Last update
Loading...

নতুন বছর এলে by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

পহেলা বৈশাখ, পহেলা জানুয়ারি, বাঙালিরা মেতে ওঠে নতুন হুজুগে। পহেলা মহররম হিজরি সনের প্রথম দিন। এ নিয়েও মাতামাতি আছে বৈকি, তা শুধু আমাদের কয়েকজনের জন্যে, যারা হিজরি ভালোবাসি। কয়েক বছর ধরে পহেলা জানুয়ারি ও পহেলা বৈশাখ নিয়ে বেশ কিছু লেখা লিখেছি, ছাপা হয়েছে, পরে বই। নতুন বছর এলে আমরা নতুন প্রতিজ্ঞায় নিজেদের আবদ্ধ করি। ক’জন পালন করি, সেটা নিয়েই আজকের আলোচনা হতে পারে। পহেলা বৈশাখ আসলে দু’তিন দিনের বাঙালি হুজুগ। পহেলা জানুয়ারি বড় লোকের ছেলে-মেয়েদের থার্টিফাস্ট উদযাপন ও পহেলা জানুয়ারির মাতামাতির মধ্যেই শেষ। তাহলে এই হই চই আর কত দিন? এ বছর ঠিক করেছি পহেলা নিয়ে আর কোনো মাতামাতি নয়। মুসলমানদের মাতামাতি প্রতিটি দিন নিয়ে। প্রতিদিন ফজর, প্রতিদিন জোহর, প্রতিদিন আসর, প্রতিদিন মাগরিব, প্রতিদিন এশা। ভেবে দেখুন, প্রতিজ্ঞার কত বড় স্তর অতিক্রম করলে এই অভ্যাসটি আয়ত্ত করা সম্ভব। পড়ে দেখুন আমার লেখা- ‘মুহাম্মদের নাম’। বিশ বছর আগে লিখেছি। অনেকগুলো সংস্করণ বেরিয়েছে। তা লেখা- নবীজির সা: প্রতিদিনের একটি দিনের কথা। সেটা পড়লেই পহেলা নিয়ে আর ভাবতে হবে না। পহেলাতে যা করব তা করব সারা বছর। ধরা যাক, মানুষের মনে কষ্ট দেব না; এটা নতুন বছরের প্রতিজ্ঞা। যারা নবী সা: এর অনুগামী তাদের জন্যে এটি প্রতিদিনের প্রতিজ্ঞা। বাবা-মায়ের মনে কষ্ট দেব না। এটা প্রতিদিনের পরীক্ষা। এমনি বেশ কয়েকটি প্রতিজ্ঞার কথা নবী সা: এর প্রতিদিনের জীবনে। পড়ুন এবং সেখান থেকে কিছু আহরণ করুন। সংবাদপত্রের পৃষ্ঠায় পড়তে ভালো লাগে এমন কিছু পহেলা নিয়ে আলাপ করেছি ইতঃপূর্বে। সেগুলোরও সঙ্কলন বেরিয়েছে। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। জাপানে গিয়েছি কয়েক বার। সেখানে একটি প্রতিজ্ঞা আমার খুব মনঃপূত হয়েছে। তা হলো- পুরনো বিবাদ মিটিয়ে ফেলা। আসুন, আমরা এ বছর একটি প্রতিজ্ঞা নেই। তা হলো- বিবাদ মিটিয়ে ফেলব। বিবাদ মিটিয়ে ফেলিনি বলে দেশ চলছে দু’দিকে। যে যতই বলুক; দেশে গণতন্ত্র নেই, গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই। কেউ কাউকে সহ্য করতে পারছে না। এমন একটি পরিস্থিতি যা থেকে দেশ পরিত্রাণ পাবে বলে মনে হয় না। যতক্ষণ বিবাদ মিটানোর সঙ্কল্প কেউ গ্রহণ না করব, তত দিন। মাঝে মাঝে ভালো খবর আসে, উৎফুল্ল হই।
এই বুঝি মিটমাট হয়ে গেল। হয়নি। হবেও না। যত দিন মনোভাবের পরিবর্তন হবে। মাঝে মাঝে ভেবেছি দুই নেত্রী আমাকে ভালো চোখে দেখেন। যখন সামনাসামনি, তখন মনে হয় ওরা আমার সবচেয়ে বড় শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে। হয়তো আমি ওদের গানের কথা বলে, ধর্মের কথা বলে, বাংলাদেশের খেটে খাওয়া মানুষদের কথা বলে, মিলিয়ে দিতে পারব। বঙ্গবন্ধু আমার শ্রেষ্ঠ বন্ধুদের একজন। আর মেজর জিয়া আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ। আমিই পারব ওদেরকে মিলিয়ে দিতে। কোনো দিন চেষ্টা করিনি। হয়তো সফল হব না। কারণ, ওরা জাপানে কখনো যায়নি। জাপানের এই কৃষ্টি ওই জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। আর আমরা যাচ্ছি পেছনের দিকে। হিংসা ও কোলাহল কমেনি। মনে হচ্ছে কমেছে। কারণ, মিডিয়া মিথ্যা বলে চলেছে। মিডিয়া এক পক্ষের হাতে। জেনে রাখুন, মিথ্যা কখনো সত্য হবে না। দেশ যদি গোল্লায়ও যায় তাহলেও মিথ্যা মিথ্যাই থাকবে। হিটলার যদ্দিন ক্ষমতায় ছিলেন তদ্দিন মনে হত ‘সব ঠিক হ্যায়’। ইতিহাস বলে, কিছুই ঠিক ছিল না। ইতিহাস ওদের নিকৃষ্টতম আসন দিয়েছে। ভালোবাসার আসনটি আমাদের কাছেই ছিল। আসুন- ভালোবাসা ফিরিয়ে আনি। পরস্পরকে নতুন চোখে দেখি। দেশের মানুষদের কথা ভেবে ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে যাই। যারা মাঝখানে মজা লুটছে তাদের দিকে তাকিয়ে হাসি। ওরা দেশের সবচেয়ে সর্বনাশ করছে। মাথায় হাত বুলিয়ে নিজেদের কর্মসূচি গ্রহণ করছে। ওরা নিজেদের ভালোবাসে, দেশকে নয়। সেটা অনেক আগেই প্রমাণিত।
তবু আজকের দিনটি যেন আলাদা। নতুনভাবে ভাবি।

0 comments:

Post a Comment