Last update
Loading...

বয়স হয়ে যাচ্ছে মেয়ের, বর কোথায়?



বিয়ের বয়স হয়েছে তো সেই কবেই। কিন্তু অনামিকা ফাঁকা। কে দেবে বিয়ের আংটি? ৩০ বছর বয়সী নূর শুধু একা নন, তাঁর মতো অনেক নারীরই অনামিকায় এমন আংটি জোটেনি। চারদিকে কেবল মেয়ে আর মেয়ে। এর মধ্যে বর হওয়ার মতো ছেলে কোথায়? এ দৃশ্য যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার। আজ সোমবার এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১১ সাল থেকে চলমান এ যুদ্ধে ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছেড়েছে হাজারো মানুষ। যুদ্ধের আগে দেশের জনসংখ্যা ছিল ২ কোটি ৩০ লাখ। এর মধ্যে ৫০ লাখ মানুষ দেশ ছেড়েছে বা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ২০১১ সালে যখন যুদ্ধ শুরু হয়, তখন নূর দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিতে স্নাতকের চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এরই মধ্যে নূর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এখন তিনি বিয়ে করতে চান। কিন্তু ছেলে কোথায়? তবে নূর হাল ছাড়েননি। তাঁর আশা, একদিন তাঁর অনামিকায়ও আংটি উঠবে। বিয়ের হতাশায় ডুবে যাওয়া নূর নিজেকে ব্যস্ত রাখতে এখন আবার সাহিত্য বিষয়ে ভর্তি হয়েছেন। আগে সপ্তাহে তাঁর অনেকগুলো বিয়ের প্রস্তাব আসত উল্লেখ করে নূর বলেন, কিন্তু এখন কোনো প্রস্তাব আসে না বললেই চলে। এখন যদি পারিবারিকভাবে বিয়ে করতে যান, দেখবেন, ইতিমধ্যে যাঁরা বিবাহিত অথবা বয়স্ক, তাঁরাই পাত্র। নূর বলেন, ‘আমার এখন সময় কাটানোর কিছু নেই। কোনো বন্ধু নেই, ভালোবাসার মানুষ নেই, স্বামী নেই। আমি ভয় পাচ্ছি, বিয়ের আগে আমার মাথায় একটিও ধূসর চুল থাকবে কি না। বিয়ে নিয়ে আমার আর কোনো আশা নেই।’ সিরিয়ার সমাজ খুব রক্ষণশীল। সেখানে মেয়েদের বয়স বিশের ঘরে পৌঁছালেই তাঁদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু উপযুক্ত পাত্রের অভাবে সেই নিয়ম অনেকটাই শিথিল। দামেস্কে মনোবিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপক সালাম কাশেম বলেন, পাত্রসংকটের কারণে ৩২ বছর বয়সে মেয়ের বিয়ে হওয়াটা এখন স্বাভাবিক।
কেউ আর এটাকে বেশি বয়সে বিয়ে বলে না। কাশেম বলেন, এখন মা-বাবারা তাঁদের ছেলেমেয়ের জন্য উপযুক্ত সঙ্গীর খোঁজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আশ্রয় নিচ্ছেন। আগে প্রতিবেশীরা সবাই সবাইকে জানতেন। এভাবে খুব সহজেই খোঁজখবর নিতে পারতেন। কিন্তু এখন পরিবারগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিভিন্ন প্রদেশ বা ভিন্ন দেশের পাত্রপাত্রীর অনেকে আবার স্কাইপের মাধ্যমে বিয়ে করছেন। তৃতীয় কোনো পক্ষ তাঁদের বিয়ের লাইসেন্সে সই করে।  ৩১ বছর বয়সী ইয়ুসরা বলেন, তাঁর মা-বাবা সারাক্ষণই বলতে থাকেন যে তিনি বিয়ের ট্রেন মিস করেছেন। তাঁর মা তাঁকে বারবার বলেন, ‘আমি চাই না তুমি কুমারী থাকো। কাউকে পছন্দ করতে চারপাশে চোখ রাখো।’ ইয়ুসরা সরকারি ভাষান্তরের কাজ করেন। তিনি বলেন, প্রত্যেকে জানেন, এখানে যা ঘটেছে, এর জন্য সিরিয়ার তরুণ প্রজন্মকে বড় মূল্য দিতে হয়েছে। কেউ দেশ ছেড়েছে, কেউ যুদ্ধে গেছে। আবার অনেকে অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে বিয়ের কথা মাথাতেই আনেন না। এই যুদ্ধের কারণে দেশটিতে এখন মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী, বেকারত্ব সীমাহীন আর অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে ২২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। এ অবস্থায় বাত তুমা শহরের ৩৭ বছরের ফাইরাস বলেন, দৈনন্দিন জীবনের ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক ব্যয়ের কারণে বিয়ের বিষয়টি অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে। তিনি ওয়াশিং মেশিন মেরামতকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। বলেন, ‘আমি আমার ভবিষ্যৎ চিন্তা করতে পারি না। আল্লাহ জানেন, আমি কাল বাঁচব কি না? এই পরিস্থিতিতে যে বিয়ে করবে, সে পাগল। যেখানে আমার জীবনের নিশ্চয়তা নেই, সেখানে আমি আমার স্ত্রী-সন্তানের নিরাপত্তা কীভাবে দেব?’

0 comments:

Post a Comment