Last update
Loading...

চা–বাগানের টিলা কাটা

এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে একটি চা–বাগানের ভেতর শ্রমিকেরা নিজেদের ইচ্ছামতো টিলা কাটবে আর বাগান কর্তৃপক্ষ তার কিছুই জানবে না। সিলেটের মালনীছড়া চা-বাগান কর্তৃপক্ষ সে কাজটিই করতে চেয়েছে। তারা বাগানের ভেতরে টিলা কাটার দায় শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছে। শুধু তা–ই নয়, বাগান কর্তৃপক্ষ টিলা কাটার ঘটনা ধামাচাপা দিতে প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদককে আটকেও রেখেছিল। সোমবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত শনিবার বাগান এলাকায় বাঘের বিচরণ লক্ষ করতে বন বিভাগের ক্যামেরা ট্র্যাকিং করতে গিয়ে বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম চৌধুরী দেখেন, মালনীছড়া চা–বাগানের ভেতরে সাতটি টিলা কাটা হচ্ছে। এর মধ্যে তিনটি টিলার বেশির ভাগ কাটা হয়ে গেছে। এ সময় প্রথম আলোর আলোকচিত্রী আনিস মাহমুদ টিলা কাটার ছবি তুললে চা-বাগানের ব্যবস্থাপকের দপ্তর থেকে একদল লোক তাঁদের আটক করে। পরে অবশ্য পুলিশ ও সাংবাদিকদের সহায়তায় তাঁরা ছাড়া পান। এ ঘটনা পরদিন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন সরেজমিনে বাগান এলাকায় গেলে বাগান ব্যবস্থাপকের দপ্তরের কর্মকর্তারা টিলা কাটার বিষয়টি পুরোপুরি চা-শ্রমিকদের ঘাড়ে চাপান এবং এ সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানান।
মালনীছড়া চা–বাগান বাংলাদেশের বৃহত্তম এবং প্রথম প্রতিষ্ঠিত চা–বাগান। এখানকার ১ হাজার ৫০০ একর জায়গাজুড়ে শতাধিক টিলায় রয়েছে রাবারবাগান ও পাদদেশে আছে চা-বাগান। পরিবেশ আইন অনুযায়ী, পাহাড়-টিলা কাটা নিষিদ্ধ ও শাস্তিমূলক অপরাধ হলেও কিছু অর্থলোভী মানুষের কারণে মালনীছড়া চা-বাগানের এসব টিলা ধ্বংস করা হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক।  প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, ৩০ বছর মেয়াদি দুই দফায় বন্দোবস্ত নিয়ে রাগীব আলী এ বাগান পরিচালনা করছেন, যিনি কিনা মালনীছড়ার পাশের তারাপুর চা-বাগান দখল ও সরকারের হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দণ্ডিত। তাঁর বিরুদ্ধে চা-বাগানের ‘উন্নয়নের’ নামে টিলা কাটার অভিযোগ রয়েছে। চা-বাগান ইজারা আইনে টিলা কাটলে অথবা ভূমিরূপ পরিবর্তন করলে চা-বাগান বন্দোবস্ত প্রদানের বিধি লঙ্ঘিত হয়। এ জন্য আগেই ইজারা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে, কোনো অনুমোদনের তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। ইজারা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই টিলা কাটা চলছে। এখন মালনীছড়া চা-বাগান কর্তৃপক্ষ টিলা কাটার দায় শ্রমিকদের ওপর চাপালেও পরিবেশ অধিদপ্তর চা-বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের উপপরিচালক। কেননা, শ্রমিকেরা তো আর বাগান পরিচালনা করছেন না। আমরা আশা করব, পরিবেশ অধিদপ্তর অনতিবিলম্বে মালনীছড়া চা-বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে।

0 comments:

Post a Comment