Last update
Loading...

বাগমারায় আলু এখন গোখাদ্য কেজি ৭ টাকা

আলুর দাম কমছেই। বর্তমানে এক বস্তা আলু (৮৫ কেজি) তিন থেকে চারশ’ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন কোল্ডস্টোরেজ থেকে এ দামে আলু বিক্রি হচ্ছে। আর বাজারে খুচরা বিক্রি হচ্ছে সাত টাকা কেজি। গরুর খাদ্যের দাম বাজারে বেশি। এর বিপরীতে আলুর দাম অনেক কম। এ কারণে আলু এখন গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি মৎস্যচাষীরাও পুকুরে মাছের খাবার হিসেবে আলু ব্যবহার করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবারও আলুচাষী ও ব্যবসায়ীরা বেশি দামের আশায় আলু স্টোরে মজুদ করেছেন। কিন্তু বর্তমানে বাজারে অন্য সবজির দাম বেশি হলেও আলুর দাম নিতান্তই কম। বাজারে কেজিপ্রতি পটোল ৩০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা ও ঝিঙ্গা ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ আলু বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি মাত্র পাঁচ থেকে সাত টাকায়। বাজারে নতুন আলু বিক্রি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আর কোল্ডস্টোরেজ থেকে আলু কিনছেন না। ফলে কোল্ডস্টোরেজগুলোতে পাইকারি ব্যবসায়ী না যাওয়ায় জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বাধ্য হয়ে স্টোরজাত আলু ফাঁকা করতে কম দমে আলু ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন কোল্ডস্টোরেজ কর্তৃপক্ষ। ফলে এ সুযোগ নিচ্ছেন গরুর খামারের মালিক ও মৎস্যচাষীরা। বাগমারা উপজেলার দ্বিপপুর গ্রামের গরুর খামারি শফিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে গরুর খাবার খইল ও ভূসির দাম বেশি। এ কারণে গরুর খাবার হিসেবে আলু ব্যবহার করা হচ্ছে। দু’দিন আগে মাত্র চারশ’ টাকা করে ছয় বস্তা আলু কিনেছি। আমার মতো গরুর খামারি ছাড়াও মৎস্যচাষীরা মাছের খাবার হিসেবে আলু ব্যবহার করছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম জানান, উপজেলায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন এবং দুটি পৌরসভার চারটি কোল্ডস্টোরেজে আট লাখ বস্তা আলু মজুদ করা হয়। কিন্তু আলুর দাম কমে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভা সদরের ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম কোল্ডস্টোরেজে আলু রেখেছিলেন এক হাজার ২শ’ বস্তা। তিনি বলেন, বেশি লাভের আশায় আলু বিক্রি করিনি। কিন্তু বর্তমানে বাজারে আলুর যে দাম তাতে আমার মতো অন্য ব্যবসায়ীদেরও মাথায় হাত। চলতি মৌসুমে আমার প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতি হবে। উপজেলার বসার কোল্ডস্টোরের স্টোরকিপার আইনুল হক বলেন, নতুন আলু উঠতে শুরু করেছে। বাজারে বর্তমানে তা ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ কারণে পুরাতন আলুর ক্রেতা মিলছে না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্টোর ফাঁকা করতে হবে। এ কারণে তারা অলস সময় কাটাচ্ছেন। পাশাপাশি আলুর দাম কমে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের মতো আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

0 comments:

Post a Comment