Last update
Loading...

বাংলাদেশে গোপনে আটক করে রাখা হয়েছে অনেককে -এইচআরডব্লিউ’র রিপোর্ট

বাংলাদেশে গুম ছাড়াও গোপনে আটক রাখা হয়েছে অনেক মানুষকে। এসব গুম ও গোপনে আটক রাখা বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ও অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের জবাব দেয়ার জন্যও আহ্বান জানানো হয়েছে। ৫ই জুলাই নিউ ইয়র্ক থেকে এ বিষয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এতে বলা হয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী সহ কয়েক শ’ মানুষকে অবৈধভাবে আটক করে রেখেছে বাংলাদেশের আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষগুলো। তাদের অনেককে আটক রাখা হয়েছে সিক্রেটভাবে।
ওই রিপোর্টে বলা হয়, ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এমন গুম অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত বাংলাদেশ সরকারের। একই সঙ্গে এসব অভিযোগের দ্রুততার সঙ্গে পক্ষপাতহীন, নিরপেক্ষ তদন্ত করা উচিত। সংশ্লিষ্টদের পরিবারের কাছে এ বিষয়ে জবাব দেয়া উচিত। এরকমভাবে অধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সদস্যদের বিচার করারও দাবি জানানো হয়েছে ওই রিপোর্টে। ৯১ পৃষ্ঠার রিপোর্টের শিরোনাম ‘উই ডোন্ট হ্যাভ হিম’: সিক্রেট ডিটেনশনস অ্যান্ড এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সেস ইন বাংলাদেশ’। এতে বলা হয়, শুধু ২০১৬ সালেই বাংলাদেশে গুম হয়েছেন কমপক্ষে ৯০ জন। অনেককে সিক্রেটভাবে কয়েক সপ্তাহ বা মাস আটক রাখার পর তাদেরকে আদালতে তোলা হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ২১টি ঘটনা প্রামাণ্য হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যেখানে বন্দিদের পরে হত্যা করা হয়েছে। ৯ জন কোথায় আছেন এখনো জানা যায় নি। এতে আরো বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের আগস্টে বিরোধীদলীয় প্রথম সারির রাজনীতিকদের তিনজন ছেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সিক্রেটভাবে আটক রাখার ৬ মাস পরে তাদের একজনকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তবে অন্য দুজন রয়েছেন নিখোঁজ। ২০১৭ সালের প্রথম ৫ মাসে ৪৮ জন মানুষ নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সিক্রেট কারাগারে আটক রাখার সময়ে অনেককে নির্যাতন ও অশোভন আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।  এ বিষয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেছেন, গুমের ঘটনা প্রামাণ্য এবং এ বিষয়ে রিপোর্ট হয়েছে। কিন্তু সরকার আইনের প্রতি তোয়াক্কা না করে এই চর্চা চালিয়ে যাচ্ছে। লোকজনকে আটক, তাদেরকে দোষী বা নির্দোষ সাব্যস্ত করা, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা এমনকি তাদের বেঁচে থাকার অধিকার আছে কিনা সে বিষয়ে দৃশ্যত মুক্তভাবে ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের রিপোর্টে বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ১৯ নেতাকর্মীকে গুম করে দেয়ার অব্যাহত প্রক্রিয়া প্রামাণ্য আকারে রিপোর্টে উপস্থাপন করেছে। এতে বলা হয়, ২০১৪ সালের জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে ঢাকার ভেতর থেকে অথবা এর আশপাশ থেকে দু’সপ্তাহে আটটি ঘটনায় আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তুলে নিয়ে গেছেন ওই ১৯ জনকে। এ ঘটনাকে প্রামাণ্য আকারে তুলে ধরতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ওইসব ব্যক্তির পরিবারের সদস্য সহ শতাধিক মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। সেই সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বিস্তারিত অভিযোগ ও অন্যান্য আইনি ডকুমেন্ট। এসব ঘটনায় চিঠির জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, বেশির ভাগ ঘটনা ঘটিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) অথবা পুলিশের ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চ বা ডিবি। অথবা দু’পক্ষই। তাদের এমন নিয়ম ভঙ্গের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। বিরোধী দলের ১৯ সদস্যের বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, তাদের ৮ জনকে নিয়ে গেছে র‌্যাব, ৬ জনকে ডিবি। বাকিদের নিয়ে গেছে নিরাপত্তা বাহিনীর অজ্ঞাত সদস্যরা। রুহুল আমিন চৌধুরী বলেছেন, তিনি দেখেছেন ২০১৩ সালের ৫ই ডিসেম্বর তার ছেলে আদনান চৌধুরীকে নিয়ে যাচ্ছে র‌্যাব। তিনি বলেছেন, র‌্যাব কথা দিয়েছিল তাকে পরের দিনই ছেড়ে দেয়া হবে। তিনি তাদের সেই কথায় বিশ্বাস করেছিলেন। রুহুল আমিন চৌধুরী বলেন, কিন্তু তারা আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ে সুপরিচিত একজন নেতা সিরাজুল ইসলাম সুমন। তিনি নিখোঁজ রয়েছেন ২০১৩ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর থেকে। র‌্যাবের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে স্বীকার করেছিলেন যে, সুমন ও অন্য ৫ জন তার জিম্মায় আছেন। তিনি তাদেরকে হত্যা করার নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার পর তাদেরকে তার কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই কর্মকর্তা মনে করছেন ওই ৬ জনকেই হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু এমন আটকের কথা বরাবরের মতো অস্বীকার করছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। তাদের এ দাবিকে সমর্থন দিচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তারা। কখনো কখনো বলা হচ্ছে, এসব মানুষ স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করেছেন। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এসব স্বজনকে তুলে নিয়ে গেছে এমন অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো। কিন্তু পুলিশ এমন অভিযোগ অনুমোদন (এলাউ) করে না। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তার রিপোর্টে লিখেছে, রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে গোপন কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় এমন মৃত্যু উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ২০১৬ সালের ১৩ই জুলাই জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র বিষয়ক একজন কর্মী শাহিদ আল মাহমুদকে বাসা থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে নেয়া হয়। এরপর তাকে একটি কালো মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কাছে এ কথা বলেছেন তার পিতা রজব আলী। তিনি বলেছেন, তার ছেলেকে আটক করার সময় সেখানে পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে পরে তাদের কাছে রজব আলীর ছেলে থাকার কথা অস্বীকার করেন তারা। এর দু’সপ্তাহ পরে ১লা জুলাই পুলিশ বলে যে, তারা অপরাধীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের পর শাহিদের মৃতদেহ খুঁজে পেয়েছেন। তার পিতা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কাছে বলেন, এক্ষেত্রে পুলিশ মিথ্যা বলেছে। তার ভাষায়- ‘পুলিশ আমার ছেলেকে অপহরণ করেছে। তাকে হত্যার ঘটনাকে বৈধতা দেয়ার ক্ষেত্রে তারা বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়েছে।’
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ লিখেছে, যদিও ২০০৯ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুমের বিষয়ে শূন্য সহনশীলতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তা সত্ত্বেও এসব বিদ্যমান আছে। ২০০৯ সাল থেকে কমপক্ষে ৩২০টি গুমের ঘটনা ঘটেছে বলে মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো রিপোর্ট করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তি, জঙ্গি। এছাড়া রয়েছেন বিরোধীদলীয় সদস্যরাও। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ রিপোর্টে লিখেছে, এসব অভিযোগ তদন্ত করা ও যথাযথ ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও নিরাপত্তা বাহিনীতে সংস্কার নিশ্চিত করতে,  বাংলাদেশ সরকারের উচিত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের অফিসকে আমন্ত্রণ জানানো। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের উচিত এক্ষেত্রে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানানো। এর মধ্যে থাকতে পারে ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্সড অর ইনভলান্টারি ডিজঅ্যাপেয়ারেন্সেস, স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর অন টর্চার। তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে। এবং এক্ষেত্রে তারা যেসব জায়গায় যেতে চান এবং যেসব লোকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান তাদেরকে পূর্ণাঙ্গভাবে সেই সুবিধা দেয়া উচিত। ব্রাড এডামস বলেছেন, মানবাধিকার, মানুষের জীবন ও আইনের শাসনের প্রতি পুরোপুরি অবজ্ঞামূলক স্বভাব দেখাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এমনকি সরকার এসব অনিয়ম প্রত্যাখ্যান করতে বিব্রতবোধ করছে না। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকে যেসব কথা বলা হচ্ছে সে বিষয়ে তারা রয়েছে নীরব, নীরবতাই যেন ভর করেছে। এই নীরবতার শেষ হওয়া উচিত।
ওই রিপোর্টে প্রামাণ্য হিসেবে কয়েকটি গুমের তথ্য তুলে ধরা হয়। ২০১৬ সালের ১৮ই মার্চ তুলে নেয়া হয় আবুজর গিফারি নামে একজনকে। ২০১৬ সালের ১৩ই এপ্রিল গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয় তার। এ বিষয়ে  তার পিতা নূর ইসলাম বলেছেন, ঘটনার দিন জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হয় আমার ছেলে। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন মানুষ তার দিকে অগ্রসর হয়। সে তার নাম জানানোর পর পরই তার দু’হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে একটি মোটরসাইকেলে তোলা হয়। স্থানীয় অনেকে তাদেরকে থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের দিকে অস্ত্র তাক করে ওইসব ব্যক্তি। পাশাপাশি এ বিষয়ে তাদেরকে হস্তক্ষেপ না করতে শাসিয়ে যায় এবং বলে যে, তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছে।
২০১৬ সালে তুলে নেয়া হয় শাহিদ আল মাহমুদকে। ওই বছরেই ১৩ই জুন দু’সপ্তাহ পরে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তার পিতা রজব আলী বলেন, ঘটনার দিন মধ্যরাতের সামান্য পরে দু’ব্যক্তি বাঁশে তৈরি সীমানা ভেঙে বাসার সীমানায় প্রবেশ করে। তারা শাহিদের নাম ধরে ডাকতে থাকে, যেন তারা তার রাজনৈতিক সহযোগী। আমার স্ত্রী ও আমি জেগে যাই। গেটের কাছে ছুটে যাই। দেখতে পাই ওই দু’ব্যক্তিই সিভিল পোশাকে। তাদের একজন অস্ত্র ধরে আমাদেরকে হুমকি দিচ্ছে। ফলে আমি দরজা খুলে দেই। তারা ভেতরে প্রবেশ করে। নিজের রুম থেকে শাহিদকে তারা নিয়ে যায়। তারা এ সময় শাহিদকে তার পোশাক পরিবর্তন করতে দেয়। এরপর তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় বাইরে। সেখানে একটি কালো মাইক্রোবাসে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আরো মানুষ উপস্থিত ছিল। তাদের অনেকের পরনে ছিল পুলিশের পোশাক।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ লিখেছে, ২০১৩ সালের শেষের দিকে দু’সপ্তাহ সময়ের মধ্যে ঢাকার চারপাশ থেকে আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বিরোধী দলের ১৯ জন নেতাকর্মীকে তুলে নিয়ে যায়। এখনো তাদের কোনো খোঁজ মেলে নি। ২০১৬ সালের ২৬শে জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ রয়েছেন মোয়াজ্জেম হোসেন তপু। তার ভাই মইনুল হোসেন অপু বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে আমরা অ্যাপার্টমেন্টে ছুটে যাই। সেখানে একজন প্রহরী আমাদেরকে বলেন যে, অ্যাপার্টমেন্টের  ভেতরে সাদা পোশাকে তিনজন ব্যক্তি প্রবেশ করেছিলেন এবং মধ্যরাতের দিকে আমার ভাইকে তুলে নিয়ে গেছেন। ওই প্রহরী তাদের থামানোর চেষ্টা করছে তারা নিজেদেরকে ডিবির সদস্য বলে পরিচয় দেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ লিখেছে, ২০১৬ সালের ৯ই আগস্ট থেকে নিখোঁজ রয়েছেন মীর আহমেদ বিন কাশেম। তার বোন তাহেরা তাসনিম বলেন, দরজা খুলে দিতেই লোকগুলো আমার ভাবীর কাছে জানতে চান- আপনার স্বামী কোথায়? এরপর আমার ভাই দরজায় যান। তখন তাকে ওইসব লোক বলেন যে, আপনাকে আমাদের সঙ্গে যেতে হবে। এ সময় আমার ভাই জানতে চান- আপনাদের পরিচয় কি জানতে পারি? আপনারা কোন্‌ বাহিনীর? আপনারা কি র‌্যাব, সিআইডি, ডিবি? এ সময় তারা তাদের পরিচয় দেয় নি। তবু কয়েকবার একই প্রশ্ন করেন আমার ভাই। ওইসব লোকের পরনে কোনো ইউনিফর্ম ছিল না। তাদের কাছে কোনো বৈধ গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও ছিল না। কিছুই নয়। তারা শুধু বলেছিল- আমাদের সঙ্গে চলুন। আমার ভাই তখন বলেন, আমি একজন আইনজীবী। আমার তো এর কারণ সম্পর্কে জানতে হবে। তখন তারা বলেছিল, আপনাকে প্রস্তুত হওয়ার জন্য আমরা ৫ মিনিট সময় দেবো।  রেডি হয়ে আমাদের সঙ্গে চলুন। এ সময় আমি আমার ভাইয়ের সামনে দাঁড়ানো ছিলাম। আমি ওইসব ব্যক্তির একজনের হাত ধরে রেখেছিলাম। তিনি আমার হাত ছুড়ে ফেলে দিয়ে আমার ভাইকে আঁকড়ে ধরেন। আমরা তার পেছনে  পেছনে ছুটতে থাকি। পুরো এক দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে ছিলাম আমরা। বাইরে একটি সাদা মাইক্রোবাস ছিল। তারা তাকে এর ভেতর পুরে দিলো। তারপরই ওই গাড়িটি স্থান ত্যাগ করে। ২০১৩ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা থেকে নিখোঁজ হন ৬ জন। সেখানকার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, অকস্মাৎ আমরা দেখতে পাই কয়েকটি গাড়ি এগিয়ে আসছে। একাধিক গাড়ি। তবে সঠিক করে বলতে পারবো না কতগুলো। তার  ভেতর কালো পোশাক পরা কিছু মানুষ ছিল। তারা গাড়ি থেকে নামলো। তাদের হাতে ছিল অস্ত্র। গাড়িতে তখনো আলো জ্বলছে। ফলে লোকগুলোকে আমি দেখতে পেয়েছি। তাদের পোশাকের রঙ দেখতে পেয়েছি। একটি গাড়িতে লেখা ছিল র‌্যাব-১। তাই আমি নিশ্চিত ছিলাম যে এরা নিশ্চয় র‌্যাবের সদস্য। কারণ, তাদের পোশাক ও গাড়িতে র‌্যাব-১ লেখা লোগো দেখতে পেয়েছি। ২০১৩ সালের ৬ই ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ নিজাম উদ্দিন মুন্না। তার পিতা শামসুদ্দিন বলেন, আমি স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে গেলাম। ডিউটি অফিসার আমাকে বললেন, র‌্যাব বা আইন প্রয়োগকারী কোনো সংস্থার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করতে দেবে না তারা। ২০১৩ সালের ১২ই ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ সেলিম রেজা পিন্টু। তার স্ত্রী তারান্নুম নাবাস বলেন, দরজা খুলতেই তারা জানতে চায় আমার স্বামীই কি পিন্টু কিনা। জবাবে সে বলে- হ্যাঁ, আমিই পিন্টু। এরপরই দু’জন ব্যক্তি তাকে জাপটে ধরে। এ সময় পিন্টু তাদের পরিচয় জানতে চায়। জবাবে তারা বলে, তারা প্রশাসনের। পিন্টু তাদের আইডি কার্ড দেখতে চায়। তারা বলেন, কোনো সমস্যা হবে না। আপনি আমাদের কাছে নিরাপদ থাকবেন। এ সময় আমার স্বামী কোনো বাধা দেন নি।

0 comments:

Post a Comment