Last update
Loading...

প্রথম ছুটির দিনেই জমে উঠেছে বাণিজ্য মেলা

প্রথম শুক্রবারেই জমে উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায়। সকাল ১০টায় গেট খোলার সাথে সাথেই মেলায় প্রবেশ করতে থাকেন দর্শনার্থীরা। সকালে তেমন ভীড় না হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে প্রায় ভরে যায় মেলা প্রাঙ্গন। বিকেলে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় পুরো মেলা প্রঙ্গন। যদিও দর্শনার্থীর তুলনায় বেচা-কেনা হয়েছে খুব সামান্যই। অধিকাংশ দর্শনার্থী এদিক-ওদিক ঘুরেছেন, দেখেছেন বিভিন্ন পণ্যের মান ও দাম। দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ছুটির দিনে অফিস ও কাজের চাপ না থাকায় অনেকেই পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছেন। আবার স্কুল এবং কোচিংয়ের বিড়ম্বনা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী দল বেঁধে এসেছেন মেলায়। নানা বয়সের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে বাণিজ্য মেলার মাঠ। বিক্রি তেমন না হলেও গৃহস্থলী এবং শিশু ও নারী সামগ্রীর স্টলগুলোতে ভিড় বেশি লক্ষ্য করা যায়। ইলেক্ট্রনিক পণ্য, রান্নার সামগ্রী ও পোশাকের দোকানগুলোতেও চোখে পড়ার মতো ক্রেতা-দর্শনার্থী দেখা গেছে। তবে দেশী স্টল ও প্যাভিলিয়নের মতো জমজমাট অবস্থা দেখা যায়নি বিদেশী প্যভিলিয়নগুলোতে। বন্ধুদের সাথে দল বেঁধে মেলায় ঘুরতে আসা ধানমন্ডির একটি কলেজের শিক্ষার্থী রোমেল বলেন, আজ ছুটির দিন। কলেজ বন্ধ, নেই কোচিংয়ের প্যারাও। তাই বন্ধুরা মিলে মেলায় ঘুরতে এসেছি। কোনো কিছু কেনার উদ্দেশ্য নেই। মেলার মাঠ ও বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখবো। যতক্ষণ ভালো লাগে বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিব, আনন্দ করব। মাঝে মধ্যে এটা ওটা কিনে খাব। মিরপুরের বাসিন্দা নাজমা আক্তার বলেন, বাণিজ্য মেলার শুরুর দিন থেকে বাচ্চারা ঘুরতে আসার আবদার করছে। তাদের আবদার পূরণ করতে মেলায় এসেছি। তবে আজ কেনাকাটার খুব একটা ইচ্ছা নেই। আজ ঘুরে ঘুরে দেখাই মূল উদ্দেশ্য। জিনিসপত্রের দাম দেখছি। এখনও দাম বেশিই মনে হচ্ছে।
মেলার শেষের দিকে দাম কিছুটা সহনীয় হয়ে এলে কেনাকাটা করার ইচ্ছা আছে বলেও জানান তিনি। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ায় খুশি বিক্রেতারাও। একটি পোশাকের স্টলের বিক্রেতা আমিনুল বলেন, একে একে মেলার চারটা দিন চলে গেলেও ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় তেমন ছিল না। আজ ছুটির দিন হওয়ায় ভিড় কিছুটা বেড়েছে। তবে বিক্রি পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। এরপরও দর্শনার্থীরা স্টলে এসে ঘুরে ঘুরে দেখছেন তাতেই আমরা খুশি। আমাদের প্রত্যাশা মেলার শেষ অর্ধেকে বিক্রি বাড়াবে। এবারের বাণিজ্য মেলার প্রধান প্রবেশদ্বার নির্মাণ করা হয়েছে পদ্মা সেতুর আদলে। মেলার দুই প্রান্তে সুন্দরবন ইকোপার্কের আকৃতি দেয়া হয়েছে। করা হয়েছে শিশুকর্নার ও অর্কিড বাগান। মেলায় বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন, ফ্লাওয়ার গার্ডেন, ই-শপ, শিশুপার্ক, প্রাইমারি হেলথ সেন্টার, মা ও শিশুকেন্দ্র, রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্রসহ ৩২ ধরনের সেবা ও অবকাঠামো থাকছে। বিদেশী অংশগ্রহণকারী হিসেবে ১৭ দেশের ৪৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। মোট ৫৮৯টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন থাকছে। এর মধ্যে বড় প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ১১২টি, মিনি প্যাভিলিয়ন ৭৭টি ও বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট স্টল ৪০০টি। প্রবেশ মূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা। মেলায় ১০০টি সিসি ক্যামেরা থাকছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বক্ষণ মনিটরিং করছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা বাণিজ্য মেলা চলবে।

0 comments:

Post a Comment