Last update
Loading...

বঙ্গবন্ধু চর

অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে যখন বন-বনানী বিলীন হয়ে যাচ্ছে, তখন সুন্দরবনের কাছে বঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠা ছোট্ট একটি চরে নীরবে নিভৃতে গড়ে উঠছে এক শ্বাসমূলীয় বন। ‘বঙ্গবন্ধু চর’ নামের চার বর্গকিলোমিটারের এই ভূখণ্ডটি হতে পারে বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশের বিরল দৃষ্টান্ত। কিন্তু এই বঙ্গবন্ধু চরের ওপর কিছু মহলের নজর পড়েছে। সোমবারের প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু চরের দুটো ছবি ছাপা হয়েছে। একটিতে দেখা যাচ্ছে মহাবিপন্ন প্রজাতির একটি পাখি ইউরেশীয় ঝিনুকখোর। অন্য ছবিটিতে রয়েছে কাদাবালুর ওপর বাঘের পায়ের ছাপ। দুটি ছবিই অত্যন্ত তাৎপর্যবহ। এই ছবি দুটি বলে দিচ্ছে বঙ্গবন্ধু চরের বিরল ইকোলজিক্যাল বৈশিষ্ট্যের কথা। মহাবিপন্ন প্রজাতির পাখি সেখানে অবাধে বিচরণ করছে, এর মানে চরটি এই প্রজাতির পাখিদের বসবাসের অনুকূল। এখানে এরা বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে। এখানে এদের বংশবৃদ্ধি ঘটতে পারে। শুধু ইউরেশীয় ঝিনুকখোরই নয়, চামচঠুঁটো বাটান নামে আরও এক বিপন্ন প্রজাতির পাখি ওই চরে দেখা গেছে। অর্থাৎ চরটি অনেক বিপন্ন প্রজাতির পাখি ও প্রাণীর বসবাসের জন্য বেশ অনুকূল। চরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীতে ইরাবতী ডলফিনের বিশাল ঝাঁকের বিচরণ দেখা গেছে। সেখানে বেঙ্গল টাইগার বাসা বেঁধেছে, মানে বাঘের বসবাস ও বংশবৃদ্ধির জন্যও জায়গাটি অনুকূল। এ রকম বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশ আমাদের দেশে এখন অত্যন্ত বিরল। এর মূল্য আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। কিন্তু খুলনা জেলা প্রশাসন স্পষ্টতই এসব বিষয়ে চিন্তা করেনি, নইলে তারা কেন বঙ্গবন্ধু চরে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার আবদার করবে? আর কোস্টগার্ড যে ওই চরে একটা পর্যবেক্ষণ টাওয়ার স্থাপনের জন্য আবেদন করেছে, তাতেও মনে হয় বিরল প্রাকৃতিক পরিবেশের গুরুত্ব অনুধাবনে ঘাটতি আছে। বঙ্গবন্ধু চর বাংলাদেশের এক বিরল বৈশিষ্ট্যপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। শ্বাসমূলীয় বন গড়ে ওঠাসহ সেখানকার সামগ্রিক প্রাকৃতিক অবস্থা বিকাশের এমন এক পর্যায়ে আছে, যা নির্বিঘ্নভাবে অব্যাহত থাকা উচিত। সে জন্য ওই এলাকাকে সম্পূর্ণভাবে নিরুপদ্রব রাখতে হবে। সেখানে মানুষের কোনো কর্মকাণ্ডের অনুমতি দেওয়া চলবে না। বঙ্গবন্ধু চরকে প্রকৃতি তার মনের মতো করে গড়ে তুলুক; বাঘসহ বিচিত্র সব পশুপাখি, জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ, পোকামাকড়, অণুজীব নির্বিঘ্নে বসবাস ও বংশবিস্তার করুক। বঙ্গবন্ধু চর সরকারের বন বিভাগের আওতাধীন ভূখণ্ড। খবরে প্রকাশ, বন বিভাগ চায় সেখানে প্রাকৃতিকভাবে শ্বাসমূলীয় বন গড়ে উঠুক, কোনো ধরনের স্থাপনা বা অবকাঠামো নির্মাণ না করা হোক। বন বিভাগকে এই অবস্থানে অনড় থাকতে হবে।

0 comments:

Post a Comment