Last update
Loading...

‘আমাকে নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না’ by কামরুজ্জামান মিলু

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী সিমলা। অনেকদিন ধরেই চুপ রয়েছেন। মাঝে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অনেকে নতুন কাজ নিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। গতকাল মানবজমিনের সঙ্গে কথা বলেছেন সিমলা। তিনি বলেন, আমার মা অনেকদিন ধরেই বেশ অসুস্থ। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতে নিয়ে গিয়েছিলাম। কয়েকদিন আগে ঢাকায় ফিরেছি। এজন্য মাঝে সবাই ফোন বন্ধ পেয়েছে। সেজন্য আমি আন্তরিকবাবে দু:খিত। কাজের কি খবর জানতে চাইলে সিমলা বলেন, শিগগিরই আবারো রাশিদ পলাশের ‘নাইওর’ ছবির বাকি কাজ শুরু করব। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে নির্মাতা রাশিদ পলাশ শুরু করেছিলেন তার প্রথম ছবি ‘নাইওর’-এর কাজ। এ ছবির বেশ কিছু অংশের শুটিং হবার পর অনেকদিন ধরেই কাজ বন্ধ রয়েছে। গত বছরের এপ্রিলে অনলাইনে আপলোড করা হয়েছিল ছবির আড়াই মিনিটের টিজার। তবে এরপর ছবির বাকি কাজ এখনও শুরু হয়নি। কারণ কি জানতে চাইলে সিমলা বলেন, আমাকে নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না। আমি অভিনয়ের জন্য সবসময়ই প্রস্তুত। এ ছবির প্রযোজক একজন নারী। কাজ শুরু হবার পর তার বিয়ে হয়। তখন শুটিং বন্ধ ছিল, আবার কিছুদিন আগে তিনি মা হয়েছেন বলে জেনেছি। এর আগে ছবির শুটিং হয়েছে ঢাকার দুটি বস্তি, রমনা, এফডিসি ও রাজশাহীর বিভিন্ন জায়গায়। আমার বিপরীতে এ ছবিতে অভিনয় করছেন আনিসুর রহমান মিলন। ‘নাইওর’ ছবিতে একটা ভিন্নধর্মী চরিত্রে কাজ করেছি। এখানে আমার চরিত্রের নাম কমলা সুন্দরী। সে নাচ-গান করে। তার জীবনের সুখ-দুঃখ এ ছবিতে দর্শকরা দেখতে পাবেন। আমার ও মিলন ভাইয়ের কয়েকদিনের কাজ বাকি রয়েছে। আমার বিশ্বাস, খুব শিগগিরই এ ছবির কাজ শেষ হবে। ১৯৯৯ সালে প্রয়াত গুণী নির্মাতা শহীদুল ইসলাম খোকনের হাত ধরে বড়পর্দায় কাজ শুরু করেন সিমলা। নিজের অভিনীত প্রথম ছবি ‘ম্যাডাম ফুলি’। এ ছবি দিয়েই অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এরপর তার অভিনয়ে ‘পাগলা ঘন্টা’ নামের ছবিটি মুক্তি পায়। এরপর শুধুই সামনে এগিয়ে চলা। মাঝে অভিনয় বিরতি থাকলেও সবশেষ মাসুদ পথিকের ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ এবং হাবিবুর রহমান হাবিবের ‘রূপগাওয়াল’ ছবি দিয়ে আবারো আলোচনায় আসেন তিনি। ‘নাইওর’ ছবির বাইরে গত বছর রুবেল আনুশের ‘নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প’ ছবির শুটিং করেছেন সিমলা। এ ছবির কাজ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে ছবিটি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা কম হয়নি। এ ছবির গল্পে অপ্রাপ্ত বয়স্ক একটি ছেলের সঙ্গে তার প্রেম দেখানো হয়েছে। ছবিটি প্রসঙ্গে সিমলা বলেন, এ ছবির কাজ কয়েকমাস আগেই শেষ হয়েছে। তবে এতে দর্শক আমার ভয়েজ পাবেন না। কারণ এ ছবির ডাবিংয়ে আমি ছিলাম না। আর পরিচালককে আগে থেকেই বলা ছিল আমি ভয়েজ দিব না। ছবির কাজ শেষ করতেও অনেক দেরি করেছেন পরিচালক। ‘নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প’ ছবিতে অভিনয়ের পর থেকে আমাকে নিয়ে অকারণে নানা আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। তবে আমি অভিনয়কে ভালোবাসি বলেই সবকিছু মেনে নিয়ে ছবির কাজটি শেষ করেছি। আশা করছি, এ বছরই নতুন এ দুটি ছবি মুক্তি পাবে আমার। ক্যারিয়ারের বাইরে সিমলা নিজেকে নিয়ে কি ভাবছেন এখন জানতে চাইলে বলেন, নিজের মতো করেই পথ হাঁটতে পছন্দ করি আমি। তাই আলাদাভাবে কাউকে কিছু বলার নেই। লবি মেইনটেইন করে আমি ছবিতে কাজ করবো না। তাই এখন ভিন্নধর্মী গল্পে একটু বেছে বেছে কাজ করতে শুরু করেছি। সামনে ‘ম্যাডাম ফুলি’ ছবির সিক্যুয়াল হবে ‘ম্যাডাম ফুলি টু’। এটা আমার কাছে একটা স্বপ্নের প্রোজেক্ট। বর্তমানে চিত্রনাট্য লেখার কাজ চলছে। তাই আমার ভক্তদের উদ্দেশে বলতে চাই অপেক্ষায় থাকুন। ভালো কিছুই সামনে আসছে।

0 comments:

Post a Comment