Last update
Loading...

বন্ধু কেমন আছিস

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার হাট দারিয়াপুর সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে গতকাল রোববার বসেছিল প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা। বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে দুই দিনের এ মিলনমেলার আয়োজন করেছে বিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। সুবর্ণজয়ন্তীর এ আনন্দ উৎসবের স্লোগান ছিল ‘এসো মিলি প্রাণের মেলায়’। প্রাণের এ মেলায় বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশ থেকে ছুটে আসেন নাড়ির টানে প্রাণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সকালে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা আনন্দ শোভাযাত্রা বের করেন। শোভাযাত্রাটি স্থানীয় দারিয়াপুর-বরইচারা গ্রাম ঘুরে বিদ্যালয় চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মিলিত হয়। মাগুরা-১ আসনের সাংসদ মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আবদুল ওয়াহ্হাব প্রধান অতিথি হিসেবে সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। ১৯৮৭ সালে বৃহত্তর যশোর জেলার শ্রেষ্ঠ এ বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের স্মারক বক্তা ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক কাজী ফয়জুর রহমান। বিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পঙ্কজ কুমার কুণ্ডু। অন্যদের মধ্যে অধ্যাপক মাজেদা খাতুন, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক কাজী শরিফুল ইসলাম, বর্তমান সভাপতি প্রকৌশলী কাজী শরিফুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী ইমাম হোসেন, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম মেহেদী আহসান প্রমুখ বক্তব্য দেন। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র শ্রীপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নির্মল কুমার সাহার ও এনটিভির বার্তা সম্পাদক এস এম আকাশের সঞ্চালনায় দুই দিনের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে সাবেক শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণা, উন্মুক্ত আড্ডা, স্মৃতির পাতা থেকে পেছনে ফিরে দেখা, র‍্যাফল ড্রসহ ছিল নানা আয়োজন।
১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ৪০ থেকে ৪৫ বছর পর অনেকে এ সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এসেছেন। দিন গড়িয়ে কিশোর থেকে যৌবন। যৌবন পেরিয়ে অনেকে আজ বৃদ্ধ। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অনেকেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। কুশলবিনিময়ের পাশাপাশি সাবেক শিক্ষকদের খুঁজে খুঁজে পা ছুঁয়ে সালাম করছিলেন কেউ কেউ। স্মৃতির পাতা উল্টেপাল্টে দেখছিলেন অনেকে। যেসব শিক্ষক মারা গেছেন, তাঁদের কথা স্মরণ করছিলেন কেউ কেউ। তাঁদের শাসন-ভালোবাসার কথা বলে আবেগতাড়িত হচ্ছিলেন। ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখার পাশাপাশি প্রিয় বিদ্যালয় ঘুরে দেখছিলেন অনেকে। প্রাক্তন এক ছাত্রের মুখ থেকে আফসোসের সুর শোনা গেল। ‘ইশ্‌, দেখতে দেখতে বুড়ো হয়ে গেলাম। অথচ মনে হয় এই সেদিনের কথা। ক্লাসে বসে আছি। স্যার ক্লাস নিচ্ছেন।’ এক প্রাক্তন ছাত্র প্রিয় বন্ধুকে বুকে জড়িয়ে কেঁদে ফেললেন। বলছিলেন, ‘বন্ধু কেমন আছিস? কত দিন দেখা হয়নি। আমার কথা তোর মনে আছে? সেই যে...।’ কত কথা। কত স্মৃতির রোমন্থন। সকাল গড়িয়ে বিকেল হয়। তা-ও জমে থাকা কথা, আড্ডা যেন শেষই হয় না। ‘দুই দিনের অনুষ্ঠান। তাই বাকি কথা কাল হবে। কাল কিন্তু সকাল সকাল আসিস,’ এমন কথা বলে বিদায় নিতে দেখা গেল কয়েকজনকে। সাজানো-গোছানো চমৎকার পরিপাটি সুবর্ণজয়ন্তীর এ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাসহ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান তিন সহস্রাধিক ছাত্রছাত্রী অংশ নেন। সন্ধ্যায় ঢাকার ও স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক ও নাট্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

0 comments:

Post a Comment