Last update
Loading...

নতুন ভ্যাট চালু হয়নি

২০১৭ সালে অর্থনীতিতে অন্যতম বড় আলোচিত ঘটনা হলো নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না হওয়া। ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে শেষ মুহূর্তে এসে ভ্যাট আইন দুই বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়।  গত ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এর আগে অবশ্য দুবার আইনটির বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়া হয়। এখন ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে আইনটি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংস্কারের পদক্ষেপ আটকে গেল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এর প্রভাব পড়তে পারে অন্য সংস্কার কার্যক্রমে। বছরের প্রায় অনেকটা সময়জুড়েই নতুন ভ্যাট আইনটি আলোচনায় ছিল। বিশেষ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক বাজেট আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই ব্যবসায়ীরা নতুন আইনটির সমালোচনা শুরু করেন। নতুন আইনে একটাই ভ্যাট হার নির্ধারণ করা হয়। এই হার ছিল ১৫ শতাংশ। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল ভ্যাট হার কমানো এবং একাধিক হারে ভ্যাট আরোপ করা। প্রথম দিকে ব্যবসায়ীরা নতুন আইনে প্যাকেজ ভ্যাট প্রথা বহাল রাখার দাবি করলেও শেষ দিকে এটি নিয়ে তেমন জোরালো দাবি করতে দেখা যায়নি। ব্যবসায়ী ও এনবিআরের মধ্যে প্রতিবছর বাজেট যৌথ পরামর্শক সভা হয়। এটিই সবচেয়ে বড় প্রাক বাজেট আলোচনা। গত ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ওই সভায় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।
উভয় পক্ষ ‘হুমকি’ ও ‘পাল্টা হুমকি’ দেয়। ব্যবসায়ীরা নতুন ভ্যাট আইনের বিরোধিতা করে আন্দোলনের হুমকি দেন। জবাবে অর্থমন্ত্রী আন্দোলন দমনের পাল্টা হুমকি দেন। এমন নজিরবিহীন ঘটনার মধ্য দিয়ে সরকার ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে অনড় থাকে। গত ১ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজেট বক্তৃতায় ১ জুলাই থেকেই নতুন আইন বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। তিনি বাজেট বক্তৃতায় বলেন, নতুন আইনটি পুরোপুরি কার্যকর করতে রাজস্ব প্রশাসন প্রস্তুত। এরপর ব্যবসায়ীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয় আরও উচ্চপর্যায়ে। শেষ পর্যন্ত ২৮ জুন জাতীয় সংসদে ভ্যাট আইন দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই বছরটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের বছর হতে পারত। কিন্তু আমরা সংস্কারের সেই সুযোগটি হারিয়েছি। আগামী নতুন আয়কর ও শুল্ক আইন বাস্তবায়নের উদ্যোগও এগোবে না।’ তাঁর মতে, একটি আইন বাস্তবায়নের আগে নানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন, জাতীয় সংসদে পাস ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন-এসব প্রক্রিয়া শেষ করে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের ঠিক আগমুহূর্তে পিছিয়ে যাওয়া সরকারের জন্য বিব্রতকর। কোনো দেশে এমন দেখা যায়নি।

0 comments:

Post a Comment