Last update
Loading...

পণ্যবাহী কনটেইনার ও জাহাজজটে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মযজ্ঞে স্থবিরতা

ঈদের ছুটি শেষ হলেও এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জীবনযাত্রা। শিল্পের চাকা বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানিপণ্য ডেলিভারিতে স্থবিরতা বিরাজ করছে। ফলে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের ইয়ার্ডগুলোতে আমদানিপণ্য বোঝাই কনটেইনারের স্তূপ জমেছে। আমদানি কনটেইনার রাখার ইয়ার্ডগুলো এখন কানায় কানায় পূর্ণ। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পাঁচ হাজার আমদানিপণ্য পণ্যবাহী কনটেইনার নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ। এমনি পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থানকাল যেমনি বেড়েছে তেমনি সৃষ্টি হয়েছে জাহাজজটের। বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে ১২৩টি কর্মক্ষম (ওয়ার্কেবল) জাহাজের মধ্যে ৬৬টিতে কাজ হলেও ৫৭টি জাহাজ অলস বসে ছিল। বন্দর সূত্র জানিয়েছে, ঈদের ছুটি শেষ হলেও বিভিন্ন গার্মেন্ট কারখানাসহ শিল্প কারখানার বেশির ভাগেরই ছুটি এখনো শেষ হয়নি। ফলে বন্দরের কনটেইনার ডেলিভারিতে অনেকটা স্থবিরতা দেখা দেয়। সূত্র মতে, দৈনিক যেখানে তিন হাজার টিইইউএস (২০ ফুট সাইজের কনটেইনার হিসাবে) এর অধিক কনটেইনার ডেলিভারি হয় সেখানে গত তিন দিনে ডেলিভারি হয়েছে মাত্র ১৩ শ’ টিইইউএস কনটেইনার। বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৮৭৬ টিইইউএস কনটেইনার জাহাজ থেকে খালাস হলেও ডেলিভারি হয়েছে ৭১৩ টিইইউএস। সূত্র জানায়, ঈদের আগের দিন গত ২৫ জুন বন্দর ইয়ার্ডে যেখানে আমদানিপণ্য বোঝাই ২৬ হাজার ৭৫২ টিইইউএস কনটেইনার ইয়ার্ডে ছিল, গত বৃহস্পতিবার তা ছিল ৩১ হাজার ৮৮৯ টিইইউএস। এ ছাড়া খালি কনটেইনার ছিল ৫ হাজার ১১৪ টিইইউএস। বন্দর ইয়ার্ডে আমদানিপণ্য বোঝাই কনটেইনার ধারণক্ষমতা রয়েছে ২৬ হাজার ৮৫৭ টিইইউএস। সূত্র জানায়, বন্দর ইয়ার্ডে কনটেইনার রাখার ক্যাপাসিটি হিসাব করা হয় সিক্স হাই হিসেবে (প্রতি ভাঁজে ৬টি কনটেইনার)। সে কারণে বাস্তবে বন্দর অভ্যন্তরে এখন কনটেইনার মুভমেন্টই কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সূত্র দাবি করছে। সূত্র মতে, জেটিতে নোঙররত ১০টি কনটেইনার জাহাজ এবং বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ ২৬টি জাহাজ থেকে নামার অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টিইইউএস কনটেইনার। এমনিতেই ডেলিভারি কার্যক্রমে স্থবিরতা, এর ওপর গত ২৫ জুন বন্দরের সিসিটিতে জাহাজের ধাক্কায় গ্যান্ট্রিক্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গিয়ারলেস জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় সবচেয়ে বেশি দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বন্দরের তথ্যানুযায়ী গত ১৮ জুন বন্দরে আসার গিয়ারলেস কনটেইনার জাহাজ এখনো বার্থিংয়ের অপেক্ষায় আছে। এ ছাড়া বন্দরের জিসিবি (জেনারেল কার্গো বার্থ) এরিয়ায় কনটেইনারের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক আমদানিকৃত কাঠের রাউন্ডলগ, স্টিল বিলেট, স্টিল কয়েল, বিভিন্ন কৃষিজপণ্যসহ খোলা পণ্যের স্তূপ জমেছে বলে বন্দর সূত্র জানিয়েছে। তাদের মতে, যথাযথভাবে হ্যান্ডেল করা না গেলে সৃষ্ট জট নিরসনে আরো অন্তত ১৫ দিন লেগে যাবে, যা দেশের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। উল্লেখ্য, গত রোববার থেকে ঈদের ছুটি হলেও কার্যত ছুটি শুরু হয় শুক্রবার থেকে। পাশাপাশি এখন পর্যন্ত বেশির ভাহ শিল্প কারখানায় ঈদের ছুটি শেষ না হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ থাকায় ডেলিভারিতে স্থবিরতার ফাঁদে পড়েছে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের বিশাল কর্মযজ্ঞ।

0 comments:

Post a Comment