Last update
Loading...

তালতলী সোনার চর ইকোপার্কের বেহাল দশা

বরগুনার তালতলীর সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র সোনার চরের ইকোপার্কটি বর্তমানে বেহালদশায় পরিণত হয়েছে। ইকোপার্কের উন্নয়ন না থাকায় দর্শনার্থীরা এখন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তালতলী উপজেলার সর্ব দক্ষিনে বঙ্গোপ সাগরের কোল ঘেষে টেংরাগিরি নামে বিশাল ম্যানগ্রোভ বন অবস্থিত। স্থানীয় ভাবে এ বন ফাৎরার বন নামে পরিচিত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এ বন ও বনে অবস্থিত নানা জীব বৈচিত্রের সৌন্দর্যের পাশাপাশি ইকো পার্কটি যেন এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। কুয়কাটা সমূদ্র সৈকত থেকেও ট্রলার যোগে পর্যটকরা আসেন সোনার চর ইকোপার্কে সৌন্দর্য উপভোগ করতে। তালতলী বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, টেংরাগিরি বনের মোট পরিমাণ ১৩ হাজার ৭শ ৯৬ একর। ১০ হাজার একর বনের উপর ২০১০ সালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। ইকোপার্কের মধ্যে ৪ কিলোমিটার রাস্তা, ১৫ টি কাঠের ব্রীজ, ৩টি গোল ঘর, ৫টি টয়লেট, ১টি টিউবয়েল, ২ টি ডাষ্টবিন,একটি হরিণের বেষ্টনী,একটি শুকরের বেষ্টনী, একটি কুমিরের বেষ্টনী,একটি মেছোবাঘের বেষ্টনী নির্মাণ করা হয়েছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে এ সবের নির্মাণ কাজ এতটাই নিম্ন মানের যে, সবকিছু এখন ব্যহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সদ্য নির্মিত ২টি গোলঘর ও ২টি টয়লেট ভাল থাকলেও টিউবয়েলে পানি না ওঠায় এ টয়লেট ব্যবহার করছেনা কেউ। বাকী টয়লেটের দরজা ভেঙ্গে ও পলেস্তারা খসে পড়েছে, নেই পানির ব্যবস্থা। বালু দিয়ে যেনতেন করে ইট বিছিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হলেও শ্রাবনের জোয়াড়ের পানিতে বালু সরে গিয়ে অধিকাংশ জায়গার ইট দ‘ুপাশে পড়ে গেছে। কোথাও কোথাও রাস্তার অস্তিত্ব নেই। ১৫ টি ব্রিজের ৫টি সংস্কার করা হলেও ১০টি ব্রিজের মাত্র পিলার দাড়িয়ে আছে। এ সকল ব্রিজের নীচ দিয়ে শুকনা মৌসুমে চলাচল করা সম্ভব হলেও অধিকাংশ ব্রিজের উপর দিয়ে ঝুকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। সংস্কার কৃত ব্রিজের কাজ এতটাই নিম্ন মানের যে ব্রিজের উপর দিয়ে একত্রে ২/৩ জন লোক চলাচল সম্ভব হয়না। যে কোন মূহুর্তে উপরের পাটাতন ভেঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বন্যপ্রানীর অভয়ারন্য বেষ্টনী সমূহ আংশিক ভেঙ্গে পড়ায় শুকর ও মেছোবাঘ বেড়িয়ে গেছে। হরিনের বেষ্টনীতে জোড়া তালি দিয়ে ৫টি হরিণ এখন বেষ্টনীতে আছে। কুমিরের বেষ্টনীতে ২ টি কুমির আছে। কুমিরের দৈনিক খাদ্য তালিকায় ৬শ গ্রাম করে মুরগী,
হরিনের খাদ্য তালিকায় প্রতিটি হরিনের দৈনিক ৭৫০গ্রাম ভুষি,শব্জী ৫শ গ্রাম, ঘাস-পাতা দেড় কেজি দেয়ার নিয়ম থাকলেও তা ঠিক মত দেয়া হচ্ছেনা বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। ইকোপার্কের প্রবেশ পথে আকর্ষণীয় সাইনবোর্ড সোনরচর ইকোপার্ক, বন্যপ্রানীর অভয়ারণ্য ইত্যাদি দেখে দর্শনার্থীরা মনের আনন্দে প্রবেশ করলেও ঘুরেফিরে আনন্দ যেন ম্লান হয়ে যায়। দর্শনার্থীদের সাথে আলাপকালে একাধিক ব্যক্তি বলেন, ইকোপার্কের এ অবস্থা হলে এখানে এসে কোন লাভ নেই। তালতলী রেঞ্জ কমকর্তা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সংস্কারের জন্য ২০১৭/১৮ অর্থ বছরে ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। বরাদ্দ প্রাপ্ত টাকা দিয়ে ৫ টি ব্রীজ সংস্কার, হরিণের বেষ্টনীতে ১শ ৫০ ফুট সংস্কার, দেয়ালের উপর ও গ্রেট বীমের নীচে ৮টি গ্রীল, কুমিরের বেষ্টনীর উপর ৩ প্যাচ তার কাটার ঘেরা দেয়া হযেছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ঐশী এন্টারপ্রাইজ এ সংস্কারের কাজ করেন। এ সকল কাজে নাম মাত্র সংস্কার করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। বন অফিস সূত্রে আর ও জানা গেছে, ইকোপার্কে চলতি বছরের জানুয়ারীতে দর্শনার্থীদের টিকেট সহ ৪৮ হাজার টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। ইকোপার্কের উন্নয়ন হলে রাজস্বের পরিমাণ দ্বিগুন হতে পারে বলে সচেতন মহল মনে করেন। এ ব্যাপারে তালতলী রেঞ্জ কর্মকর্তা শামসুজ্জোহা বলেন,”ইকোপার্কের সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য উধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট ১০ কোটি টাকার বরাদ্ধের প্রস্তাব পাঠিয়েছি,বরাদ্ধ পাওয়া গেলে উন্নয়ন করা হবে”।

0 comments:

Post a Comment