Last update
Loading...

পরীক্ষার ফল বাতিলের সুপারিশ

ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে দেয়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফল বাতিলসহ প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আটক ও বহিষ্কৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে আন্তঃমন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই কমিটি। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে কমিটির পক্ষ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় একটি বিষয়ের প্রশ্ন পুরোপুরি এবং বাকিগুলোর প্রশ্ন আংশিক ফাঁস হওয়ার কথা স্বীকার করে বলা হয়েছিল, তারা পুরোপুরি ফাঁস হওয়া বিষয়ের পরীক্ষা বাতিলের সুপারিশ করবে। সেসময় পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা দায়ী না হলেও পরীক্ষা বাতিলের মধ্য দিয়ে কেন তাদের শাস্তি ও ভোগান্তির সম্মুখীন করা হবে, এ প্রশ্ন উঠেছিল। কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের কমিটি এবার তিন পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে চারটি সুপারিশসহ যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে, সেখানে পরীক্ষা বাতিলের পরিবর্তে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে, তাদের ফলাফল বাতিল এবং শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা পরীক্ষার্থীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি ফাঁস প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়া শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির মাধ্যমে চিহ্নিত করার কথা বলা হয়েছে।
এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ আপাতদৃষ্টিতে ইতিবাচক মনে হলেও দোষী পরীক্ষার্থীদের চিহ্নিত করার যেসব প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে, তা কতটা নির্ভরযোগ্য ও নিখুঁত হবে সে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। নিরপরাধ কোনো শিক্ষার্থী যাতে এর বলি না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা আবশ্যক। স্কুল, কলেজ, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এটাই প্রমাণ করে- এজন্য দায়ী প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে শুরু করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নেতৃত্ব ও সুষ্ঠু তত্ত্বাবধানের অভাব, কর্তব্যে অবহেলা এবং নৈতিকতার অবক্ষয়। আমরা মনে করি, ক্রমাগত প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা জাতির জন্য লজ্জার, বেদনার। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে বেকারত্বের যন্ত্রণায় দগ্ধ হতে থাকা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিরীহ ও সৎ চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যেমন তামাশা করা হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা ধ্বংসের বন্দোবস্তও পাকা করা হচ্ছে। বস্তুত প্রশ্ন ফাঁস সমস্যার সমাধান পরীক্ষার ফল বাতিল নয়, বরং যে কোনো মূল্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোয় কী ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, তা বিবেচনায় নেয়ার পাশাপাশি আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।

0 comments:

Post a Comment