Last update
Loading...

রংপুরের প্রভাব পড়বে জাতীয় নির্বাচনেও : এরশাদ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, গুম, খুন, ধর্ষণ ও দুর্নীতি থেকে রক্ষা পেতে মানুষ রংপুর সিটি নির্বাচনের মতোই ভবিষ্যতের সব নির্বাচনে লাঙ্গলে আস্থা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস। তিনি আরও বলেন, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রভাব আগামী জাতীয় নির্বাচনেও পড়বে। কারণ মানুষ এ সরকারের পরিবর্তন চায়। রংপুরে তা প্রমাণিত হয়েছে।
শনিবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে পিরোজপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর জাতীয় পার্টিতে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আরও বক্তব্য দেন পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, এসএম ফয়সল চিশতী, সুনীল শুভরায়, মেজর (অব.) খালেদ আখতার ও নাসরিন জাহান রতœা। এরশাদ আরও বলেন, খুন, গুম, ধর্ষণের চিত্র দেখলে মনে হয় দেশে সরকার নেই। জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু ক্ষমতায় টিকে থাকার চিন্তায় সরকার তার দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় এলে জনগণের জানমালের দায়িত্ব নেবে। অন্য রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুই সরকারই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তাই তারা কেউই চায় না আমার নামে করা মামলার নিষ্পত্তি হোক। কোনো দলই আমার বন্ধু না। জনগণ আমার বন্ধু। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টি নিন্দিত নয় নন্দিত দল। ১৯৯০ সালে ক্ষমতা ছাড়লাম, কথা ছিল আমাকে নির্বাচন করতে দেয়া হবে। জানতাম নির্বাচন করলে জয়ী হব। কিন্তু নির্বাচন করতে দেয়া হয়নি। আমাকে জেলে পাঠানো হল। ছয় বছর জেলে কাটিয়েছি। পৃথিবীর কোনো নেতা টানা এতদিন জেলে ছিল না। আওয়ামী লীগকে বারবার সমর্থন দিলাম। বিনিময়ে কী পেলাম?
আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে দিয়ে দল ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে। অঙ্গীকার ভঙ্গ করল। তিনি বলেন, কেউ আমাদের বন্ধু না, আমাদের বন্ধু আমরাই আর জনগণ। ডা. মিলন হত্যার বিচার দাবি করে সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, মিলন চত্বর আমি করলাম। আমার হাতে রক্তের দাগ নেই। জাতীয় পার্টি দেশের অবস্থার পরিবর্তন করেছে। যমুনা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর করলাম। অথচ উদ্বোধনের সময় আমাকে মঞ্চে রাখা হল না। আগামীতে আমরা ক্ষমতায় এসে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করব। পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার যোগদানকারী সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীসহ সবাইকে অভিবাদন জানিয়ে বলেন, এরশাদের প্রতি আস্থা রাখতে হবে। এরশাদ জমানার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এরশাদের উন্নয়নের কথা নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে। সারা দেশে দলকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটবে। এর পূর্বাভাস রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আগামী প্রতিটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টি রংপুরের মতো বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হবে। এ সময় তিনি নাজিউর রহমান মঞ্জু ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর কথা উল্লেখ করে বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের সব মানুষ বেইমান না। আমি এরশাদের সঙ্গে আছি, সব সময় থাকব। এদিকে জাতীয় পার্টি থেকে সবশেষ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার দুই দশক পর পুরনো দলে ফিরেছেন ডা. রুস্তম আলী ফরাজী। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে দলে যোগ দেন তিনি। ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও পরে যোগ দেন বিএনপিতে। ২০০১ সালে বিএনপির টিকিট নিয়ে সংসদ সদস্য হন। ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে হেরে যান ডা. রুস্তম আলী ফরাজী। এরপর থেকে আর তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হননি। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে ফের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে জিতে আসেন। ওই নির্বাচনের পর আরও ১৩ জন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের সঙ্গে ফরাজী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্রই থেকে যান তিনি। ফরাজীকে স্বাগত জানিয়ে যোগদান অনুষ্ঠানে এরশাদ বলেন, ‘আজ বড় আনন্দের দিন,
আমাদের রুস্তম আলী ফরাজী জাতীয় পার্টিতে ফিরে এসেছেন, হারানো বন্ধুকে ফিরে পেলাম, তাকে অভিনন্দন জানাই।’ এদিকে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেয়া সম্পর্কে ডা. রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ব্যবহার তাকে মুগ্ধ করেছে। সে জন্য ফের আগের দলে ফিরে এসেছেন তিনি। ডা. রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ‘এ মুহূর্তে দেশে এরশাদ সাহেব পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করেন। উনি (এরশাদ) একজন ভদ্র মানুষ, তাই জাতীয় পার্টিতে যোগ দিলাম।’ তিনি বলেন, ‘আগে আমি জাতীয় পার্টির রাজনীতি করতাম। ১৯৯৬ সালে পিরোজপুর-৩ আসন থেকে পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করি। তখন হেরে গেলে পরে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করে জয়ী হই। আসলে আমি একজন খাঁটি স্বতন্ত্র এমপি। যেহেতু নির্বাচন আসন্ন তাই দেখলাম বাইরে থেকে কী লাভ? দলে যোগ দিই। এ জন্য এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন সময় আমার ভোটার-সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলি। তারাও আমায় উৎসাহ দিয়েছেন।’ এলাকার মানুষের মতামত নিয়েই জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছেন জানিয়ে ডা. ফরাজী বলেন, ‘কর্মী-সমর্থকরা সবাই বলেছেন- এরশাদ সাহেবের পার্টিতে যোগ দিতে। তাই কোনো হইহুল্লোড় নয়, আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করব।’ আগামী নির্বাচনের টিকিট নিশ্চিত করতেই যোগদান কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. ফরাজী বলেন, ‘তা তো অবশ্যই। তাছাড়া আমি এলাকায় জনপ্রিয়। নির্বাচনে টাকা-পয়সারও দরকার আছে। তাই বাইরে না থেকে দলে ফিরলাম।’

0 comments:

Post a Comment