Last update
Loading...

চট্টগ্রামেই তৈরি হচ্ছে সর্বনাশা ইয়াবা!

শুধু মিয়ানমার নয়, বাংলাদেশের চট্টগ্রামেও তৈরি হচ্ছে সর্বনাশা ইয়াবা। আর ইয়াবা তৈরির যন্ত্রাংশ তৈরি হচ্ছে নগরীর ওয়ার্কশপেই। এ মরণনেশার কাঁচামাল সংগ্রহ করা হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রামের খোলা বাজার থেকে। নানা কৌশলে তৈরি ইয়াবা ‘আসল’ বলে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে সেবনকারীদের হাতে। মঙ্গলবার রাতে নগর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ইয়াবা তৈরির দুটি মেশিন, আড়াই লাখ পিস ইয়াবা এবং ১০ থেকে ১১ লাখ সমপরিমাণ ইয়াবা তৈরির কাঁচামালসহ চারজনকে গ্রেফতারের পর এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গ্রেফতার চারজন হল- কারিগর শ্যামল মজুমদার (৩৭), তার সহযোগী আবদুল্লাহ আল আমান (৩৪), মামুন হোসেন (৩২) ও আয়শা সিদ্দিকা (২৭)। ডবলমুরিং থানাধীন বেপারিপাড়া এলাকার কমিশনার গলির আবুল হোসেন সওদাগরের ভবনের ৩য় তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা তৈরির মেশিনসহ এ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার শ্যামল মজুমদার গোয়েন্দা কার্যালয়ে যুগান্তরকে জানায়, চট্টগ্রামের একসময়কার শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী রাখাল চন্দ্র দে’র কাছে তার ইয়াবা তৈরির হাতেখড়ি। ২০১২ সালে রাখাল চন্দ্র ও শ্যামল চকবাজার এলাকা থেকে ইয়াবা তৈরির মেশিনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়। রাখাল চন্দ্র কারাগারে মারা যায়। ২০১৪ সালে কারাগার থেকে জামিনে বের হয় শ্যামল। এরপর নগরীর মতিয়ার পুল এলাকার একটি ওয়ার্কশপ থেকে বানানো হয় ইয়াবা কারখানার সরঞ্জাম। চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন বাজার থেকে সংগৃহীত কাঁচামাল দিয়ে নিজেই তৈরি করে ইয়াবা। শ্যামল আরও জানান, তার মেশিনে প্রতি ডাইসে ৩০টি করে ইয়াবা তৈরি হয়। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার পিস ইয়াবা তৈরি করা যায়। তার সহযোগী আমান এবং মামুনসহ অন্যরা উৎপাদিত ইয়াবা বিক্রি করে। সে আরও জানায়, গত বছর পুলিশের একটি টিম তার ইয়াবা কারখানায় অভিযান চালায়।
পড়ে তারা ১৪ লাখ টাকায় সমঝোতায় পৌঁছে। শ্যামলের তৈরি ইয়াবা বিক্রেতা আবদুল্লাহ আল আমান যুগান্তরকে জানায়, প্রতি পিস ইয়াবা বাবদ শ্যামলকে ৩০ টাকা করে দেয় সে। আর সে প্রতি পিস ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা কিংবা আরও বেশি দামে বিক্রি করে। তার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা কিনে ঢাকার নাছির নামে এক ব্যক্তি। অধিকাংশ ক্রেতা মোবাইল ফোনে ইয়াবার অর্ডার দেয়। এর মধ্যে কেউ নিজে এসে ইয়াবা কিনে নিত, আবার কমিশনের মাধ্যমেও ইয়াবা বিক্রি করা হয়। আমান আরও জানায়, শ্যামলের কারখানায় উৎপাদিত ইয়াবা নকল। এটি সেবনকারীদের পায়খানাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে বলেন, ‘এটি চট্টগ্রামসহ দেশে ইয়াবা তৈরির সবচেয়ে বড় কারখানা। তারা ওই বাসার একটি কক্ষে দরজা বন্ধ রেখে ইয়াবা তৈরি করত। আয়শা সিদ্দিকাকে দিয়ে তারা বাসা ভাড়া নেয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজার পিস। এছাড়া ইয়াবা তৈরির বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল উদ্ধার করা হয়েছে। ওই কাঁচামাল দিয়ে আরও ১০ থেকে ১১ লাখ পিস ইয়াবা তৈরি করা সম্ভব। উদ্ধারকৃত সরঞ্জামের মধ্যে আছে দুটি ইয়াবা তৈরির মেশিন, চারটি ডাইস, এর একটির ওপর ইংরেজিতে লেখা আছে ‘আর’ এবং অপরটিতে ‘ডব্লিউ ওয়াই’।’ নগর পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মহসীন জানান, গ্রেফতার শ্যামল ইয়াবা তৈরির একজন দক্ষ কারিগর। সে আগেও ইয়াবা তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার হয়েছিল। অনেক দিন জেল খাটার পর জামিনে বেরিয়ে পুনরায় সে এ ব্যবসায় জড়িয়েছে। আর কোথায় ইয়াবা তৈরির কারখানা আছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।

0 comments:

Post a Comment