টিন সার্টিফিকেট কী? টিন সার্টিফিকেটের ব্যবহার? টিন সার্টিফিকেট করতে কি কি লাগবে?

  


দেশের এক জন নাগরিক হিসেবে আমাদের কর দিতে হয়। কর দেয়াটা বাধ্যতামূলক।  এই কর প্রদান করার জন্য আমাদের টিন সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে হয়। এটা করযোগ্য আয়ের সীমা অতিক্রম কারী দেশের সকল নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য। এছাড়া বিভিন্ন কাজের জন্য নিজের সম্পত্তির বৈধতা যাচাইয়ের জন্যেও  এটি খুব গুরত্বপূর্ণ।


টিন সার্টিফিকেট  কী

টিন (TIN)  হলো ট্যাক্স-পেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার,(Taxpayer Identification Numbers) যা দ্বারা একজন করদাতাকে শনাক্ত করা হয়। মূলত এই আইডেন্টিফিকেশন নাম্বারের সাহায্যে একজন করদাতার সব তথ্য ভিন্ন ভিন্ন ভাবে রেজিস্টার করা হয়ে থাকে। করদাতা এই টিন সার্টিফিকেট ব্যবহার করে নিজের বার্ষিক আয় ও মোট সম্পদের যাবতীয় তথ্য ইনকাম টেক্স বিভাগের নিকট সঠিক ভাবে উপস্থাপন করে থাকেন। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজের সব সম্পত্তির হিসেব রাষ্ট্রের নিকট উপস্থাপন করা আমাদের দায়িত্ব। ম্পত্তির বৈধতা যাচাইয়ের জন্যেও  এটি খুব গুরত্বপূর্ণ।


টিন সার্টিফিকেট এর ব্যবহার

সরকারের প্রবর্তিত নিয়মানুসারে এবং একজন নাগরিকের বিভিন্ন সেবা গ্রহণের জন্য টিন সার্টিফিকেট খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে একজন নাগরিক বিভিন্ন সরকারি সুবিধা ভোগ করতে পারেন। বাৎসরিক আয়কর রিটার্ন মূলত  এই টিন সার্টিফিকেট ব্যবহার করে দাখিল করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই আইডেন্টিফিকেশন নাম্বারের প্রয়োজন হয়,

১) আপনি যদি আপনার ট্রেড লাইসেন্স নবায়ণ করতে যান তবে আপনার টিন সার্টিফিকেট দেখাতে হয়।

২) বিভিন্ন কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পরে তা রেজিস্ট্রেশন করার জন্য এটি দরকার হয়। আর রেজিস্ট্রশন ছাড়া সকল কোম্পানি অবৈধ হিসেবে ধরা হয়। এছাড়া কোম্পানির শেয়ার কেনার জন্য হলেও এটি দরকার হয়।

৩) আপনার আমাদানিপত্র রেজিস্ট্রেশন করার জন্য আপানার টিন সার্টিফিকেট অবশ্যই লাগবে। কারণ আপনার সম্পত্তির হিসাবে দেখাতে হবে।

৪) বিভিন্ন ড্রাগ লাইসেন্স করার জন্য টিন সার্টিফিকেট দেখাতে হয়।

৫) বিভিন্ন বাণিজ্যিক দরপত্র ক্রয় করার জন্য আপনার ট্যাক্স-পেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার থাকা বাধ্যতামূলক।

৬) ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করার জন্য  TIN  দরকার। তবে এক্ষেত্রে কর প্রদান বাধ্যতামূলক নয়।

৭) সিটি কর্পোরেশন ভুক্ত জমি বা ভবন রেজিস্ট্রেশন করতে হলেও আপনার টিন সার্টিফিকেট লাগবে। এই নাম্বার ব্যবহার করে বাড়ির টেক্স দিতে হবে।

৮) ব্যবসায়িক সমিতির সদস্যপদ প্রাপ্তি ও নবায়ণের জন্য এটি দরকার হবে।

৯) গাড়ি, মাইক্রোবাস অথবা জিপ এর রেজিস্ট্রেশন বা ফিটনেস সনদ পেতে হলেও টিন দেখাতে হবে।

১০) কোন লাইসেন্স যেমন, ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী ইত্যাদি গ্রহণের জন্য টিন সার্টিফিকেট দরকার।


টিন সার্টিফিকেট ও কর প্রদান নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ

আমাদের মধ্যে  একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, টিন গ্রহণ করলেই কর দিতে হবে। কিন্তু  এধারণা মোটেই সত্য নয়। কারণ কর প্রদানের জন্য আপনার আয় একটি নির্দিষ্টি সীমা অতিক্রম করতে হবে। যদি আপনার আয়করযোগ্য না হয় কিন্তু আপনার টিন রয়েছে সেক্ষেত্রে আপনাকে কর শূন্য রিটার্ন দাখিল করতে হবে। তার মানে করতে দিতে হলে অবশ্যই আপনার টিন নিতে হবে। কিন্তু আয় করযোগ্য না হলে কর দেয়া লাগবে না।  সরকারের নিয়মানুসারে যাদেরকে অব্যশই কর দিতে হবে,

১)  করদাতার মোট করযোগ্য আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে তবে রিটার্ন জমা দিতে হবে।

২) মোটর গাড়ির মালিকানা থাকলে অবশ্যই কর দিতে হবে।

৩) মূল্য সংযজোন কর আইন, ১৯৯১ এর অধীন নিবন্ধিত কোন ক্লাবের সদস্যপদ থাকলে।

৪) সিটি কর্পোরেশনে অথবা পৌরসভায় ব্যাবসা পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে থাকলে আয়ের অংশ থেকে কর দিতেই হবে।

৫) বিভিন্ন পেশা যেমন ডাক্তার, আয়কর আইনজীবী, চার্টার্ড একাউন্টেন্ট, প্রকৌশলী, স্থপতি, সার্ভেয়ার ইত্যাদিতে নিয়োজিত সকল ব্যাক্তিবর্গকে রিটার্ন জমা দিতে হবে।

৬) চেম্বার অব কমার্স এন্ড উন্ডাস্ট্রিজ অথবা কোন ট্রেড এসোসিয়েশনের সদস্য।

৭) পৌরসভা, সিটি কর্পরেশন অথবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পদপ্রার্থী হলে।

৮) সরকারী, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা অথবা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ঠিকাদারি কাজে টেন্ডারে অংশগ্রহনকারী সকল ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান।

৯) সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারী চাকরীরতদের মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা বা তার বেশি হলে রিটার্ন জমা দিতে হবে।

তাই টিন সার্টিফিকেট নিলে আপনাকে আয়কর রিটার্ন অবশ্যই দাখিল করতে হবে। অন্যথায় আপনার অর্থ কালো টাকা (Black Money) হিসেবে বিবেচিত হবে।


কখন এটি করবেন

যখন আপনার মোট আয় করযোগ্য আয়ের সীমা অতিক্রম করবে বা উপরোক্ত তালিকার মধ্যে পড়বেন তখন আপনার টিন সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে হবে। আর দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে দেশকে আয়কর দিয়ে  এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এবং নিজের বিভিন্ন প্রয়োজনে আপনার টিন সার্টিফিকেট গ্রহণ করা উচিত। এছাড়া আপনি যদি উক্ত তালিকায় থেকে কিংবা করমুক্তসীমার বেশি আয় করেও  আয়কর প্রদান না করেন তবে সরকার আইন অনুসারে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জরিমানা করতে পারে।


টিন সার্টিফিকেট করতে কী কী লাগবে

টিন সার্টিফিকেট করতে প্রাথমিক ভাবে ,

  •   জাতীয় পরিচয়পত্র
  •  মোবাইল নাম্বার
  •  বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা

এবং আনুসাঙ্গিক কাগজপত্র লাগবে।

টিন সার্টিফিকেট কি ভাবে অনলাইন আবেদন করতে হবে বিস্তারিত জানতে..............................

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad

Ads Area