Last update
Loading...

বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান

দেশে বেসরকারি খাতের চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের নাগালের প্রায় বাইরে। তা সত্ত্বেও সরকারি খাতের চিকিৎসাসেবা অপ্রতুল হওয়ায় সাধারণ মানুষ বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও রোগ নির্ণয় প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হয়। কিন্তু ব্যয়বহুল এ চিকিৎসার ক্ষেত্রেও মানুষ যথাযথ সেবাপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়, অনেক ক্ষেত্রে হয় প্রতারিতও। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। টিআইবির গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাতে গড়ে উঠেছে কমিশনভিত্তিক বিপণন ব্যবস্থা। এ খাতে বাণিজ্যিকীকরণের প্রবণতা ব্যাপক। বিভিন্ন পর্যায়ে কমিশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসক, স্বাস্থ্য সহকারী, পরিবার-পরিকল্পনা কর্মী, পল্লী চিকিৎসক, ফার্মেসির ওষুধ বিক্রেতা, ধাত্রী, বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের রিসিপশনিস্ট ও পেশাদার দালাল। প্রায়ই এসব প্রতিষ্ঠানে থাকে না কোনো চিকিৎসক ও নার্স। সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হল, অনেক রোগ নির্ণয় প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা না করেই দেয়া হয় প্রতিবেদন। ফলে সেবাপ্রার্থীরা একদিকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অন্যদিকে বঞ্চিত হয় মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা থেকে। এ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বস্তুত দেশের বেসরকারি চিকিৎসা খাত গড়ে উঠেছে প্রায় সম্পূর্ণভাবে ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি দ্বারা। ফলে মানবসেবার বদলে অর্থই এখানে প্রাধান্য পায়।
সরকারের যথাযথ মনোযোগ ও তদারকির অভাবে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে এ খাত। এ সংক্রান্ত কোনো আইনও কার্যকর নেই। চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য ‘দি মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স’ ১৯৮২ সালে প্রণয়নের পর আর তা হালনাগাদ করা হয়নি। এ আইনের কোনো বিধিমালাও তৈরি করা হয়নি। ফলে নিবন্ধন দেয়ার আগে ও পরে যে তদারকি প্রয়োজন, সেটিও নেই। মূলত বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে ও চলছে প্রায় তাদের নিজেদের ইচ্ছামতো। এর ফলে উচ্চ মুনাফাভিত্তিক একটি ব্যবসা খাতে পরিণত হয়েছে এটি। শুধু তাই নয়, বড় বড় অনেক বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে রোগী বা রোগীর স্বজনদের জিম্মি করে অনৈতিক পন্থায় অর্থ আদায়ের জোরালো অভিযোগ আছে। এ অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। চিকিৎসা মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। তাই রাষ্ট্রের সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য ও মানসম্পন্ন করতে হবে। সরকারের উচিত অবিলম্বে এদিকে দৃষ্টি দেয়া। বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় তথা এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনসহ ১৬টি সুপারিশ করেছে টিআইবি। আমরা মনে করি, এগুলো আমলে নিয়ে বাস্তবায়ন করা হলে দেশের চিকিৎসাসেবা খাত অনেকটাই জনবান্ধব হবে।

0 comments:

Post a Comment