Last update
Loading...

বস্তিতে নারীর স্বাস্থ্যসেবা

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের ‘চাইল্ড ওয়েল বিয়িং সার্ভে ইন আরবান এরিয়াজ অব বাংলাদেশ ২০১৬’ শীর্ষক জরিপে দেশের প্রধান প্রধান শহরে বস্তির নারীদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং মেয়েদের বাল্যবিবাহের যে নাজুক চিত্র বেরিয়ে এসেছে, তা সত্যিই উদ্বেগজনক। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, শহরাঞ্চলের বস্তিতে ৬৪ শতাংশ অন্তঃসত্ত্বা নারী প্রসব-পূর্ব সেবাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা পান না। বস্তির বাইরে শহরের অন্য এলাকায় এসব সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত থাকেন ৩৯ শতাংশ অন্তঃসত্ত্বা। এ ছাড়া বস্তিতে ১৫ বছরের আগেই এক-চতুর্থাংশের বেশি মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। আর বস্তির বাইরে বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে এক-পঞ্চমাংশ মেয়ে। তবে বস্তিতে ১৮ বছরের আগে বাল্যবিবাহের এই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৬৭ শতাংশ। শহরাঞ্চলের বস্তির নারীদের স্বাস্থ্যসেবার এই চিত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর ব্যর্থতাকেই তুলে ধরে। অন্তঃসত্ত্বা নারীরা যদি প্রসব-পূর্ব সেবা না পান, তাহলে তাঁদের প্রসবকালীন জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে তাঁদের মৃত্যুও হতে পারে। অর্থাৎ বলা যায়, বস্তির ৬৪ শতাংশ নারী মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে থাকেন। জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (নিপোর্ট) সম্প্রতি প্রকাশিত মাতৃস্বাস্থ্য জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে মাতৃমৃত্যুর হার লাখে ১৯৬। অর্থাৎ, ১ লাখ জীবিত শিশুর জন্ম দিতে গিয়ে ১৯৬ জন মায়ের মৃত্যু হচ্ছে। আর এই মাতৃমৃত্যুর অন্যতম কারণ হচ্ছে প্রসব-পূর্ব সেবা না পাওয়া।
মা ও শিশুস্বাস্থ্যে অসামান্য অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল হেলথ ফর ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক ‘সাউথ-সাউথ পুরস্কার’ অর্জন করে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন সত্য, কিন্তু নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত হয়নি এখনো। এ জন্য সরকারকে আরও অনেক কাজ করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্যও তা জরুরি। আমরা চাই দেশের প্রত্যেক নারী সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। প্রত্যেক নারীর নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত হবে। এখন সরকারের উচিত বিবিএস ও ইউনিসেফের জরিপের ফলাফলকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া এবং জরিপে উঠে আসা তথ্য থেকে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচিতে কোথায় কী সীমাবদ্ধতা আছে, তা চিহ্নিত করে সেসব সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধেও সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। কেননা, সরকারের নানা পদক্ষেপ সত্ত্বেও বাল্যবিবাহ হয়েই চলেছে। বিবিএস ও ইউনিসেফের জরিপ অনুযায়ী, বস্তি এলাকায় ১৮ বছরের আগে বাল্যবিবাহের হার ৬৭ শতাংশ। এটা নিঃসন্দেহে অনেক বেশি। কেন বস্তি এলাকায় বেশি বাল্যবিবাহ হচ্ছে, তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে।

0 comments:

Post a Comment