Last update
Loading...

প্রশ্নপত্র ফাঁসের মহামারি

এবারে এসএসসি পরীক্ষার আগে শিক্ষামন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারির পর ধারণা করা গিয়েছিল যে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ হবে না এবং ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী নিরুদ্বিগ্ন মনে পরীক্ষা দিতে পারবে। কিন্তু কথায় বলে ‘চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনি’। গত শনিবার পর্যন্ত বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, ধর্ম ও অঙ্ক পরীক্ষা হয়েছে। প্রতিটিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ রয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীরা আগে লুকিয়ে-ছাপিয়ে কাজ করলেও এখন প্রকাশ্যে নেমে পড়েছে। শহর ছাড়িয়ে এখন গ্রামেও পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়া জালিয়াত চক্রের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে পরীক্ষার কক্ষে নেওয়ার সময় এইচপি ল্যাপটপ, স্যামসাং, নকিয়া, সিম্ফোনি, লাভা, হুয়েই, লেনোভো, আইফোন ইত্যাদির মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষক-কর্মচারীরা দায়িত্ব এড়াবেন কী করে? সরষের ভেতরেই ভূত রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল, যার মধ্যে রয়েছে কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া, পরীক্ষার আধা ঘণ্টা আগে সব পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার হলে হাজির হওয়া, পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনো মুঠোফোন নিয়ে যাওয়া যাবে না। শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, কোথাও প্রশ্নপত্র ফাঁস হলেই পরীক্ষা বাতিল করা হবে। কিন্তু কোনো পরীক্ষা বাতিল করা হয়নি। আর পরীক্ষা বাতিল প্রশ্নপত্র ফাঁসের সমুচিত জবাব কি না, সে নিয়েও বিতর্ক আছে। আমরা মনে করি, পরীক্ষা বাতিল করে প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করা যাবে না।
বরং প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও বিতরণ প্রক্রিয়া এমন নিশ্ছিদ্র এবং পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা এমন কঠোর করতে হবে, যাতে কেউ প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে না পারে। সরষের ভেতরে ভূত থাকলে কখনোই প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করা যাবে না। এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভূমিকাও রহস্যজনক। তারা মুখে বড় বড় কথা বললেও কাজে তার প্রতিফলন নেই। একজন সচিবের নেতৃত্বে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে সাতটি পরীক্ষা হয়ে গেছে। অথচ সেই কমিটি কাজই শুরু করেনি। যাঁকে প্রধান করে কমিটি করা হয়েছে, তাঁর কাছে এখনো আদেশপত্র যায়নি। যে পরীক্ষার সঙ্গে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জীবন যুক্ত, সেই পরীক্ষা নিয়ে এ রকম দায়িত্বহীনতা অমার্জনীয় অপরাধ বলেই মনে করি।

0 comments:

Post a Comment