Last update
Loading...

অর্থমন্ত্রীর দায় স্বীকার

২০১৭ সাল আমাদের অর্থনীতিতে ব্যাংক কেলেঙ্কারির বছর হিসেবে পরিচিতি পেলেও কেবল গত বছরই নয়, কয়েক বছর ধরেই টানা অনিয়ম-দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি, লুটপাট গোটা ব্যাংকিং খাতকে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে। কিন্তু সোনালী-রূপালী-অগ্রণী-জনতা-বিডিবিএল ও বেসিক ব্যাংকসহ প্রায় সবক’টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের অনিয়ম, এমনকি মূলধন পর্যন্ত খেয়ে ফেলার পরও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিশেষজ্ঞসহ নানা মহলের সমালোচনা ও অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য বিভিন্ন মহলের দাবি রয়ে গেছে উপেক্ষিত। ফলে বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও দুর্নীতি-অনিয়মের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার পেছনে সরকার, বিশেষ করে অর্থ মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্টদের দায় স্বীকার করে নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তাই এখন ঋণখেলাপি, জালিয়াত ও ব্যাংক লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তাকেই উদ্যোগ নিতে হবে। জানা যায়, সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার জন্য সরকার দায়ী। অনেক সময় আমরা রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের ওপর চাপাচাপি করি। সোনালী ব্যাংক সবচেয়ে বড় হওয়ায় চাপাচাপিটা এর ওপর দিয়ে বেশি যায়।’ মন্ত্রীর এ দায় স্বীকারকে আমরা ইতিবাচক মনে করি। তবে দায় স্বীকার করে বসে থাকলে চলবে না, ভবিষ্যতে যেন ব্যাংকগুলোর কাজে হস্তক্ষেপ করা না হয় এবং ঋণখেলাপি ও লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক সাজার উদ্যোগ নেয়া হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ও অনিয়ম বেড়ে যাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক বিবেচনায় চেয়ারম্যান, এমডি ও পরিচালক নিয়োগ এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়াই যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দায়ী,
তা বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর কর্মকাণ্ড থেকেই স্পষ্ট। দুর্ভাগ্যের বিষয়, বিভিন্ন মহলের কড়া সমালোচনার পরও আমরা ঋণখেলাপি ও ব্যাংক লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া তো দূরের কথা, এক ধরনের রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়ে আসছি। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যেও বিষয়টি ফুটে উঠেছে। অপরাধীদের বিচারের আওতায় না এনে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার খেসারত জনগণের করের অর্থ দিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মূলধন জোগানের মধ্য দিয়ে দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় অর্থমন্ত্রীর দায় স্বীকারের মধ্য দিয়ে আমরা আশাবাদী হতে চাই যে, ব্যাংকিং খাতের অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে এবার অন্তত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বর্তমান সময়ে ব্যাংকিং খাত হয়ে পড়েছে গোটা অর্থনীতি তথা দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি। ফলে এ খাতে অনিয়ম জেঁকে বসলে গোটা অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে, তা বলাই বাহুল্য। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে অচিরেই। এজন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ আমলে নিয়ে ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম দেখাশোনার জন্য একটি শক্তিশালী কমিশন, দ্রুত বিচার ও আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা যেতে পারে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্তিশালী করা এবং ব্যাংকিং খাতে পরিবারতন্ত্র দূরীকরণের উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারের শীর্ষমহল এগিয়ে এলে একটি সুশৃঙ্খল ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত প্রতিষ্ঠা করা কঠিন কিছু হবে না। খেলাপি ঋণের পেছনে মন্ত্রীর দায় স্বীকারের পর এসব উদ্যোগ না নেয়া হবে দুঃখজনক।

0 comments:

Post a Comment