Last update
Loading...

প্রধান দুই দল দুই মেরুতে

সব কিছু ঠিক থাকলে বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারির পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে অনুযায়ী শুরু হওয়া ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের কাছাকাছি সময়ে নির্বাচন হওয়ার কথা। সরকারের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরাও আগাম বা মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা উড়িয়ে দিয়ে ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে বলে বারবার ঘোষণা দিয়ে আসছেন। সে অনুযায়ী বলা যায়, নতুন বছর হবে নির্বাচনের। এক বছরেরও কম সময় থাকলেও এখনো নির্বাচন নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিপরীত অবস্থানে প্রধান এ দুই রাজনৈতিক দল। বিএনপি জোট নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে অনড়। একই সাথে নির্বাচনের প্রস্তুতিও রয়েছে তাদের। একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় এবং সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় যাবে বলে মনে করছে বিএনপি জোট। অন্য দিকে বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন হবে বলে ঘোষণা দিয়ে আসছে সরকার।
বিএনপি আসুক আর না আসুক এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড করতে চাচ্ছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা। সেই লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে দলটি। বিভিন্ন কারণে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী জোটের বর্জনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি জোট ওই নির্বাচন বাতিলের দাবিতে নির্বাচনের আগে ও পরে টানা আন্দোলনে রাজপথ নিজেদের দখলে রাখে। পুলিশ ও প্রশাসনের কঠোর দমনের মধ্যেও সরকারবিরোধী আন্দোলনে সারা দেশ একরকম অচল হয়ে পড়ে। সরকারবিরোধী আন্দোলন ও পুলিশি অ্যাকশনে হতাহত হন রাজনৈতিক কর্মীসহ বহু নিরীহ মানুষ। দেশে-বিদেশে বিএনপি জোটকে নিয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ সত্ত্বেও একতরফা নির্বাচনের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে সরকার। সারা দেশে ৫ শতাধিক ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ, ব্যালট বাক্স ছিনতাই এবং প্রিসাইডিং অফিসারসহ বহু হতাহতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ‘ভোটারবিহীন’ ওই একতরফা নির্বাচন। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। এ নির্বাচন নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অন্য দিকে সরকারবিরোধী আন্দোলন অব্যাহত থাকে নির্বাচনের পরেও। বহির্বিশ্বের কূটনৈতিক চাপ এবং তুমুল আন্দোলনের মুখে একপর্যায়ে সরকার এ নির্বাচনকে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নির্বাচন অভিহিত করে শিগগিরই আরেকটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ঘোষণা দেয়। এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপি জোটও আন্দোলন থেকে সরে আসে। তবে সময়ের সাথে সাথে নানা কৌশলে সরকার অবস্থান বদলাতে শুরু করে। বিরোধীদের বাধা বিঘœ ও আন্দোলন না থাকায় নিজেদের ধীরে ধীরে শক্তিশালী মনে করে সরকার। একপর্যায়ে সরকার পূর্ব ঘোষণা থেকে সরে এসে নতুন সরকারকে বৈধ ও পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত বলে দাবি করে। সরকারের প্রথম বর্ষ পূর্তিকে কেন্দ্র করে আবারো রাজপথে আন্দোলনে নামে বিএনপি জোট। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী নির্দলীয় সরকারের অধীনে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বচনের দাবিতে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন। এতে হতাহত হন কয়েক হাজার মানুষ।
টানা তিন মাসের অবরোধে সারা দেশ আবারো অচল হয়ে পড়ে। তবে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক ধরপাকড় ও দমন-পীড়নের মুখে সেই আন্দোলন আর সামনে এগোতে পারেনি। মাঝে গুম, হামলাÑ মামলায় জর্জরিত সরকারবিরোধী বিএনপি-জামায়াত জোট রাজপথে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও সরকার আর সেই সুযোগ দেয়নি। এখন সরকারও মেয়াদের শেষ দিকে। অথচ এখনো নির্বাচন নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। নতুন বছরে নির্দলীয় সরকারের অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করাই বিএনপির প্রধান চ্যালেঞ্জ। এর একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করতে চায় দলটি। প্রাথমিকভাবে আলোচনার মাধ্যমেই নিজেদের দাবি আদায় করতে চান দলের নেতারা। তবে দাবি আদায়ে আলোচনার পাশাপাশি মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলের নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতেও বলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দলটি কয়েক স্তরে প্রার্থীও ঠিক করে রেখেছে বলে শোনা যাচ্ছে। জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে দলের বেশ কয়েকজন নীতিনির্ধারক ও অরাজনৈতিক ব্যক্তি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা চূড়ান্ত করছেন। শিগগিরই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তা জাতির সামনে উপস্থাপন করবেন। আর নির্দলীয় সরকারের সেই রূপরেখায় ঠিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচনকালীন সরকারে রাখার প্রস্তাব দেয়া হবে। সেই প্রস্তাবের আলোকে মতাসীন সরকারকে আলোচনায় বসার আহ্বানও জানাবে বিএনপি। প্রস্তাবটি মেনে নিয়ে সরকার আলোচনায় না বসলে আন্দোলনের বিকল্প পথই বেছে নেবে দলটি। ইতোমধ্যে দলের নেতাকর্মীদের আন্দোলন এবং নির্বাচনের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নিতে বলেছেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি সূত্রে জানা যায়, সহায়ক সরকার ও নির্বাচনকালীন রূপরেখা নিয়ে সরকার যদি বিএনপির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে তাহলে পরবর্তী করণীয় নিয়েও চিন্তাভাবনা করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা। তবে দলের সিনিয়র নেতাদের বড় অংশই বলছেন, দাবি নিয়ে রাজপথমুখী হওয়া ছাড়া বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। সে েেত্র দেশব্যাপী ‘শান্তিপূর্ণ’ কর্মসূচিই দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এর আগে সহায়ক সরকারের প্রস্তাবের পে দেশ-বিদেশে জনমত তৈরির চেষ্টা করা হবে। এ নিয়ে ২০ দলীয় জোট ছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশিষ্ট নাগরিক, কূটনীতিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শও নেবে বিএনপি। শেষে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি নিয়ে ভিন্ন চিন্তাভাবনাও রয়েছে বিএনপি জোটের। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সমঝোতায় না এলে তুমুল আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারকে দাবি আদায়ে বাধ্য করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছেন দলটির নীতিনির্ধারকেরা।
আর নির্দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি জোটকেই জনগণ আবারো বেছে নেবে বলে আশাবাদী তারা। অন্য দিকে সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠানে অনড় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর মাধ্যমে টানা তৃতীয়বার বিজয়ী হয়ে হ্যাট্রিক করতে বছরের শুরু থেকে মাঠে নামছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। তৃণমূল পর্যায়ে কোন্দল মেটানো, সরকারের উন্নয়ন প্রচার, কর্মীদের চাঙ্গা করে সাংগঠনিক গতি বাড়াতে আগামী ১২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশব্যাপী এসব টিম মাঠে নামছে। তারা বিভিন্ন কর্মিসভা ও জনসভায় অংশ নেবেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিভিন্ন এলাকা সফর করবেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ফিরিস্তির পাশাপাশি বিএনপি এবং জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকে কাজে লাগাতে চায় আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বানচালের ল্েয বিএনপি-জামায়াতের ‘জ্বালাও-পোড়াওয়ের সহিংস’ আন্দোলনের তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরবে দলটি। উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আবার সরকার গঠনে আওয়ামী লীগের অপরিহার্যতাও জনগণের সামনে তুলে ধরতে নতুন বছরে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণায় মাঠে নামবে আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে দলীয় এমপি-মন্ত্রী এবং দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীকে উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে নির্বাচনী প্রচারণা এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। নির্বাচনের বছরজুড়ে আরো ব্যাপকভাবে এ প্রচার-প্রচারণা চালাতে চায় দলটি। নতুন বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে মাসব্যাপী মাঠে থাকতে ইতোমধ্যেই তৃণমূলে চিঠি দিয়েছে মতাসীন আওয়ামী লীগ। গত মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) থেকে পাঠানো দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বারিত এ চিঠিতে ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র রা দিবস উপলে সারা দেশে সভা-সমাবেশ পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, ২০৪১ সাল পর্যন্ত নানা পরিকল্পনার কথা বলা হলেও আওয়ামী লীগের টার্গেট অন্তত আরেক মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা। সে জন্য আগামী নির্বাচনেও মতায় আসা নিশ্চিত করতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি। আর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যত ধরনের কৌশল নেয়া দরকার তার সবাই নেয়া হবে। তবে ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত করতে গিয়ে সরকারবিরোধী বিএনপি জোটের নির্বাচনকালীন সহায়ক বা অন্য কোনো সরকারের দাবি মেনে নেয়া হবে না বলে জানিয়েছে তারা। এ ক্ষেত্রে বিএনপি নির্বাচনে না এলেও এবার আর কোনো উদ্যোগ নেবে না সরকার। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মতায় আসার পর আওয়ামী লীগ নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্প শুরু করে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কম করেও আরো পাঁচ বছর সময় প্রয়োজন। আর এ উন্নয়ন কার্যক্রম সমাপ্ত হলে তা আওয়ামী লীগের জন্য সুদূরপ্রসারী সুফল বয়ে আনবে। অন্য দিকে বিএনপি জোট ক্ষমতায় গেলে বা কোনো কারণে আওয়ামী লীগ আগামী মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে না পারলে এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্তিমিত হয়ে পড়তে পারে। সে জন্য আগামী মেয়াদেও ক্ষমতায় থাকতে চায় আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া পরপর দুই মেয়াদে ক্ষমতার বাইরে থেকে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা। সরকারের মারমুখী অবস্থান এবং নানা ধরনের হামলা, মামলা ও দমন-পীড়নের মুখে গত কয়েক বছর রাজপথে দাঁড়াতে পারেনি নেতাকর্মীরা। এতে কোনো ধরনের বাধা বিপত্তি ছাড়াই যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পেরেছে সরকার। সে জন্য আগামী মেয়াদেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে এবং বিএনপি ক্ষমতার বাইরে থাকলে দলটি নামসর্বস্ব দলে পরিণত হবে বলে মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। এতে নেতাকর্মীরাও হাতাশায় পড়বে, যা পরবর্তী মেয়াদগুলোতেও আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকা নিশ্চিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্য দিকে আওয়ামী লীগ এবার ক্ষমতাচ্যুত হলে দলটির নেতাকর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে পারে। বিএনপি জোটের নেতাকর্মীদের ওপর যে দমন-পীড়ন চলেছে তার চরম মূল্য দিতে হতে পারে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের।
সে জন্য আপাতত আরেক মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা নিশ্চিত করতে চায় আওয়ামী লীগ। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করাই মতাসীন আওয়ামী লীগের নতুন বছরের নতুন ল্য। দলটির একাধিক নেতা জানান, আগামী ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হবে। স্বাধীনতার এ সুবর্ণজয়ন্তী জমকালোভাবে উদযাপন করা হবে অনেক আগে থেকেই এমন ঘোষণা দিয়ে রেখেছে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনসহ একাধিক অনুষ্ঠানে এমন ঘোষণা দেন। এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেই বলা হয়েছিল, বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করা হবে। এরই মধ্যে নি¤œœ-মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। সুবর্ণজয়ন্তীর আগেই মধ্যম আয়ের দেশের পর্যায়ে পৌঁছার আশা করছে সরকার। এ ছাড়া ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন করতে চায় আওয়ামী লীগ। এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের মিলনমেলার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে, যা ক্ষমতার বাইরে থাকলে সম্ভব না-ও হতে পারে। তাই আগামী মেয়াদেও মতায় আসা নিশ্চিত করতে চায় আওয়ামী লীগ। সে জন্য শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপিকে একচুলও ছাড় দেবে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া বিএনপিকে নির্বাচনে আনার ব্যাপারেও কোনো রকম উদ্যোগ নেবে না সরকার। বিএনপি নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে তা কঠোর হাতে দমন করবে সরকার। পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠ দখলে রাখবে ক্ষমতাসীন দল। শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে না এলে আবারো সংবিধান অনুযায়ী একতরফা নির্বাচন করবে ক্ষমতাসীন জোট।

0 comments:

Post a Comment