Last update
Loading...

উপাচার্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচন সামনে রেখে উপাচার্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছেন সাবেক একজন উপাচার্য। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থী প্রাক্তন গ্র্যাজুয়েটদের একাংশের প্যানেল ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল জোট’-এর ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাবেক উপাচার্য শরীফ এনামুল কবির এই অভিযোগ করেন। গতকাল বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার দ্বিতীয় তলায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শরীফ এনামুল কবির। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের ১৬ বছর পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেটে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। নির্বাচনে আমাদের প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সাধারণত নির্বাচনপ্রক্রিয়া চলাকালে প্রশাসন বা রিটার্নিং কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট সব দলের পরামর্শ গ্রহণ করেন। কিন্তু প্রশাসন এই রীতির ব্যত্যয় ঘটিয়েছে। নির্বাচনের কোনো পর্যায়েই আমাদের প্যানেলে কাউকে মত প্রকাশ করতে দেওয়া হয়নি।’ সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ‘নির্বাচনী সংবিধি অনুযায়ী উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন। কিন্তু উপাচার্য ফারজানা ইসলাম রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের আগেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। এ ছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তাকে পাশ কাটিয়ে লিখিত আদেশের মাধ্যমে তিনি ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত করেছেন।’ শরীফ এনামুল কবির বলেন, জোট মনে করে, কোনো পক্ষকে বিশেষ সুবিধা দিতে উপাচার্য এমন করেছেন। এটি সুস্পষ্ট নির্বাচনবিধি লঙ্ঘন। বক্তব্যপাঠ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
‘এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। আমি চাই নির্বাচন হোক।’ সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জোটের প্রার্থী ও বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি মো. মোতাহার হোসেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ, ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির পরিচালক কে এম আককাছ আলী, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মো. শাহেদুর রশিদ। প্রসঙ্গত, অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রার্থী। উপাচার্য ফারজানা ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কোনো সংবিধি লঙ্ঘিত হয়নি। কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হককে ১১ সেপ্টেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ১২ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য বলতে যা বোঝানো হচ্ছে, তা হলো ভোটারদের মুঠোফোন নম্বর। শুরুতে কোনো প্রার্থীকে এসব নম্বর না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু কেউ কেউ নম্বর পেয়ে গেছেন, এমন অভিযোগের পর আমি সব প্রার্থীকে এসব নম্বর দিতে বলেছি। ১৭ ডিসেম্বর এটা হয়েছে। তাঁরাও (প্রগতিশীল জোট) এসব নম্বর পেয়েছেন।’ উপাচার্য বলেন, ‘দীর্ঘ ১৯ বছর পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নিয়ে অনেকের অনেক রকম অনুভূতি থাকতে পারে। কিন্তু আমি আশা করি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে।’

0 comments:

Post a Comment