Last update
Loading...

‘চুরির অভিযোগে মাথায় ডেকচি পরিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা’

‘ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন সেট চুরির অভিযোগে যুবক আবদুল হামিদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পেটানোর সময় তার চিৎকার যাতে বাইরে যেতে না পারে সেজন্য তার মাথায় সিলভারের ডেকচি পরিয়ে ও মুখে কাপড় গুঁজে পেটানো হয়।’ মঙ্গলবার আদালতে আসামি সাইফুল ইসলাম টিপু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য জানায়। জবানবন্দি শেষে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নে ২৩ নভেম্বর হামিদের লাশ উদ্ধার করা হয়। সোমবার রাত ১টার দিকে সিলেটের মাধবপুর থেকে এজাহারভুক্ত ২নং আসামি টিপুকে গ্রেফতার করে রাঙ্গুনিয়া পুলিশ। এরপর তাকে রাঙ্গুনিয়ায় আনা হয়। উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের বাচাশাহ নগর গ্রামের লোহারপুলের ফয়েজ আহমেদ ফজুর ছেলে টিপু মঙ্গলবার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল্লাহ কায়সার তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। জবানবন্দিতে টিপু বলে, নাগিব মাহফুজ অপুর ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন সেট চুরি করায় ২৩ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে হামিদকে তার বাসা থেকে আমি, ইমন ও রবি ডেকে আনি। গোচরা বাজারে অপুর দোকানে তাকে আটকে রেখে অপুসহ সবাই মিলে কিল-ঘুষি ও লাথি মারি। মারার সময় তার চিৎকার যাতে বাইরে না যায় সেজন্য তার মাথায় ডেকচি ঢুকিয়ে দেয়া হয়। লোহার পাইপ দিয়ে তাকে পেটানো হয়। এরপর ইলিয়াছের আনা ইয়াবা সবাই খেয়ে তাকে আরেক দফা পেটাই। এভাবে রাত ৯টা পর্যন্ত তাকে মারধর করা হয়। রাত ১০টার পর অন্যরা চলে যায়। অপু, আমি, ইলিয়াছ ও ইমন রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মারার পর হামিদকে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে গোডাউনে ভাত খেতে যাই। ভোর ৪টা ৪১ মিনিটে ফিরে তার নাকের কাছে আঙ্গুল নিয়ে দেখি তার নিঃশ্বাস নেই। তখন বুঝতে পারি সে মারা গেছে। তখন লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে মশারি দিয়ে তার সারা শরীর পেঁচিয়ে ফেলি। ইলিয়াছকে সিএনজি আনতে পাঠালেও মানুষের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় লাশ বাইরে নেয়া বন্ধ রাখি। পরের দিন রাতে গুম করার উদ্দেশ্যে দোকান বন্ধ করে বেতাগীতে সবাই মাছ ধরতে যাই। পরে শুনি পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করেছে। এ খবর জানার পর আমি ও অপু চট্টগ্রাম শহরে পালিয়ে যায়। সেখানে একদিন থাকার আমি সিলেটের মাধবপুরে বন্ধুর মেসে চলে যাই। আর অপু সেখান থেকে কিশোরগঞ্জে আরেক বন্ধুর কাছে চলে যায়। ইয়াবা সরবরাহকারী ইলিয়াছকে ৬ ডিসেম্বর গ্রেফতার করে পুলিশ।
ইলিয়াছও ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে। ২৬ নভেম্বর গিয়াস উদ্দিনকে আটক করে পুলিশ। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। ঘটনার মূল হোতা অপুসহ ইমন, টিপু, আকাশ, আরিফ ও সাঈদসহ অনেকের নাম বলেছে ইলিয়াছ ও গিয়াস। হামিদের খালু ও পোমরা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ সোলায়মান ২৪ নভেম্বর রাতে রাঙ্গুনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় পোমরা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের আবু তাহের বাবুল মাস্টারের ছেলে সন্ত্রাসী অপু (২৬), পোমরা লোহারপুল এলাকার ফয়েজ আহমদ ফজুর ছেলে টিপু (২২), ইমাম শরীফের ছেলে মো. ইমন (২২), আহমদুর রহমানের ছেলে মো. রবি (১৯), মো. ইদ্রিসের ছেলে মো. গিয়াস উদ্দিন (২৫), ইসলাম মিয়ার ছেলে মো. আলমগীর (২৫) ও একই গ্রামের মো. বেলাল (২৫) এবং ইমাম বাড়ির দিদারুল আলম দিদুর ছেলে মো. আকাশ (২১) ও গুণগুণিয়া বেতাগী গ্রামের আমিনুল হকের ছেলে মো. আরিফকে (২২) আসামি করা হয়। রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ মো. আহসানুল কাদের ভুঁঞা জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মূল খুনি অপুসহ অন্যদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। শিগগিরই তাদেরও গ্রেফতার করা হবে।

0 comments:

Post a Comment