারেন। তারা কিভাবে লিখছে বা কি স্টাইল ফলো করছে এ সম্পর্কে ধারনা নিতে পারেন। এগুলো নিয়ে স্টাডি করলে আপনি অটোমেটিকেলি অনেক রিলেটেড প্রশ্নের এন্সার পেয়ে যাবেন। যেমনঃ অনেক পপুলার ম্যাগাজিন গ্রামের লোকদের নিয়ে স্টোরি ফিচার করবে না। আপনি একটু মাথা খাটালেই তারা কি ধরনের পোস্ট পাবলিশড করে থাকে তা বুঝতে পারবেন। 

 

পার্টিকুলারলি, আপনি সেসব পাবলিকেশনদের লিস্ট করবেন যাদের আর্টিকেল গুলো আপনি পড়তে ভালোবাসেন। অনলাইনে তাদের সাবমিশন গাইডলাইন খুঁজুন। তাদের এভাবে না পেয়ে থাকলে তাদের এডিটরকে মেইল পাঠিয়ে জিজ্ঞাসা করতে পারেন তারা কিভাবে পিচ পেতে প্রেফার করবে।

 

৩)  বিভিন্ন জার্নালিস্টরা যেসব টপিক/সাবজেক্ট মিস করেছে সেগুলো নিয়ে কাজ করুন

যখন আপনার বিভিন্ন এডিটরদের সাথে রিলেশন বিল্ড হচ্ছে, চেষ্টা করেন যাতে তারা আপনার এক্সপারটিজ এরিয়া সম্পর্কে জানে। এতে করে তাদের কাছে যখন প্রজেক্টের কাজ আসবে যেগুলো আপনার নলেজ/এক্সপারটিজ এর আন্ডারে পড়বে, তখন তারা আপনাকে কল করতে পারবে। এজন্য আপনি আপনার পচ্ছন্দের টপিক/ নিস নিয়ে পিচ করতে পারেন যেই স্টোরিগুলো অন্যান্য পাবলিকেশন থেকে কখনো পাবলিশড হয় নি।

 

৪) অনলাইন পোর্টফলিও তৈরি করুন

একটি ভাল ওয়েবসাইট যেটি দেখাচ্ছে আপনি কে এবং আপনি কি কাজ করছেন তা আপনার ফ্রিল্যান্সিং কাজ ল্যান্ড করার জন্য ইন-ভ্যলুয়েবল হতে পারে। ওয়েবসাইটটি আপনার পোর্টফলিও হিসেবে কাজ করতে পারে যেখানে আপনার বেস্ট রাইটিং স্যামপল এবং আপনি যে টপিক গুলো কাভার করেছেন তার ডেমো থাকবে।

 

যদি ও ফ্রিল্যান্সিং এর অনেক কাজ কানেকশন এর মাধ্যমেই এসে থাকে, তারপর ও দেখা যায় অনেক এডিটর নতুন রাইটারদের সাইট ঘুরে দেখে নতুন অপরচুনিটি নেওয়ার জন্য।

 

৫) স্কিল ডেভেলপ করুন

 বাকি সবগুলো কাজ প্যারালাল করার সাথে সাথে আপনার রেগুলারলি নিজের স্কিল পোর্ট করা নিয়ে কাজ করা যেতে হবে। যে কাজগুলো আপনাকে প্রতিনিয়ত করে যেতে হবে তা হচ্ছেঃ

 

প্রচুর পড়তে হবেঃ বিভিন্ন রকমের ম্যাগাজিন কালেকশনে রাখতে হবে। যেই রকমের ম্যাগাজিন আপনি পড়েন সেগুলো তো থাকবেই বরং আপনি যেগুলো রেয়ারলি পড়ে থাকেন, সেগুলো ও পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখবেন, আপনার নলেজ যত প্রখর হবে, কাজ পাবার সম্ভাবনা আপনার তত বেড়ে যাবে।

কৌতূহল বাড়াতে হবেঃ জার্নালিসমে আপনার জানার প্রচুর ইচ্ছা থাকতে হবে। এই একটি গুন আপনার ফ্রিল্যান্স ক্যারিয়ারে অনেক সাহায্য করবে।

ডেইলি লিখা কন্টিনিউ করে যেতে হবেঃ প্রতিদিন আপনাকে ১০০০-২০০০ ওয়ার্ড লিখার অভ্যাস থাকতে হবে। টাইপিং আপনার জন্য কোন ইস্যু হবে না যদি আপনার জানা থাকে আপনি কি মেসেজ/ ইনফো শেয়ার করতে চাচ্ছেন। এমন ও হতে পারে, আপনি টাইপিং এ দক্ষ না, কিন্তু তারপর ও ২০০০ ওয়ার্ডের কনটেন্ট লিখতে আপনার মাত্র ৩০ মিনিট/ ঘন্টাখানেক সময় লাগতে পারে। শুধুমাত্র আপনার কন্টেন্ট রিলেটেড রিসার্চ করতে টাইম লেগে যাবে।

গল্প বলা শিখতে হবেঃ সাসপেন্স ধরে রাখা এবং স্টোরি বলে যাওয়া আপনার রিডারদের আকৃষ্ট করার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্টেপ। এটি জার্নালিসমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্রাফট ও বটে। এটি আয়ত্ত করার জন্য আপনাকে লিখার মধ্যে থাকতে হবে।

জার্নালিসম নিয়ে ফিল্ম দেখুনঃ জার্নালিসম রিলেটেড মুভি দেখে থাকলে অনেক ইনফরমেশন পাবেন যেটি রিয়েল লাইফ এ আপনি কানেক্ট করতে পারবেন।  

ক্লাসেস এটেন্ড করাঃ আপনি প্রফেশনাল ক্লাসেস এটেন্ড করতে পারেন, সেখানে জয়েন করে অনেকের সাথে পরিচয় হবে এবং কিছু শিখতে ও পারবেন। কিন্তু এর পিছনে বেশী খরচ করা ও যুক্তিযুক্ত হবে না। তাই ভেবে শুনে ডিসিশন নিবেন যেটি আপনার ক্যারিয়ারে বেনিফিট আনবে।

 

কিভাবে আপনি নিজের ফ্রিল্যান্সিং এজেন্সি শুরু করবেন

আপনি একবার ফ্রিল্যান্সিং এ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে এবং সেখানে স্যাটেলড হয়ে গেলে, আপনার পরবর্তী স্টেপ নিয়ে ভাবা উচিত। যেটি হচ্ছে আপনার নিজের বিজনেস এজেন্সি স্টার্ট করা। কিন্তু আপনার এটা মাথায় রাখতে হবে যে ফ্রিল্যান্সিং করা এবং নিজের এজেন্সি চালানো পুরোপুরি ভিন্ন বিষয়।

 

আপনাকে বিজনেস স্টার্ট করার জন্য অনেক এডজাস্টমেন্ট আনতে হবে। কিছু কিছু বিষয় আপনার শুরু থেকেই ক্লিয়ার রাখতে হবে। আপনি নেক্সট কোন ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করবেন, কি ধরনের প্রজেক্ট বা সার্ভিস প্রোভাইড করতে চাচ্ছেন সেগুলো গুছাতে হবে। এছাড়া নিজের শিডিউল ঠিক রাখা, টিম অরগানাইজড করে রাখা এসব ছোট ছোট জিনিস ও আপনাকে সেট করে রাখতে হবে।

 

এজেন্সি স্টার্ট করার মানে হচ্ছে শুধুমাত্র আপনি নিজের ভবিষ্যৎ এর দায়িত্বে না বরং বাকি সবার দায়িত্ব আপনার উপর বর্তাবে। সুতরাং, এরকম ডিসিশন নেওয়ার আগে আপনাকে ১০০% শিউর হতে হবে। তাই আমি বলবো কোন ডিসিশনে যাওয়ার আগে, কিছু কিছু বিষয় আপনার কন্সিডারেশনে রাখা উচিত। এখন যারা ডিসিশন নিয়ে ফেলেছেন, কিন্তু কিভাবে শুরু করবেন তা নিয়ে সন্দিহান; আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য উপকারী হতে পারে। চলুন জেনে আসি সেই স্টেপ গুলো।

 

১) এজেন্সি রান করার মত অরগানাইজেশনাল স্কিল বিল্ড করুন

আপনার এজেন্সি স্টার্ট করার আগে ভাবতে হবে আপনি আসলেই এটি চাচ্ছেন কিনা! আপনাকে প্রচুর ক্রিয়েটিভ স্টাফের দিকে খেয়াল রাখতে হবে; টিম কমিউনিকেশন ঠিক রাখা, টিম প্রপারলি হ্যান্ডেল করা এসব কিছু আপনাকে নিশ্চিন্ত করতে হবে।এজেন্সির ওনার (Owner) হিসেবে আপনাকে এডমিনিস্ট্রেটিভ কাজের উপর বেশী প্রায়োরিটি দেওয়া উচিত। আপনাকে বিজনেস ডেভেলপমেন্টের সাথে সাথে প্রজেক্ট হ্যান্ডলিং ও করে যেতে হবে। যেহেতু, এজেন্সি স্টার্ট করেছেন তাই আপনার রেসপন্সিবিলিটি ও বেশী থাকবে। তাই বেসিক অরগানাইজেশনাল স্কিল বিল্ড করে যেতে হবে। আপনাকে এ স্কিল রপ্ত করার পিছনে টাইম দিয়ে যেতে হবে কেননা, আপনার এজেন্সির ওনার (Owner) হিসেবে এটি একটি মাস্ট হ্যাভ স্কিল। তাই এজেন্সি শুরু করার আগে এসব বিষয় মাথায় আনতে হবে এবং ডিসাইড করা উচিত আপনি আসলেই এজেন্সি ম্যাটারিয়াল কিনা।

 

২) বড় বিজনেসগুলো কিভাবে রান করে তা জানতে হবে

ইন্ডিভিজুয়াল ফ্রিল্যান্সিং এ আপনার এজেন্সি রান করার মত এক্সপারটিজ না থাকলেও চলে। আপনার নিজস্ব এজেন্সি রান করানোর জন্য ওয়ার্ক লেভেল এবং প্রফেশনালিজম বেশী দরকার পড়বে। এছাড়া ফ্রিল্যান্সার হিসেবে, আপনি খুব কম মানুষদের সাথে ইন্টারনালি লিঙ্কড হবেন যেখানে এজেন্সিতে আপনার আন্ডারে অনেক লোক কাজ করবে এবং তাদের রেসপন্সিবিলিটি ও আপনার উপর থাকবে।

 

বড় বিজনেসগুলোত যখন অন্যান্য ফ্রিল্যান্সারদের হায়ার করা হয় তখন তাদের এমপ্লয়ি হিসেবে না কন্ট্রাক্টর হিসেবে নিবেন তা আগে থেকেই ডিসাইড করে নেওয়া হয়। এরপর তাদের মান্থলি পে করা হবে না প্রজেক্ট বেসড কন্ট্রাক্ট হবে তাও আগে থেকে ডিসাইড করে নেওয়া হয়। বিজনেস রিলেটেড ডিসিশন কিভাবে নেওয়া হচ্ছে, কিভাবে তারা তাদের বিজনেস স্টার্ট করেছে, এখন কি কি ট্রেন্ড চলছে সেগুলো নিয়ে আপনার একটু রিসার্চ করে নিতে হবে।

 

৩) আপনি কি সার্ভিস প্রোভাইড করবেন তা ডিসাইড করুন

ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনার দুই একটি স্কিল থাকবে যেগুলোতে আপনি ভাল করে আসছেন। আপনি সেই সার্ভিস গুলো নিয়ে ক্লায়েন্ট এ্যাপ্রোচ করলে ভাল রেসাল্ট পাবেন আশা করা যায়। আপনি যদি কনফিউজড থেকে থাকেন কি সার্ভিস প্রোভাইড করবেন, তাহলে আপনি আপনার আগের কমপ্লিটেড প্রজেক্ট গুলো থেকে আইডিয়া নিতে পারেন। একবার ডিসাইড করা হয়ে গেলে, সেই সার্ভিস নিয়ে আপনি মার্কেটিং স্টার্ট করে দিতে পারেন। আপনি যদি শুরুতেই আনওয়ান্টেড সার্ভিস গুলোর মার্কেটিং করেন, তবে আপনার বিজনেস এক বড় রকমের ধাক্কা খাবে। তাই আপনার এবং আপনার টিমের স্ট্রেন্থ জোন গুলোর উপর ফোকাস করেন। দেখবেন আপনি ক্লায়েন্ট ইজিলি পেয়ে যাচ্ছেন এবং এজেন্সি ও এতে বুস্ট পাচ্ছে।

 

৪) এডভাইসর এবং মেন্টরদের সাজেশন নিন

এজেন্সি স্টার্ট করা একটি নতুন এডভেঞ্চার হবে আপনার জন্য এবং সেই এডভেঞ্চার এ সফলতা পেতে হলে আপনার সেসকল মানুষদের কাউন্সেলিং নেওয়া উচিত যারা ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক দিন ধরে আছেন। আপনার যদি তার সাথে ডাইরেক্ট কমিউনিকেশন করা পসিবল না হয় তবে আপনি বিভিন্ন বিজনেস রিলেটেড বুক দেখে নিতে পারেন যেখানে আপনার প্রবলেম/ ইস্যু গুলোর সলিউশন দেওয়া হয়েছে। একটা মেন্টর আপনার কন্টাক্ট লিস্টে থাকা মানে হচ্ছে আপনার এজেন্সি সাকসেসফুল হওয়ার পসিবিলিটি বাড়ানো। তারা আপনাকে স্ট্র্যাটেজি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারবে; কোনগুলো তাদের কাজ করেছে, কোন গুলো করেনি। আবার তারা কি কি মিস্টেক করেছেন যে গুলো আপনি এভয়েড করতে পারেন সেটি ও আপনি জানতে পারবেন। এ সকল যাবতীয় জ্ঞান আপনি তাদের থেকে পাচ্ছেন।

 

এছাড়া আপনি তাদের সোশ্যাল মিডিয়া তে ফলো করে রাখবেন এবং তাদের বুক, ব্লগ রেগুলারলি ভিসিট করবেন। বিজনেস মেন্টর ছাড়া ও আপনার একাউন্টেন্ট এবং লইয়ার লাগবে যারা আপনাকে ফিনান্সিয়াল এবং লিগ্যাল ম্যাটার গুলোতে সাহায্য করবে। তাদের ছাড়া আপনি অনেক রকম কস্টলি মিস্টেক করতে পারেন। তাই তাদের সাথে রেগুলার কমিউনিকেশন মেইন্টেইন করে রাখতে হবে।

 

৫) ওয়ার্ক ফ্লো মেইন্টেইন করুন

ফ্রিল্যান্সিং থেকে এজেন্সি তে শিফট হওয়ার পর আপনাকে কিছু ট্রান্জিশনের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে প্রপার ওয়ার্ক শিডিউল মেইন্টেইন করা। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনি হয়তো রুটিন সেভাবে ফলো করেননি অথবা, রুটিন লিখে রাখেন নাই। আপনি তখন হয়তো এভাবে করে সফলতা পেয়ে আসছেন, কিন্তু এজেন্সি রান করে যেতে হলে সেইম প্রসেস ফলো করলে আপনাকে স্ট্র্যাগল করতে হবে।

 

তাই শুরুতে আপনাকে প্রতিটি প্রজেক্টের ওয়ার্ক ফ্লো ঠিক করে নোট ডাউন করতে হবে। যখন আপনার এটি করা শেষ হবে, আপনি বেশ কিছু জায়গাতে আইডেন্টিফাই করতে পারবেন যেগুলো প্রপারলি হ্যান্ডেল করা লাগবে। তখন আপনি অন্যদেরকে এসব জায়গাতে এসাইনমেন্ট করতে পারবেন। এটি বেশ কিছু কাজের জন্য কন্টিনিউয়াস এবং রিপিটেবল প্রসেস হবে যা একবার সেট করে ফেললে পরবর্তীতে আর কষ্ট করা লাগবে না। এরকম ভাবে কাজ করলে আপনার এবং আপনার টিমের ইফিসিয়েন্সি বাড়াতে সাহায্য করবে।

 

রাতারাতি ফ্রিল্যান্সার থেকে এজেন্সি স্টার্ট করার ডিসিশন নিবেন না। টাইম নিয়ে দেখুন আপনি আপনার প্রজেক্ট গুলো মেইন্টেইন করতে পারছেন কিনা বা আপনার জন্য অভারলোড হয়ে যাচ্ছে কিনা। শুরুতে ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট নিয়ে ট্রাই করে দেখতে পারেন যে আপনাকে নন-ক্লায়েন্ট টাস্ক গুলোতে সাহায্য করবে। এরপর তাকে নিয়ে প্ল্যান সাকসেসফুল হলে ধীরে ধীরে টিম বড় করার ডিসিশন নিতে পারেন। ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট শুরুতে আপনার জন্য অনেক কস্ট ইফেক্টিভ হবে এবং অপরদিকে আপনার প্রজেক্ট ও সুন্দরভাবে ম্যানেজ হয়ে যাবে। এভাবে শুরুতে ছোট ছোট স্টেপ নিয়ে কাজ গুলো করে যেতে পারেন এবং যখন সবকিছু আপনার পক্ষে থাকবে তখন প্ল্যান অনুযায়ী টিম বড় করবেন।

 

যেভাবে হবেন ফ্রিল্যান্স রাইটার

 

আপনি কি একজন ফ্রিল্যান্স রাইটার হওয়ার কথা ভাবছেন? আপনি কি ওয়ার্ড প্লে করতে ভালোবাসেন? অথবা রাইটিং দিয়ে আপনি আপনার দিনের কাজের বাইরে কিছু এক্সট্রা আয় করতে চাচ্ছেন? কারন যা কিছুই হয়ে থাকুক না কেনো, আপনার যদি লেখার প্রতি আগ্রহ থেকে থাকে তাহলে কোথা থেকে বা কি প্রসেস ফলো করে আগাতে হবে তা আপনার রিসার্চ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। 

 

রাইটার হওয়ার অর্থ হচ্ছে  আপনার আর্ট ক্রমাগত বিকাশ পেতে থাকবে। কেউ শুরুতেই কোন কিছতে মাস্টারি অর্জন করে নেয় না। আপনি ধীরে ধীরে অনেক নতুন জিনিস আবিষ্কার করবেন। লেখা গুলোকে পরিমার্জিত করতে শিখে যাবেন এবং অবশেষে আপনি সকলের ভয়েস হিসেবে নিজের লেখাকে প্রতিষ্ঠিত করে নিতে পারবেন। সেই পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাতে আপনার সেরকম অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিতে হবে।

 

আপনার রাইটিং স্কিল ডেভেলপ যখন হবে তখন আপনি আপনার আইডিয়া গুলো আর ও দ্রুত উপস্থাপন করতে পারবেন। তখন একবারে এক শব্দে আটকে না থেকে আপনার আঙ্গুলগুলো বিদ্যুৎ গতিতে চলবে যা আপনি বলতে চাচ্ছেন আপনার দর্শকদের ঠিক সেরকম। 

 

সুতরাং, যারা রাইটিং কে পেশা হিসেবে নিতে চাচ্ছেন তাদের কিছু স্টেপ ফলো করা মেন্ডেটারি। সেই সব স্টেপ সম্পর্কে আসুন জেনে আসিঃ

 

ফ্রিল্যান্স রাইটার কি করে তা জানুন

ফ্রিল্যান্স রাইটাররা নানা প্রকারের কন্টেন্ট প্রডিউস করার জন্য বিভিন্ন ইন্ড্রাস্টি থেকে রাইটিং অপরচুনিটি পেয়ে থাকে। ফ্রিল্যান্স রাইটিং জব গুলো যেমন হয়ে থাকেঃ

 

  • ব্লগিং
  • সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট
  • ভিডিও স্ক্রিপ্ট
  • এডিটিং
  • কন্টেন্ট মার্কেটিং
  • প্রেস রিলিস

 

আপনি ফ্রিল্যান্সিং এ রাইটিং ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে, উপরের যেকোনো প্রকারের রাইটিং নিয়ে শুরু করতে পারেন। প্রথমত, আপনার রাইটিং ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে জানা থাকা লাগবে এবং এরপর যে ধরনের কপিরাইটিং আপনি উপভোগ করছেন তা দিয়ে শুরু করে ফেলুন। এরপরের কাজ হচ্ছে ক্লায়েন্ট খোঁজা যার হয়ে আপনি কাজ করবেন ।

 

রাইটিং সম্পর্কিত স্কিল ডেভেলপ করুন

 

আপনাকে রাইটিং সম্পর্কিত যত স্কিল আছে সেগুলো আগে নিজে থেকে যাচাই করে নিতে হবে। সঠিক শব্দের ব্যবহার, বাক্য ঠিক রাখা এবং একটি প্যারাগ্রাফে এগুলোর সঠিক মিক্সচার থাকতে হবে। মাঝে মাঝে বাক্যে শব্দের ব্যবহারে ক্রিয়েটিভিটি আনার চেষ্টা করতে হবে। তবে এসব বেসিক স্কিল থাকার সাথে সাথে আপনার একজন প্রফেশনাল রাইটারের গুন ও আয়ত্ত করে নিতে হবে। সেসব হচ্ছেঃ

 

  • রিসার্চ করার এবিলিটি
  • ব্রান্ড ভয়েস ব্যবহার করা
  • এসইও (SEO)
  • প্ল্যাগারিজম এড়ানো
  • রাইটিং নিস (Niche) খুঁজে বের করুন


আপনার পছন্দের যেকোনো একটি সম্পর্কে ব্লগ শুরু করা, আপনার রাইটিং ক্যারিয়ারের একটি দুর্দান্ত শুরু হতে পারে। উচ্চাকাঙ্ক্ষী লেখক হিসাবে, আপনি যা জানেন তা দিয়ে শুরু করুন।

 

বর্তমানে টেক ইন্ডাস্ট্রিতে সর্বদা লেখকদের প্রয়োজন রয়েছে যারা জটিল ধারণাগুলি সিম্পল ভাষায় তুলে ধরতে পারেন। অথবা হতে পারে আপনার হেলথ সেক্টরে একটি দীর্ঘ ক্যারিয়ার ছিল। এখন আপনি আপনার এক্সপারটিস এই সেক্টরের কোন একটি টপিক নিয়ে লিখতে পারেন যেহেতু এটি একটি বিশাল ইন্ডাস্ট্রি।

 

এরকমভাবে বলার অর্থ হল আপনি এটি জানেন বা না জানেন, আপনি ও কোন কিছুর বিশেষজ্ঞ। আপনি ইতিমধ্যে যা জানেন সেই টপিক বাছাই করে লিখতে শুরু করে দিন। এখন আপনার টপিক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কিছু প্রশ্ন মাথায় রাখলে নিজেই ক্লিয়ার হতে পারবেন। আপনাকে যা আগ্রহী করে তুলে, আপনি যেটি নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করেন, আপনি যে টপিক ঘন্টার পর ঘন্টা পড়ে যেতে পারবেন এসব নিয়ে ভাবলে দেখবেন আপনার টপিক সিলেকশন নিয়ে আর কনফিউশন থাকবে না। 

 

ফ্রিল্যান্স রাইটিং এর সোর্স খুজে বের করুন

আপনি যখন আপনার ফ্রিল্যান্স ক্যারিয়ার শুরু করেন তখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ গুলির মধ্যে একটি হলো কাজ খুজে পাওয়া। বর্তমানে প্রচুর ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট রয়েছে, তবে কয়েকটি এমন রয়েছে যা আপনার প্রথম ক্লায়েন্টকে হায়ার করার জন্য দুর্দান্ত। যেমনঃ আপওয়ার্ক। আপওয়ার্কে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের সাফল্য খুব বেশী। এখানে প্রচুর রাইটিং গিগ অফার করে থাকে। আপনি আপনার পছন্দের ক‍্যাটাগরির কাজ এখানে অবশ্যই খুঁজে পাবেন। এছাড়া আপনি লিঙ্কডইনে ট্রাই করে দেখতে পারেন।

 

রিজেকশন এক্সসেপ্ট করতে শিখুন

রিজেকশন কে ডিফিট হিসাবে নিবেন না। পরিবর্তেআপনার রাইটিং স্কিল আর ও বেটার করার সুযোগ হিসেবে এটিকে নিন। এমন অনেক কারণ রয়েছে যার কারণে কেউ আপনার লেখা চায় না। কখনও কখনও দর্শকরা বর্তমানে যা নিয়ে আগ্রহী তার জন্য আপনার লেখাটি উপযুক্ত নয়। কখনো বা অন্যান্য রাইটাররা অতীতেও সেইম কিছু প্রকাশ করেছে যা আপনার আর্টিকেলের সাথে মিলে যায়। এরকম ভাবনায় আপনার রাইটিং সবার কাছে গ্রহনযোগ্যতা পায় না। তাই এরপর যে কাজটি হতে পারে নেক্সট স্টেপতা নতুন রাইটারদের জন্য একটু কষ্টকর-  আপনার এক্সিস্টিং লিখা এডিটিং করা।

 

রাইটিং এডিট করা এবং লিখার ফিডব্যাক নেওয়া

“To write is human, to edit is divine — Stephen King”. স্টিফেন কিং এর এই উক্তিটিই পুরো রাইটিং প্রসেস কে তুলে ধরে। আপনার লিখার স্টাইলে অনেক ভুল থাকতে পারেওয়ার্ড মিসপ্লেস হতে পারে এবং আরও নানা জায়গায় ভুল থাকতে পারে। একটি এডিটর আপনার সেই ড্রাফট লিখাকে পরিমার্জিত রুপ দিতে পারে। এডিটরকে এনেমি না ভেবে এর ফিডব্যাক পজিটিভলি নিতে হবে এবং আপনার লেখার কোথায় ভুল আছে তা এটির সাজেশনে বুঝে নিতে পারবেন। পরবর্তীতে অন্য কিছু লিখার সময় আপনার লিখার বাজে স্বভাব গুলো মাথায় থাকবে যেটি আপনি আগে হয়তো খেয়াল ও করতেন না।

 

আপনি এডিটরের ফিডব্যাক নেয়ার পাশাপাশি আর একটি কাজ করতে পারেন সেটি হচ্ছে রাইটিং মেন্টর খুঁজে বের করা।  তারা ও এক সময় প্রবলেম গুলো ফেস করে আসছে আপনি যে প্রবলেম এখন ফেস করছেন। তাদের থেকে আপনি আপনার প্রবলেম গুলোর ইন-ডেপ্টথ এনালাইসিস নিয়ে লিখার ইম্প্রুভ করতে পারবেন। সুতরাং তাদের শেয়ার করা এক্সপারটিজ ও আপনার রাইটিং নলেজ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

 

রাইটিং অ্যাপ ব্যবহার করুন

স্কিলড রাইটারের ফিডব্যাক বা এডিটরের ফিডব্যাক ইনিশিয়ালি আপনার রাইটিং স্ট্রাগল থেকে হেল্প করবে। এগুলো ছাড়া ও আপনি কিছু অ্যাপ আছে সেটি থেকে ও হেল্প নিতে পারেন। অনেক রাইটার হেমিংওয়ে (Hemingway) ব্যবহার করে থাকে। এটি আপনার গ্রামারটিকাল মিস্টেক গুলো পয়েন্ট আউট করে দেয় এবং আপনার লিখার রিডিবিলিটির একটি রেটিং দিয়ে থাকে। এছাড়া গ্রামারলি আছে যেটি ও অনেকের কাছে পপুলার। এই অ্যাপ গুলো আপনার এডিটরের বিকল্প না বরং এটি সাইড টুল যা আপনাকে কমন মিস্টেক গুলো ধরতে সাহায্য করবে।

 

ফ্রিল্যান্সার হওয়া মানে হছে আপনার ক্যারিয়ারের পথে আপনার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। কিন্তু সম্ভাব্য কঠিন একটি দিক হল নিজে থেকে আপনি কীভাবে আপনার লক্ষ্যে পৌঁছাবেন তা খুঁজে বের করতে হবে। যেটা ম্যাটার করে সব থেকে বেশি তা হচ্ছে আপনি নতুন সুযোগ গুলি খুঁজছেন এবং আপনার সমমনা ব্যক্তিদের সাথে কানেকশন তৈরি করছেন।


অনলাইন পোর্টফলি ও তৈরি করুন 

আপনি যদি আপনার ব্লগের বাইরে আর কিছু পাবলিশ না করে থাকেন, তবে অনলাইন পোর্টফলিও এক্ষেত্রে দারুন কাজে দিবে। এটি দেখে অনেক ক্লায়েন্ট আপনাকে কাজে নিয়োগ দিতে আগ্রহী হবে। তাই এর ডিজাইনিং এর উপর এবং আপনার বেস্ট রাইটিং স্যাম্পল গুলো যাতে সুন্দর করে অরগানাইজড থাকে, বানানোর সময় সেটি খেয়াল রাখতে হবে। 

  

ফ্রিল্যান্সিং এ ১০টি মারাত্মক ভুল

 ফ্রিল্যান্স বা ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে আমরা যে  যা ধারণাই রাখি না কেন শব্দটা আমাদের কাছে ইন্টারেস্টিং ,  বর্তমানে অনেকেই এই সেক্টরটির দিকে আগ্রহী হচ্ছে। এবং এর বেশ কিছু কারণও রয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং এর কাজের ক্ষেত্রের ভ্যারাইটিস ও বিভিন্ন সুবিধা ও সহজলভ্যতার কারণে তারা ফ্রীল্যান্সিং কে নিজের কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহী হচ্ছে , অনেকে পার্ট টাইম বা অফিস বা চাকরীর পাশাপাশি করছে। ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজের স্বাধীনতা, নমনীয়তা, বা  কারো অধীনে কাজ না করে নিজে কাজ চালিয়ে যাওয়া সহ বিভিন্ন সুবিধা

 

রয়েছে। আপাত দৃষ্টিতে ফ্রিল্যান্সিং সাধারণ মার্কেটিং জবগুলোর চেয়ে সহজ মনে হলেও যখন আপনি এই সেক্টরে নতুন, অন্যান্য নতুন ফ্রিল্যান্সারদের মতই আপনিও কিছু ভুল করতে পারেন যেগুলো আপনাকে এতে সফল হতে কিছু বাধা হয়ে দাঁড়াবে। আপনি যদি এই সেক্টরে নতুন হয়ে থাকেন এবং কমন ভুলগুলি নিয়ে আগে থেকেই জেনে রাখেন তাহলে সহজেই আপনি সতর্কভাবে এসব এড়িয়ে যেতে সক্ষম হবেন।

আরো পড়ুন- Alita: Battle Angel (2019)

এখন আমরা এমনি কিছু কমন ভুল গুলোর কথা বলবো যেগুলো  একজন ফ্রিল্যান্সারের সফল হতে অবশ্যই এভোয়েড করা উচিত।

 

১) ঘন্টাপ্রতি চার্জ কম রাখা

 ফ্রিল্যান্সিং এ সাধারণত নতুন ফ্রিল্যান্সাররা প্রথমেই যে ভুলগুলো করে তার মধ্যে একটি হচ্ছে  এটি। আপনি যে বিষয়েই কাজ করতে যান এখানে আপনি নিজের যোগ্যতা ও কাজ দিয়ে ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে অর্থ উপার্জন করছেন, আপনার এটা মনে হতে পারে কম রেট বা চার্জ ক্লায়েন্টকে আকৃষ্ট করতে পারে। কিন্তু আপনি যখন নতুন কাজ করছেন এবং আপনার কাজ সম্মন্ধে ক্লায়েন্ট জানেনা তখন আপনার চার্জ পার আওআর একটি বড় ইনডিকেটর হিসেবেও কাজ করবে।

ক্লায়েন্টরা কাজের সাধারণ চার্জ জেনেই একজন ফ্রিল্যান্সারকে খোঁজে এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। তাই সাধারণের চেয়ে কম চার্জ ক্লায়েন্টের কাছে আপনার কাজ এর মান সম্পর্কে একটি  খারাপ ধারণা হতে পারে। এ বিষয়ে আপনার করনীয় হলো , সাধারণত ফ্রীল্যান্সাররা শুরুতে কাজের ক্ষেত্রবিশেষে কি রেঞ্জের ভিতর তাদের চার্জ রাখে সে বিষয়ে জেনে নেয়া। তারপর আপনার কাজের ধরন, স্কীল, প্রয়োজন অনুযায়ী একটি রেট ধারণ করা। যেমন আপনি কোন প্রজেক্ট ৩/৪ ইউএস ডলার চার্জ ঠিক করলেন কিন্তু এটার সধারণ প্রাইস রেঞ্জ ৮-১২ ডলার। সেক্ষেত্রে আপনি উপরের ফ্যাক্টরগুলো ভেবে এই রেঞ্জের মাঝামাঝি ঠিক করতে পারেন।

 

২) ক্লায়েন্ট মিসম্যানেজমেন্ট 

ফ্রিল্যান্সিং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট। যখন কোন ক্লায়েন্ট আপনাকে কাজ করানোর জন্য ইন্টার্ভিউ নিবে তখন আপনি নিজেকে কাজটার জন্য কিভাবে সবচেয়ে উপযুক্ত তা তুলে ধরছেন তা গুরুত্বপুর্ণ একটি বিষয়। ক্লায়েন্ট  কাজটির কি ধরনের রেজাল্ট আশা করছে বা তার ডিমান্ড বুঝতে হবে। এবং ক্লায়েন্ট আপনার কাজের খুঁটিনাটি ( কোন সফটওয়্যার এ করছেন, আপনার ট্রিক্স এন্ড টিপস, ইত্যাদি কাজের ডিটেইল) জানতে আগ্রহী নয় বরং আপনি কাজটি করতে পারবেন তা বুঝানোর চেষ্টা করতে হবে। আর প্রজেক্ট নেয়ার পর ক্লায়েন্টদের সাথে নিয়মিত কাজের আপডেট দেখানো জরুরি, এতে তারা কাজটা যেভাবে চাচ্ছে সেভাবে আপনি করতে পারছেন কিনা বা ফিডব্যাক পাবেন এবং ভবিষ্যতে আপনার সাথে কাজ করতে আগ্রহী হবে।

 

৩) স্বল্প সময়ের জন্য ফ্রিলান্সিং করার ভাবনা

 অনেকেই ভেবে থাকেন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করা মাত্রই আপনার অর্থ উপার্জন হয়ে যাবে। এটা সম্পূর্ণই ভুল ধারণা। ফ্রিল্যান্সিং আপনি দীর্ঘমেয়াদী কোন অফিসের কাজ করছেন না, বরং বিভিন্ন ক্লায়েন্টদের সাথে বিভিন্ন সময়ে। আপনি যদি এখানে নতুন হয়ে থাকেন, প্রথমেই কাজ না পেলে বা কম টাকা উপার্জন হচ্ছে দেখে হাল ছেড়ে দেন তাহলে এটা আপনার জন্য নয়। ফ্রিল্যান্সিং এ দরকার প্র্যাকটিস,  ধৈর্য্ ও সময়। সুতরাং আপনি কিছুদিনের জন্য ফ্রিল্যান্সিং এর জগতে আসতে চাইলে আপনার সফল হবার সম্ভাবনা খুব কম।

 

৪) নেটওয়ার্ক এর মধ্যে না থাকা

ফ্রীল্যান্সিং আপনি নিজেই নিজের কাজের মালিক এ কথা ঠিক হলেও আর বেশ কিছু ফ্যাক্টর রয়েছে যা আপনাকে মাথায় রাখতে হবে। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ক্লায়েন্ট এর কাছে আপনার একটি সুন্দর প্রোফাইল অনেক গুরুত্বপূর্ণ । কিন্তু শুধু এতেই আপনি ক্লায়েন্ট এর কাছে পৌছাতে নাও পারতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং জগত বা ক্লায়েন্টজগতের সাথে আপনার যোগাযোগ থাকতে হবে। যোগাযোগ বেশি হলেই বেশি সংখ্যক ক্লায়েন্ট দের মধ্য থেকে কাজ বাছাই করে নিতে পারবেন ও আপনার অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকবে।

 

৫) সিস্টেমিক রুটিন

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় আমাদের ক্লায়েন্ট বিদেশি বা ভিন্ন টাইম জোনের হয়ে থাকে, অনেকে ইমারজেন্সি কাজের জন্য যেমন ওয়েব সাইট ডাউন হয় গেছে যত দ্রুত সম্ভব ঠিক করে দিতে হবে, বা বিভিন্ন ধরনের ক্লায়েন্ট এর মুখোমুখি হতে হয়।  সেক্ষেত্রে আপনার মাথায় রাখতে হবে কোন কাজটি নিলে আপনি ভালোমতো কাজটি শেষ করতে পারবেন আপনার দৈনন্দিন জীবনে ঝামেলা ঝঞ্ঝাট ছাড়া বা কম করে। আপনি সপ্তাহ প্রতি কত ঘণ্টা ব দিনে কত ঘণ্টা কাজ করতে পারেন এটা ঠিক করে নিন এবং সে হিসাবে ক্লায়েন্ট  নির্বাচন করুন।

 

৬) স্কিল ছাড়াই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করা বা কম স্কিল থাকা

অনেকেই কাজ সম্মপর্কে ভাসা ভাসা ধারণা নিয়ে বা একেবারেই না নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করতে আসে। এটা অত্যন্তই একটি ভুল স্টেপ। আপনি একটি বিষয়ে পারদর্শী হলে শুধু সেই সেক্টরেই কাজ করুন। ক্লায়েন্ট আপনার কাছে কোন কাজ দিয়ে অবশ্যই এটা এক্সপেকট করে যে কাজটি অন্য কারো চেয়ে আপনি ভালো ভাবে করবেন । আপনার যদি স্কিল না থাকে এবং কাজটি ভালোভাবে করতে না পারেন তাহলে আপনি ফ্রীল্যান্সিং করে সফল হতে পারবেন না।

আপনার আগ্রহের বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে ফ্রীল্যান্সিং করুন

 

৭) সব ধরনের প্রজেক্ট একসেপ্ট (Accpect) করা

এই ভুলটি সাধারণত নতুন ফ্রীল্যান্সাররা করে থাকে। প্রথম কাজ পাওয়া আনন্দের বিষয় এবং কাজ করতে করতে যখন আরো কাজ হাতে আসে, এমনকি আগের প্রজেক্ট থাকা সত্ত্বেও অনেকে নিউ প্রপোজাল গুলো একসেপ্ট করে নেয়। এতে করে দু ধরণের সমস্যা হয়, প্রথমত আপনি আগের প্রজেক্টগুলোয় ফোকাস করতে পারেন না পুরোপুরি এবং দ্বিতীয়ত আপনার কাজের বাইরের লাইফস্টাইল এলোমেলো হয়ে যায়, ফিজিক্যালি ফিট থাকাও সম্ভব হয়না অনেকসময়।

 

৮) কমিউনিকেশন স্কিল

আবশ্যই আরেকটি গুরুত্ত্বপূর্ণ ভুল হলো আপনি ইন্টারন্যাশনাল ল্যাঙ্গুয়েজ এ কমিউনিকেট করতে পারেন না কিংবা সাধারণ ক্লায়েন্টদের সাথে কাজের জন্য দরকারি প্রফেশনাল আলাপ চালিয়ে যেতে পারেন না। আপনার একটি প্রজেক্ট এর জন্য কন্ট্রাক্ট করা অনেক জরুরি। আর যদি ক্লায়েন্ট বাইরের দেশের বা ভিন্ন ভাষভাষী হয়ে থাকে, আপনি কতো ফ্লুয়েন্টলি তার সাথে কমিউনিকেট করতে পারছেন  তা ফ্রিল্যান্সিংয়ের একটি অন্যতম অপরিহার্য দক্ষতা।

 

৯) ডেডলাইনের মধ্যে কাজ জমা না দেয়া

অনেকে অনেক প্রজেক্ট হাতে নিয়ে ফেলে অথবা  রুটিন না মিলিয়ে কাজ নিয়ে পরে প্রজেক্টটা নির্দিষ্ট টাইমের মধ্যে ক্লায়েন্টকে দিতে পারে না। আপনার পাইপলাইনে যদি আগেই প্রজেক্ট থাকে কিংবা আপনি নিশ্চিত নন নতুন একটি প্রজেক্ট  আপনি নির্দিষ্ট টাইমে শেষ করতে পারবেন কিনা, প্রজেক্টটি নেয়া হতে বিরত থাকুন। এটা থেকে পরের পয়েন্ট টি আসে।

 

১০) স্পেক ওয়ার্ক করা

স্পেক(spec) ওয়ার্ক বলতে মূলত বুঝায় আপনি ক্লায়েন্ট এর সাথে কোন কন্ট্রাক্ট এ নেই কাজটি নিয়ে, বা কাজটি আপনার করার পর তারা এটি নিবে কিনা বা আপনাকে টাকা দিবে কিনা তা না নিশ্চিত করেই যে কাজ দেয়া বা নেয়া হয়। হয়তো ধরুন কোন কোম্পানি আপনাকে লোগো ডিসাইন এর জন্যে হায়ার করতে চায় কিন্তু আপনি জানেন না কাজটি আপনি করলে এই লোগোটিই তারা নিবে কিনা, অথবা যদি তারা কাজ দেখে পেমেন্ট বা নেয়ার প্রস্তাব দেয় , এধরণের কাজ না নেয়াই ভালো। কেননা আপনার এই একটি প্রজেক্টে যতটুকু শ্রম বা সময় যাচ্ছে তা দিয়ে আপনি অন্য একটি কনট্রাক্ট এর প্রজেক্ট করতে পারেন যাতে আপনার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কম। মূলত এ ধরণের  প্রধান প্রধান  ভুলগুলো এড়িয়ে  ধৈর্য নিয়ে কাজ চালিয়ে গেলে  ফ্রিল্যান্সিং একটি  বেশ লাভজনক প্লাটফরম। আর সময় এবং অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে নিজেদের পছন্দসই একটি প্লেস তৈরি করে ফেলাও অনেক সহজ হয়ে যায়।

  

সংক্ষিপ্ত ও মার্জিত একটি কভার লেটার লিখুন

আপনার কভার লেটারটি একটি আবেদন মাত্র, আপনার সংক্ষিপ্ত জীবনী নয়। কাজেই চেষ্টা করুন সংক্ষিপ্ত পরিসরে আপনার বক্তব্য তুলে ধরতে। বিনিয়োগকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় এমন শব্দ ব্যবহার করুন, অতিশায়ন ও চাটুকারিতে বর্জন করুন। একটি দীর্ঘ ও অপ্রয়োজনীয় তথ্যে ভরপুর কভার লেটার বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁঁড়াবে এবং আপনাকে একজন অনুপযুক্ত আবেদনকারী হিসেবে উপস্থাপন করবে। একজন বিনিয়োগকারী আপনার কভার লেটারে যে বিষয়গুলো খুঁজবে তা হলো আপনার আগ্রহ, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা। চেষ্টা করুন অল্প কয়েকটি বাক্যে শুধু এই বিষয়গুলো তুলে ধরতে। আপনার কভার লেটারটি এক পৃষ্ঠায় লিখতে হবে, তবে অপ্রয়োজনীয় তথ্য ও অতিশায়ন দিয়ে পুরো এক পৃষ্ঠা পরিপূর্ণ না করে প্রয়োজনীয় তথ্য আকর্ষণীয় ভাবে তার চেয়েও ছোট পরিসরে তুলে ধরাই উত্তম।

 

একটি পেশাদার অভিবাদন দিয়ে শুরু করুন

কভার লেটারের শুরুতেই বিনিয়োগকারীক অভিবাদন জানান। যদি বিনিয়োগকারীর নাম আপনি জানেন তবে নাম ব্যবহার করুন, আর নাম না জানলে অভিবাদনের স্থানে শ্রদ্ধেয় পরিচালকব্যবহার করুন। অভিবাদন করার ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব বজায় রাখুন, কোনো অবস্থাতেই প্রিয়তমেষুবা কল্যাণীয়াষুজাতীয় শব্দ ব্যবহার করবেন না। সবসময় মাথায় রাখবেন যে আপনি আপনার কোনো আত্মীয়কে চিঠি লিখছেন না, বিনিয়োগকারির সাথে আপনার সম্পর্ক শুধুমাত্র কর্তা ও কর্মীর। কাজেই অপ্রাসঙ্গিক অন্তরঙ্গতা অনেক সময় বিরুপ ফলাফল এনে দিবে। কভার লেটারের প্রতিটি অংশে আপনার পেশাদারিত্ব বজায় রাখুন। আর বিনিয়োগকারীর সাথে এটিই যদি আপনার প্রথম কাজ হয় তাহলে নাম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বিনিয়োগকারীর মনযোগ ধরে রাখা। শুরুতেই আপনার অভিবাদন পড়ে বিব্রত হলে বিনিয়োগকারী আপনার ওপর আগ্রহ হারাবে।

 

কোনো অবস্থাতেই অন্যের লেখা নকল করবেন না

সবসময় নিজের কভার লেটার নিজে লিখবেন। এতে আপনার স্বাতন্ত্র ও অভিনবত্ব ফুটে উঠবে। কখনোই অন্যের লেখা ভালো ভেবে তা কপি করে বিনিয়িগকারীকে পাঠাবেন না, কারণ আপনার বিনিয়োগকারী চাইলেই সেটা ধরতে পারবেন। এতে আপনার কাজের পেশাদারিত্ব ও নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে তাঁর মনে খটকা তৈরি হবে। কাজেই অনেক সময়সাপেক্ষ হলেও নিজের কভার লেটারটি নিজেই লিখুন। কারণ আপনার দক্ষতা ও বিশেষত্ব সম্পর্কে আপনার চাইতে ভালো করে কেউ জানে না। চেষ্টা করুন কভার লেটারে এই বিষয়গুলোকে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে। বিনিয়গকারী তখনই আপনাকে কাজ দিবে যখন তার মনে হবে যে আপনি বাকিদের চাইতে কাজটি ভালোভাবে করতে পারবেন। আপনার কভার লেটারটিই যদি অন্যের কাছ থেকে নকল করা হয় তাহলে তিনি ভাবতে বাধ্য হবে যে বাকি কাজটুকু করার যোগ্যতা বা আগ্রহও আপনার নেই। আপনার কভার লেটারটি বাকিদের চাইতে ভিন্ন ও বিশেষ মনে হলেই বিনিয়গকারীরা আপনার প্রতি আকৃষ্ট হবে। তবে নিজে লিখতে গিয়ে এটি মাথায় রাখবেন যেনো আপনার কভার লেটারটি অতিশায়িত না হয়। নিজের দক্ষতা ও গুণাবলি সম্পর্কে সৎ থাকুন। কারন কাজ পাওয়ার পর যদি আপনি আপনার প্রতিশ্রুতি না রাখতে পারেন তবে তা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে

 

বিনিয়োগকারীকে আপনার প্রতি আগ্রহী করে তুলুন

একটি যথাযথ কভার লেটারের কাজ হলো আপনার পেশাদারিত্ব, অভিজ্ঞতা, কাজের দক্ষতা ও আগ্রহ ইত্যাদি বিষয়গুলো যথাসম্ভব সীমিত পরিসরে তুলে ধরা। একটি মার্জিত অভিবাদন দিয়ে শুরু করার পর আপনার যোগাযোগ করার কারণ জানান। আপনি কোন কাজটিতে আগ্রহী তা জানানোর পর আপনার প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও আগ্রহ পর্যায়ক্রমে তুলে ধরুন। প্রত্যেকটি ধাপ সুন্দর ও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে পারলেই বিনিয়োগকারী আপনার প্রতি আগ্রহী হবে এবং কাজটি আপনাকে দিয়ে করাতে স্বস্তি বোধ করবে। তবে কভার লেটারে কখনোই নিজেকে ডেস্পারেট হিসেবে উপস্থাপন করবেন না, আপনার কাজটি প্রয়োজন হলেও নিজের ব্যক্তিত্ব ও পেশাদারিত্ব ধরে রাখুন। তা না হলে বিনিয়গকারী আপনার ওপর আগ্রহ হারাবে। আপনি যদি দক্ষ এবং উপযুক্ত হোন এবং তা আপনার কভার লেটারে তুলে ধরতে পারেন তাহলে বিনিয়োগকারিরা আপনার সাথে নিজ থেকেই যোগাযোগ করবে।  

 

পরিশেষে একটি কভার লেটার লেখার সময় সর্বদা মাথায় রাখবেন যে আপনি কাজটির জন্য যোগ্য ও উপযুক্ত। দীর্ঘ সময় কাজ না পেলে নিজের ওপর বিশ্বাস হারাবেন না, আপনার কভার লেটারের ভুলগুলো খুঁজে বের করুন, নিজেকে আরও দক্ষ করে তুলুন। আপনার স্বাতন্ত্রই বিনিয়গকারিদের আপনার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে, কাজেই বাকিরা কী করছে তা না দেখে আপনি কোথায় ভুল করছেন তা খুঁজে বের করুণ। কভার লেটারটিকে সবসময় স্বচ্ছ, সুন্দর ও মার্জিত করে রাখুন। অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারণা করবেন  না। ছোট পরিসরে আপনার কভার লেটারটিকে আকর্ষণীয় করে তুলুন। মনে রাখবেন বিনিয়গকারী এটিই জানতে চায় যে আপনি কাজটিতে পারদর্শী কি না, আপনার কাজটিতে পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে কি না এবং আপনি সুন্দর ও সফলভাবে কাজটি করতে পারবেন কি না। আপনি কাজটিতে কেনো এবং কতটুকু আগ্রহী, আপনার ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, আর্থিক অবস্থা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিশদ আলোচনা তিনি শুনতে চান না।

 আরো পড়ুন- The Witcher Tv Series Download

কাজেই নিজের ওপর আস্থা রাখুন ও আত্মবিশ্বাসের সাথে একটি অভিনব কভার লেটার লিখে আপনার কাজের পরিধি ও পরিমাণ দুটিই বৃদ্ধি করুন।

 

ফ্রিল্যান্সিং এর জগতে আপনাকে স্বাগতম!

 

 তথ্য সোর্স: reelancers.gov.bd 



Post a Comment

1 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.