Last update
Loading...

মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন ফ্লিন, জানতেন ট্রাম্প

রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন যে এফবিআইকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা জানতেন। মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে (এফবিআই) মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন ফ্লিন। গত শুক্রবার ফ্লিনের স্বীকারোক্তির একদিন পরই ট্রাম্প মুখ খুললেন। গতকাল শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘ফ্লিন কেবল ভাইস প্রেসিডেন্টই নয়, এফবিআইকেও মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। এ জন্য আমি তাঁকে বরখাস্ত করেছিলাম।’ টুইটারের ওই বার্তায় তিনি আরও বলেন, এফবিআইকে মিথ্যা বলার বিষয়টি তাঁর বরখাস্ত হওয়ার অন্যতম কারণ। হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ধরনের টুইট পরস্পরবিরোধী। কেননা, এর অর্থ দাঁড়ায় জেনারেল ফ্লিনকে বরখাস্ত করার আগেই এফবিআইকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার বিষয়টি জানতেন ট্রাম্প। এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী জন ডড জানিয়েছেন, ট্রাম্প যা বোঝাতে চেয়েছিলেন তা তিনি যথাযথভাবে প্রকাশ করতে পারেননি। হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার শিবিরের শীর্ষস্থানীয়দের অন্যতম ছিলেন ফ্লিন। ২০১৬ সালের ওই নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্তের মধ্যে এফবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে এবিসি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পই তাঁকে রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছিলেন বলে ফ্লিন আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই করার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছিলেন ট্রাম্প। ফ্লিনকে কখন ট্রাম্প যোগাযোগ করতে বলেছিলেন এবং ওই নির্দেশনা অবৈধ কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার নয়। ২০১৬ সালের নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে ফ্লিন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের আগে রাশিয়ার তৎকালীন রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াকের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এফবিআই। এর জের ধরে গত ফেব্রুয়ারিতে পদত্যাগ করেন ফ্লিন। মাইকেল ফ্লিন গত শুক্রবার স্বীকার করেন, ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদন্তের সময় তিনি এফবিআইকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও ভুল তথ্য’ সরবরাহ করেছিলেন। এ ছাড়া তিনি এখন থেকে এই তদন্তে মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করতেও রাজি হয়েছেন। মাইকেল ফ্লিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও সাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়েছেন।

0 comments:

Post a Comment