Last update
Loading...

জেরুজালেমকে ইসলায়েলের রাজধানীর ঘোষণার প্রতিবাদে ট্রাম্পকে রুখতে জাতিসংঘে উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার প্রতিবাদে গতকাল লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তের একটি দেয়ালের লেবানন অংশে ‘জাফা অরেঞ্জ ট্রি’ এবং জেরুজালেম ওল্ড সিটির পবিত্র ‘ডোম অব দ্য রক’ বা কুব্বাত আস-সাকরাহর ছবি আঁকেন শিল্পীরা। জাফা অরেঞ্জ ট্রিকে ফিলিস্তিনে আরব ও ইহুদিদের সহযোগিতার প্রতীক মনে করা হয় l ছবি: এএফপি
জেরুজালেমের স্থিতাবস্থার বিরুদ্ধে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের আইনগত ভিত্তি নেই এবং পবিত্র এই ভূমিকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা বাতিল করতে হবে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এমন প্রস্তাব আনার চিন্তাভাবনা চলছে।
এদিকে এএফপি বলেছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সমর্থনে পূর্ব জেরুজালেমে শিগগিরই তুরস্কের দূতাবাস খোলার আশা প্রকাশ করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। গতকাল রোববার এ আশা প্রকাশের পাশাপাশি সম্প্রতি জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা স্বীকৃতিকেও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
এক পাতার ওই খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে মিসর। গত শনিবার তা নিরাপত্তা পরিষদের সব কটি সদস্যদেশের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এই খসড়া নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করা হলে তা ব্যাপক সমর্থন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এতে ভেটো দিতে পারে।
কূটনীতিকেরা জানান, কয়েক দিনের মধ্যে এই খসড়ার ওপর ভোটাভুটি হতে পারে। নিরাপত্তা পরিষদে কোনো প্রস্তাব পাস হতে নয়টি সদস্যরাষ্ট্রের ইতিবাচক ভোট এবং স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া ও চীনের ভেটো না থাকলেই হয়।
৬ ডিসেম্বর ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
খসড়ায় বলা হচ্ছে, পবিত্র শহর জেরুজালেমের স্থিতাবস্থা এবং জনসংখ্যা বিন্যাস পাল্টে দেয়, এমন কোনো সিদ্ধান্তের আইনি প্রভাব থাকবে না। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের বিপরীত কোনো সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা থাকবে না এবং সব কটি রাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর আরব লিগের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মিসরের কায়রোতে বৈঠক করেন। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) বৈঠক হয় তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর এই সংগঠনগুলো জাতিসংঘের মাধ্যমে পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
বিক্ষোভ চলছে
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গতকাল রোববারও বিক্ষোভ হয়েছে ফিলিস্তিনের গাজা ও পশ্চিম তীরের রামাল্লায়। পশ্চিম তীরের নাবলুসে এক ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযোগ, তিনি বিস্ফোরক নিয়ে একটি সামরিক আদালতের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন।
এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় গতকাল প্রায় ৮০ হাজার লোক বিক্ষোভ করেছে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে। ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ উলামা কাউন্সিল এই মিছিলের আয়োজন করে। এটি ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এই পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। ক্ষোভ থেকে মার্কিন পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়া হয়। যে স্থানে প্রতিবাদ হচ্ছিল, তার কিছু দূরেই মার্কিন দূতাবাস।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স আগামী বুধবার ফিলিস্তিন-ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাতপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনে যাবেন। তাঁর সফরের সময় মার্কিন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী দল ফাতাহ।

0 comments:

Post a Comment