Last update
Loading...

তেজস্ক্রিয়তা সনদ লাগবে না

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোনো দেশ থেকে চাল আমদানির জন্য তেজস্ক্রিয়তা সনদ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে পরমাণু শক্তি কমিশনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এসব দেশ থেকে চাল আনতে পারবে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তের ফলে তেজস্ক্রিয় বিকিরণে মানবদেহে ক্যানসারসহ নানা রোগ হওয়ার ঝুঁকি রয়ে যাচ্ছে। এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে চাল আমদানির ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তা সনদ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি চায় খাদ্য মন্ত্রণালয়। তাদের যুক্তি, পরমাণু শক্তি কমিশন থেকে এই সনদ নিতে না হলে চাল আমদানিতে সময় কম লাগবে এবং টাকা সাশ্রয় হবে। বিষয়টি নিয়ে আলাপ–আলোচনার পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দেয়। পরমাণু শক্তি কমিশন সূত্র জানায়, খাদ্যপণ্যে তেজস্ক্রিয়তা নির্ধারিত মাত্রার বেশি থাকলে ক্যানসার, লিউকেমিয়া, বন্ধ্যাত্ব, চুল পড়ে যাওয়া, জেনেটিক পরিবর্তনসহ মানবদেহের ভয়ানক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় বিকিরণ মানবদেহে নানা রকম ক্যানসারের জন্ম দিতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত তেজস্ক্রিয় বিকিরণের সংস্পর্শে থাকলে মানুষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে। মানসিক বিকার এমনকি বিকলাঙ্গতাও দেখা দিতে পারে। চট্টগ্রামের পরমাণু শক্তি কেন্দ্রের পরিচালক শাহাদত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আসিয়ান দেশগুলোকে সুযোগ-সুবিধা দিতেই একটি মহল হয়তো এমন অনুরোধ করছে। কিন্তু কোনোভাবেই এই বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দেওয়া উচিত নয়। আমদানি করা চালে ক্ষতিকর কিছু আছে কি না, তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা পরীক্ষা না করে তা বোঝা সম্ভব নয়। তাই এটা তুলে দিলে ঝুঁকি থাকবে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, মূলত ভিয়েতনাম থেকে চাল আমদানির সময় সনদ সংগ্রহের জন্য তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষার বিষয়ে পরমাণু শক্তি কমিশনের ফি পাঠানোর বিষয়টি জানিয়ে খাদ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছিল চট্টগ্রামের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রকের দপ্তর। তাঁরা বলেছিলেন, ভিয়েতনামের সঙ্গে করা চুক্তিতে বলা আছে, তেজস্ক্রিয়তার বিনির্দেশ মাত্রা পরমাণু শক্তি কমিশন থেকে যাচাই করতে হবে। তাই ২২ লাখ টাকা পাঠাতে অনুরোধ জানান তাঁরা। কিন্তু মন্ত্রণালয় টাকা না পাঠিয়ে এই বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দিতে অনুরোধ জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী নন বলে জানান। আর খাদ্যসচিব শাহাবুদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে তিনি মনে করেন, যেখান থেকেই চাল আমদানি করা হোক না কেন, অবশ্যই তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা করা উচিত। আমদানি নীতিতে বলা আছে, সার্কভুক্ত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো থেকে সরাসরি চাল, গম ও অন্যান্য খাদ্যশস্য আমদানির ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা করতে হবে। তবে তিনটি শর্ত পালন করলে এই বাধ্যবাধকতা শিথিলযোগ্য হতে পারে। এর মধ্যে রপ্তানিকারক দেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি বা অনুমোদিত সংস্থার ইস্যু করা উৎস দেশসংক্রান্ত সনদ (সার্টিফিকেট অব অরিজিন) যদি থাকে, যদি রপ্তানিকারক দেশের অনুমোদিত সংস্থা থেকে প্রত্যয়নপত্র শুল্ক কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে দিতে পারে এবং পচনশীল খাদ্যর ক্ষেত্রে ওই দেশের অনুমোদিত সংস্থা থেকে তেজস্ক্রিয়তা–সংক্রান্ত সনদ নেওয়া হয়। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই এসব সনদ জমা দেয় না বলে পরমাণু শক্তি কমিশনের সূত্র জানায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক নাজমা শাহীন বলেন, খাদ্যপণ্যে তেজস্ক্রিয়তা নির্ধারিত মাত্রার বেশি থাকলে ক্যানসারসহ নানা রোগ হতে পারে। চুক্তিতে বলা থাকলে অবশ্যই আমদানি করা চাল পরীক্ষা করতে হবে, সেটা যে দেশ থেকেই হোক।

0 comments:

Post a Comment