Last update
Loading...

ঠান্ডায় কাঁপছে ইউরোপ

ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে নতুন করে তীব্র কনকনে আবহাওয়া ইউরোপের নানা দেশের জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে। সোমবার ভোর থেকেই মধ্য ইউরোপে তাপমাত্রা মাইনাস ১০ থেকে মাইনাস ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। তীব্র ঠান্ডায় বিভিন্ন দেশে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, এই বছরের শীতে প্রথমবারের মতো রেকর্ড পরিমাণ ঠান্ডা পড়েছে এবং এই সপ্তাহজুড়ে তাপমাত্রা আরও কমতে থাকবে। এই তীব্র শীতের কারণ মূলত উওর মেরু থেকে বয়ে আসা আর্টিক বায়ু। তীব্র শীত ও তুষারপাতের কারণে মধ্য ইউরোপের কিছু বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। রাস্তাঘাট পিচ্ছিল হওয়ার কারণে বহু জায়গায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঠান্ডার প্রকোপে পোল্যান্ডে আট ব্যক্তি মারা গেছেন, ইতালির রাজধানী রোমে সোমবার থেকে স্কুল ও কিন্ডারগার্টেনগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। সোমবার জার্মানির ব্রিমেন ও কোলন-বন বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কেবল উওর জার্মানির লুবেক শহরেই পিচ্ছিল রাস্তায় কয়েক ঘণ্টার মধ্য শতাধিক এবং হামবুর্গে ৭৫ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সড়ক পিচ্ছিল হওয়ায় সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লোফভেনে গাড়িটি উপসালা শহরের সন্নিকটে দুর্ঘটনায় পড়ে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর কোনো ক্ষতি হয়নি। স্টকহোমে তুষারপাতের কারণে একই সঙ্গে অন্তত ২০টি গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়। প্রচণ্ড ঠান্ডায় অস্ট্রিয়ার পুলিশ কপাল থেকে থুতনি ঢেকে চলাফেরার বিষয়ে নতুন নির্দেশ জারি করেছে। ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে দেশটির আইন অনুযায়ী নেকাব ও বোরকা পড়ে বা মুখমণ্ডল ঢেকে চলাফেরায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এখন প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে মুখমণ্ডল ঢেকে চলাফেরার বৈধতা পেয়েছে। বাল্টিক অঞ্চলের দেশ লিথাউনে প্রচণ্ড ঠান্ডায় তিন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। দেশটির তাপমাত্রা এখন সর্বনিম্ন মাইনাস ২৪ সেলসিয়াস। ফ্রান্সে ঠান্ডায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের মেয়র ভিনশেন্ট ড্য ভলফ শহরটির গৃহহীনদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। গ্রিসের উত্তরাঞ্চলে প্রদেশ মেসিডোনিয়াতে ঠান্ডার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বুলগেরিয়াতে ঠান্ডার কারণে বহু মালবাহী গাড়ি সড়কে আটকা পড়েছে। ব্রিটিশ আবহাওয়া দপ্তরের প্রধান আবহাওয়াবিদ ফ্রাঙ্ক সাউন্ডেরস জানিয়েছেন এই সপ্তাহে ১৯৯১ সালের পর ইংল্যান্ড ওয়েলসে সর্বোচ্চ ঠান্ডা পড়বে।

0 comments:

Post a Comment