Last update
Loading...

ফ্যান্টাসি কিংডমে অপ্রীতিকর ঘটনা

সাভারের আশুলিয়ায় অবস্থিত বিনোদন কেন্দ্র ফ্যান্টাসি কিংডমে ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষার্থীর আহত হওয়ার ঘটনাটির সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা নেই। অতি তুচ্ছ ব্যাপারকে কেন্দ্র করে এত বড় অঘটন হতে পারে, ভাবা যায় না। শুক্রবার ‘স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অফ শরণখোলা’ ব্যানারে সেখানে বনভোজনে গিয়েছিলেন ৮০ জন ছাত্র। রাইডে চড়া নিয়ে বনভোজনে আসা অন্য একজনের সঙ্গে শরণখোলা টিমের এক সদস্যের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শরণখোলার ওই ছাত্রকে অন্যরা মারধর করে। এ ঘটনার জের ধরে ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এগিয়ে এলে ফ্যান্টাসি কিংডম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এ সময় সেখানে থাকা আনসার সদস্য ও কর্তৃপক্ষের লোকজন তাদের ২২ জনকে পিটিয়ে জখম করে। এদের ৮ জনকে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যাদের ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে ঘটনা অতি সামান্য। কোনো বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হতেই পারে; কিন্তু সেটা এতটা বর্বরতায় রূপ নেয়ার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। ফ্যান্টাসি কিংডম কর্তৃপক্ষ ও আনসার সদস্যরা নিঃসন্দেহে এক চরম অমানবিক কাণ্ড ঘটিয়েছে, যার বিহিত হওয়া দরকার। এই বিনোদন কেন্দ্রে যারা আনন্দ করতে যান,
তারা কর্তৃপক্ষের অতিথিই বটে। তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। অথচ বাকবিতণ্ডা, তা যত তীব্রই হোক, তার মীমাংসা না করে দর্শনার্থীদের ওপর আক্রমণ করা ভদ্রতাপরিপন্থীই শুধু নয়, বেআইনিও বটে। আমরা দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই। লক্ষ করা যাচ্ছে, সমাজে এক ধরনের উগ্রতার জন্ম হয়েছে। অতি তুচ্ছ ঘটনায় মানুষ শুধু উত্তেজিতই হচ্ছে না, মারমুখী আচরণ করছে। এটা এক ধরনের মানসিক অসুস্থতা নিশ্চয়ই। আবার এটাও লক্ষ করা যাচ্ছে, কিছু মানুষ যখন সংঘবদ্ধ অবস্থায় থাকে, তখন তাদের মধ্যে কখনও কখনও তুচ্ছ ঘটনায় উন্মাদনা দেখা দেয়। তারা তখন ধরাকে সরা জ্ঞান করে; দেশে আইন-আদালত বলে কিছু আছে কিনা, তা বোঝার চেষ্টা করে না। ফ্যান্টাসি কিংডম কর্তৃপক্ষও একটি সংঘবদ্ধ শক্তি এবং তারা আরেকটি সংঘবদ্ধ শক্তি আনসার বাহিনীকে কাজে লাগিয়েছে। সংঘবদ্ধ শক্তির উন্মাদনা গ্রামাঞ্চলেও দেখা যায়। সামান্য ঘটনায় দুই গ্রাম বা দুই অঞ্চলের মানুষ লাঠিসোটা হাতে তেড়ে আসে পরস্পরের দিকে। এই মানসিক অসুস্থতার প্রতিকার কী, তা মনোবিজ্ঞানীরাই বলতে পারবেন। অসুস্থ রাজনীতিও এর একটি কারণ হতে পারে।

0 comments:

Post a Comment