Last update
Loading...

মিয়ানমারের সেনাদের ধর্ষণযজ্ঞ -এপির সর্বশেষ প্রতিবেদন

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা বালিকা, যুবতী, নারীদের ওপর সেনাবাহিনীর ধর্ষণযজ্ঞ ব্যাপক। বার বার তাদের দ্বারা এই নিকৃষ্টতম অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। ২৫ শে আগস্ট থেকে তা আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ২৯ জন রোহিঙ্গা নারীর সাক্ষাতকার নিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। এরপর ১১ই ডিসেম্বর দীর্ঘ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তারা। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে বর্তমানে অবস্থান করছেন এসব রোহিঙ্গা নারী। তারা মিয়ানমারের বিভিন্ন গ্রাম থেকে এমন নির্যাতিত হয়ে পালিয়ে এসেছেন। ততে তাদের সবার কাহিনী মোটামুটি একই রকম। তবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এমন অভিযোগ বার বার অস্বীকার করেছে। সাক্ষাতকার দেয়া ২১ নারীর জবানবন্দি তুলে ধরা হয়েছে এই রিপোর্টে। এতে তারা শুধু তাদের নামের প্রথম অংশ প্রকাশে রাজি হয়েছেন। পুরো নাম প্রকাশ করলে দেশে ফিরলে তাদেরকে অথবা তাদের পরিবারের সদস্যদের সেনারা হত্যা করবে এমন আতঙ্ক রয়েছে। এমন একজন বালিকার বয়স মাত্র ১৩ বছর। সে নিজেকে নামের প্রথম অংশের ইংরেজি প্রথম অক্ষর ‘আর’ দিয়ে প্রকাশ করেছে। বলেছে, তাকে মিয়ানমারের সেনারা ভয় দেখিয়েছে। গত বচর তার পিতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সেনারা। এ বছরে আগস্টের একদিনে তার বাড়িতে জোর করে প্রবেশ করে ১০ সেনা সদস্য। তার কাছ থেকে কেড়ে নেয় তার ছোট দুই ভাইকে। তাদেরকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে তারা। এরপর তাকে প্রহার করে। এ অবস্থা দেখে ‘আর’ বাড়ির সামনের দরজা দিয়ে দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করে। কিন্তু সেনারা তাকে ধরে ফেলে। তার দু’হাত বেঁধে ফেলে দুটি গাছের সঙ্গে। একে একে তারা কান থেকে টেনে ছিড়ে নেয় কানের দুল ও হাত থেকে ব্রেসলেট। তারপরই ঘটতে থাকে সবচেয়ে জঘন্য অধ্যায়। তার পোশাক একেবারে কেড়ে নেয়া হয়। এ সময় ‘আর’ চিৎকার করতে থাকে। তাদেরকে থামতে বলে। কিন্তু হায়েনার বুকে কোনো অনুকম্পা থাকে না। একে একে তার দিকে পিশাচের চেহারা নিয়ে এগিয়ে আসতে থাকে সেনারা। প্রথমজন তাকে ধর্ষণ শুরু করে। এ সময় ভয়াবহ বেদনায় কুঁকড়ে যাচিছল ‘আর’। এমনি করে একে একে ১০ জন তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারপর তাকে ফেলে যায়। এ অবস্থায় তার বড়ভাই তাকে নিয়ে আসে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে। বাংলাদেশে প্রবেশের পর চিকিৎসকরা তাকে জরুরি ভিত্তিতে জন্মবিরতিকরণ চিকিৎসা দেন। জীবন বাঁচাতে পারলেও নিজের সেই ছোট্ট দুই ভাইয়ের কোনো খোঁজ আজও পায় নি ‘আর’। এখনও ঘুমাতে গেলে সেই আতঙ্ক তাকে গ্রাস করে। খেতে পারে না ঠিকমতো।
‘এফ’কে দু’বার ধর্ষণ করা হয়
আরেক ধর্ষিতার নামের প্রথম অক্ষর ইংরেজি ‘এফ’। তিনি ও তার স্বামী জুনে বাড়িতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তখন। এমন সময় সাত জন সেনা সদস্য তাদের বেডরুমে প্রবেশ করে। তারা তার স্বামীকে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। একটি স্কার্ফ গুঁজে দেয় তার মুখের ভিতর। এরপর ‘এফ’-এর স্বর্ণালংকার কেড়ে নেয় তারা। একে একে কেড়ে নেয় সব পোশাক। তারপর তাকে ছুড়ে মারে মেঝেতে। সেখানেই প্রথম একজন সেনা সদস্য তাকে ধর্ষণ করতে থাকে। এ সময় তার স্বামী মুখ থেকে ওই স্কার্ফ খুলে ফেলতে সমর্থ হন এবং চিৎকার করেন। তখন এক সেনা সদস্য তাকে গুলি করে হত্যা করে। আরেকজন সেনা সদস্য তার গলা কেটে ফেলে। ধর্ষণ শেষে সেনা সদস্যরা বাড়ির বাইরে এনে ফেলে রাখে ‘এফ’-এর নগ্ন শরীর। তারপর তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে চলে যায়। প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে উদ্ধার করেন তাকে। দু’মাস পরে ‘এফ’ বুঝতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। এই যখন অবস্থা তখন সেপ্টেম্বরে আবার সেই ভীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি। এক প্রতিবেশীর বাড়িতে গভীরঘুমে ‘এফ’ তখন ওই বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে ৫ সেনা সদস্য। এ সময় তারা ৫ বছর বয়সী একটি শিশুর গলা কেটে ফেলে। হত্যা করে তার পিতাকে। আবারও ‘এফ’-এর পোশাক কেড়ে নেয় সেনারা। দু’সেনা সদস্য তাকে ধর্ষণ করে। অন্য তিনজন ধর্ষণ করে ‘এফ’-এর এক বান্ধবীকে। এরপর তারা মেঝেতে তাদেরকে ফেলে চলে যায়। এর পরে এই ধর্ষিতারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন।
নাস্তা খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ‘কে’
আগস্টের শেষ। এক সকালে স্বামী সন্তানদের নিয়ে নাস্তা খেতে বসবেন কে। এ সময় তিনি শুনতে পেলেন গ্রামে ব্যাপক শোর চিৎকার। তার স্বামী ও বড় তিন সন্তান বাইরে বেরিয়ে এলেন। ওই সময় ‘কে’ ছিলেন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার ছিল দুটি ছোট্ট শিশুও। ফলে তিনি তাদেরকে নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারেন নি। এ সময় সেনা সদস্যরা তার বাড়িতে প্রবেশ করলো। ‘কে’কে বিছানার ওপর ফেলে দিল। কেড়ে নিল প্রথমে তার স্বর্ণালঙ্কার ও অর্থ সম্পদ। এরপর তার পোশাক কেড়ে নিতে থাকে। হাত ও পা বেঁধে ফেললো রশি দিয়ে। তিনি এতে বাধা দিলে তাকে প্রহার করা হয়। এরপরই তাকে ধর্ষণ শুরু করে তারা। ভয়ে তিনি নড়াচড়া করার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। একজন সেনা সদস্য তার চোখের মণির ওপর একটি ধারলো ছুরি ধরে রাখে। আরেকজন তার বুকের ওপর বন্দুক তাক করে রাখে। অন্য একজন তাকে ধর্ষণ করে। পর্যায়ক্রমে তিন জনই তাকে ধর্ষণ করে। রক্তাক্ত হয়ে পড়েন ‘কে’। তিনি তখন নিশ্চিত হয়ে যান, তার গর্ভস্থ শিশু হয়তো মারা গেছে ততক্ষণে। তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। যখন চেতনা ফেরে তখন নরপিশাচরা চলে গেছে। এরপর ধর্ষিত হওয়ার জন্য তাকে দায়ী করতে থাকেন তার স্বামী। কারণ, তিনি তাদেরকে অনুসরণ করে পালাতে পারেন নি। এরপর ওই পরিবারটি পালিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছে। এর দু’সপ্তাহ পরে এখানেই একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ‘কে’।

0 comments:

Post a Comment