Last update
Loading...

আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে ধসের নেপথ্যে

যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে ধসের আসল কারণ কী- সব সময়ই এটি একটি জটিল প্রশ্ন। এর সহজ কোনো উত্তর নেই। মার্কিন অর্থনীতি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে থাকলেও ২০১৩ সালে দেশটির বিনিয়োগকারীরা ওয়াল স্ট্রিটকে রেকর্ড উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এবং ফেডারেল রিজার্ভের বৈষম্যমূলক আচরণের প্রশংসাও করেছেন। এটি শুধুমাত্র যে মুনাফার হার শূন্যে নামিয়ে এনেছে তা নয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সঙ্কটের ওপর খারাপ প্রভাবগুলো ঠেকাতেও কাজ করেছে। এটি মুদ্রা ছাপার তিনটি বড় প্রকল্প নিয়েছে, যা তিন লাখ কোটির বেশি ডলার যোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে। চীন যখন ব্যাপক হারে ঋণ দিয়েছে তখন ইউরোপ ও জাপান তাদের অনুসরণ করেছে। ২০ ট্রিলিয়নের বেশি মার্কিন ডলারের এই বাড়তি তারল্য শেয়ার ও বন্ড বাজারে জোয়ার এনে দেয়, দাম বাড়তে থাকে এবং বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত আসতে তাকে। দীর্ঘ এই সময়ে বিনিয়োগকারীরা পুরনো সব নিয়মকানুন বদলে ফেলে নতুনভাবে ব্যবসায় করতে থাকে। গত সপ্তাহ পর্যন্ত ওয়ালস্ট্রিটের(নিউ ইয়র্কের শেয়ারবাজার যেখানে) সমন্বিত মূল্য অন্তত ২৫ গুণ বেড়েছে। অপ্রত্যাশিতভাবে টানা ৩১২ দিন ৫ শতাংশের বেশি কখনোই অবনমন হয়নি। (সাধারণত বছরে ৩ শতাংশ অবনমনকে স্বাভাবিক ধরা হয়)। তবে যেকোনো সফলতারই তো একটি শেষ থাকতেই হবে, গত সপ্তাহে তাই হয়েছে। মাসের পর মাস ধরে ওয়াল স্ট্রিট ও বিশ্ব শেয়ারবাজারের ঘাড়ে ঝুলে ছিল মুনাফা বৃদ্ধির এই ভুত। ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জ্যানেট ইয়ারেন গত সপ্তাহে বলেছেন,
আমেরিকান অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের এই গতিতে মুনাফার হার প্রত্যাশার চেয়ে অল্প কিছু বাড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত ভালো খবরটি এলো গত শুক্রবার। যুক্তরাষ্ট্রে শুধু কর্মসংস্থানই বাড়ছে না, চাকরিজীবীদের মজুরিও বাড়তে যাচ্ছে। মুনাফার হার বৃদ্ধির এই ধারা শেষ হয়েছে। আর পতনটা ত্বরান্বিত হয়েছ শেয়ারবাজারের। মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে সরকার সুদের হার বাড়াতে পারে; এমন সম্ভাবনা থেকেই বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার থেকে তাদের বিনিয়োগ উঠিয়ে নিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুদের হার বাড়লে সেখানকার শিল্পখাতে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সঙ্কট সৃষ্টি হতে পারে। আর ঋণ সঙ্কট না হলেও শেয়ার বাজারের বাইরে অন্য কোনো বিনিয়োগ খাতেও লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কম থাকায় গত এক দশক ধরে অধিকতর মুনাফার আশায় সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণ বিনিয়োগ এসেছে এশিয়ারবাজারে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনার মুখে সেই বিনিয়োগও এশিয়ার শেয়ারবাজার থেকে তুলে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। এই সুদের হার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করেই যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে লেনদেনকারী বিনিয়োগকারীরা তাদের শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। দু’টি কারণে তারা এমনটি করতে পারেন। একটি হলো, সুদের হার বেড়ে গেলে শিল্পগুলো উচ্চ সুদের হারের কারণে যথাযথ পরিমাণে ঋণ জোগাড় করতে পারবে না। অন্য দিকে সুদের হার যদি বাড়েই, তাহলে বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফার জন্য শেয়ারবাজারে থাকার চাইতে অন্য কোথাও বিনিয়োগকরাকে ভালোবলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।

0 comments:

Post a Comment