Last update
Loading...

ঝুঁকিতে নাগরিকদের তথ্যভাণ্ডার

প্রায় সাড়ে ১০ কোটি নাগরিকের ভোটার তথ্যসংবলিত ডাটা ফাইল হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে গুরুতর এবং এই আশঙ্কার কথা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ। ঝুঁকি দেখা দেয়ার কারণও রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আওতাধীন তথ্যভাণ্ডারের (ডাটাবেজ) হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার আপডেট করা হয়নি; উপরন্তু নেই প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার। কমিশনের ওরাকল এক্সাডাটা সিস্টেমের স্টোরেজ ক্ষমতা শেষ হওয়ায় সেখানে নতুন কোনো ডাটা সংযোজন করা হচ্ছে না। এ ছাড়া আটটি ডাটাবেজ সার্ভারের তিনটি সতর্কবার্তা দিয়েই চলেছে। অটোমেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেমসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সফটওয়্যারও আপডেট না করায় সেগুলো নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিপদও ঘটেছে এসব কারণে। বছরের শুরুর দিন সব ভোটারের তথ্য নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, পরে ব্যাকআপ ডাটাবেজ থেকে তা পুনরুদ্ধার করা হয়। এমতাবস্থায় নাগরিকদের তথ্যভাণ্ডার নিরাপদ ও নিশ্চিত রাখার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে ৩৭২ কোটি টাকার জরুরি বাজেট চাওয়া হয়েছে।
বোঝাই যাচ্ছে, সংকট গভীর; যদিও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ বলছে, সার্ভার নিয়ে কারিগরি ঝুঁকি থাকলেও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝামেলা নেই। আমাদের কথা হল, সার্ভারের সুরক্ষার বিষয়টি এই নাজুক অবস্থায় পড়ল কেন? প্রধান সার্ভার ডাউন থাকলে ওই সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সেবা দিতে পারেন না কমিশনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এর অনিবার্য ফল হচ্ছে নাগরিকদের ভোগান্তি। দ্বিতীয়ত, খসড়া ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণের প্রশ্নটিও সার্ভারের কার্যকারিতার ওপর নির্ভরশীল। ২ জানুয়ারি সারা দেশে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে এবং তাতে রয়েছে নানা অসঙ্গতি ও ত্রুটি। সার্ভারের ত্রুটির কারণে ভোটারের বায়োমেট্রিক ম্যাচিং রেজাল্ট যথাসময়ে সঠিকভাবে করা হয়নি, ফলে খসড়া ভোটার তালিকায় ভুলভ্রান্তি থেকে গেছে। নাগরিকদের তথ্যভাণ্ডার একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষণাগার। এই সংরক্ষণাগারের সুষ্ঠু কার্যকারিতার ওপর শুধু সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্নই জড়িত নয়, এর সঙ্গে সম্পর্কিত রয়েছে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুতরাং সার্ভারের ত্রুটিসহ যেসব কারণে নাগরিকদের তথ্যসমূহ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, সেগুলোর মেরামত জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই সমস্যা সমাধানে নির্বাচন কমিশনের কাছে যে অর্থ চাওয়া হয়েছে, জরুরি ভিত্তিতেই তা মঞ্জুর করতে হবে। সব ধরনের ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে নাগরিকদের ডাটাবেজের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হবে বলেও ধরে নেয়া যায়।

0 comments:

Post a Comment