Last update
Loading...

শুভ নববর্ষ

আমরা একটি নতুন বছরে পা রাখলাম। স্বাগত ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ! বিদায়ী বছরের অপূর্ণতা দূর করার আশা ও প্রত্যয় নিয়ে আসে নতুন বছর। এ রকম আশাময় মুহূর্তে আমরা আমাদের সব পাঠক, লেখক ও শুভানুধ্যায়ীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। শুভ নববর্ষ! ফেলে আসা বছরটি ছিল আমাদের জন্য বড় রকমের দুর্যোগের বছর: হাওরাঞ্চলসহ প্রায় সারা দেশেই বন্যায় ব্যাপক ফসলহানি ঘটেছে; বিপুলসংখ্যক দরিদ্র মানুষ সর্বস্বান্ত হয়েছে, যারপরনাই কষ্ট পেয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে অনেক মানুষ মারা গেছে। এবং মিয়ানমারে জাতিগত নিধনযজ্ঞ থেকে রক্ষা পেতে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। ফলে একদিকে তারা দুর্বিষহ জীবনের মুখোমুখি, অন্যদিকে বাংলাদেশ এক বিরাট সংকটের মুখোমুখি। এই সংকট কাটাতে আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক ও দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে আমাদের অনেক কিছু করতে হবে। অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, কিন্তু বিনিয়োগ আগের মতোই থেমে আছে। তাই চলমান প্রবৃদ্ধির ধারা কতটা টেকসই হতে পারে, এমন প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ তুলেছেন। বছরজুড়েই বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিসহ ব্যাংকিং খাতের নানা কেলেঙ্কারি আলোচনায় থাকলেও এর হোতাদের চিহ্নিত বা শাস্তির আওতায় আনা যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি ঘটেছে: গুম ও ‘নিখোঁজ’ আতঙ্কজনক মাত্রা অর্জন করেছে। নতুন বছরের প্রত্যাশা, এগুলো যেন বন্ধ হয়। রাজনীতিতে কোনো পরিবর্তন সূচিত হয়নি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যা স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত, রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে কোনো আলাপ-আলোচনা নেই। দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্রেও কোনো পরিবর্তন আসেনি। এ রকম অবস্থায় আমরা প্রবেশ করলাম নির্বাচনী বছরে: ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠিত হয়েছে এবং সেই কমিশন আগামী সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে একটি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। কমিশন প্রায় তিন মাস ধরে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, নারীনেত্রী ও নির্বাচন পরিচালনায় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপ করে। জনগণ প্রত্যাশা করে, এ বছর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেই নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে। এই সাধারণ জনপ্রত্যাশা বাস্তব করতে হলে সব পক্ষের আন্তরিক সদিচ্ছ প্রয়োজন। সরকারপক্ষের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। কার্যকর ও প্রাণবন্ত জাতীয় সংসদ ও সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই—নতুন বছরে সব রাজনৈতিক পক্ষের এই উপলব্ধি জাগুক। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সংহত হোক।

0 comments:

Post a Comment