Last update
Loading...

অবরোধেও পণ্য আমদানি বেড়েছে কাতারে

অব্যাহত অবরোধে বিভিন্ন খাতে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি আরও সুগম করার ল‌ক্ষ্যে কাতার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো সাফল্যের মুখ দেখছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। গত ছয় মাসে কাতারে পণ্য আমদানির বিকল্প বাজার খুঁজে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে কাতার সরকারের আমদানি-রপ্তানি ও বাণিজ্য-সংশ্লিষ্ট বিভাগও পণ্য আমদানি ও খালাসে আগের চেয়ে দ্রুতগতিতে কাজ করছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত নভেম্বরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কাতারে পণ্য আমদানির পরিমাণ ছিল ৯৭ ভাগ, যা মে মাসে ছিল ৮২ দশমিক ৮ ভাগ। ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে স্থানীয় চাহিদা প্রায় পুরোটা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। কাতার কাস্টমস কর্তৃপ‌ক্ষের চেয়ারম্যান আহমদ আবদুল্লাহ মনে করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এই পণ্য আমদানি কাতারের জনগণ ও স্থানীয় অর্থনীতিকে সংকটমুক্ত রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এটা কাতার সরকারের দক্ষতারই প্রমাণ। এ নিয়ে কথা হয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গেও।
বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, নির্মাণ খাতসহ অন্যান্য খাতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী এখন কাতারের বাজারে মজুত রয়েছে। তবে দাম আরেকটু সহনীয় পর্যায়ে এলে তা তাঁদের জন্য ভালো হবে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা। নির্মাণসামগ্রীর বেশির ভাগ পণ্য বর্তমানে ওমান হয়ে জাহাজে সমুদ্রপথে কাতারে ঢুকছে। নিয়মিত বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ থেকে খাদ্যপণ্য আমদানি করেন এমন ব্যবসায়ীরা প্রথম আলোকে জানান, তাঁরা গত ছয় মাসে আমদানির পরিমাণ আগের চেয়ে বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশের বাজার থেকে তা সংগ্রহ করে কাতারের বাজারে আমদানিতে তাঁরা কাতার সরকারের সহযোগিতা পাচ্ছেন। ব্যবসায়ী হাজি বাশার সরকার বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন আগের চেয়ে স্বাভাবিক। আমরা বিকল্প উপায়ে আমদানি অব্যাহত রেখেছি। অামদানি খরচ কিছুটা বাড়লেও পণ্য সংকট নেই।’ আরেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী শরিফুল হক সাজু বলেন, ‘বেশির ভাগ পণ্য এখন সমুদ্রপথে আসছে। ফলে পণ্য পৌঁছানোর সময়ে কিছু পরিবর্তন হলেও তা আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আপাতত আর সংকটের সম্ভাবনা দেখছি না।’ এ ছাড়া কাতারের অর্থনীতি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্য এবং সেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানির ব্যাপারে তথ্য দিয়ে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করছে। ফলে কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপকারী আরব আমিরাত ও সৌদি আরব থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ হলেও অল্প সময়ে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে কাঙ্ক্ষিত পণ্যের বাজার খুঁজে পেয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

0 comments:

Post a Comment