Last update
Loading...

পুরুষ সহকর্মীরা নগ্ন অবস্থায় রেবেকাকে জড়িয়ে ধরে- বৃটিশ সেনা, বিমান ও নৌ বাহিনীতে ভয়াবহ যৌন হয়রানির তথ্য

বৃটিশ সেনা, বিমান ও নৌ বাহিনীতে ভয়াবহ যৌন হয়রানির তথ্য মিলেছে। বলা হয়েছে ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে এসব বাহিনীতে কম করে হলেও ৩৬৩টি যৌন হয়রানির অভিযোগ আছে। তার মধ্যে শুধু গত বছরে মিলিটারি পুলিশ ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ১১৩টির তদন্ত করেছে। ফকল্যান্ডে রাজকীয় বিমান বাহিনীর (আরএএফ) একটি ঘাঁটিতে এ রকম যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন রেবেকা ক্রুকশ্যাঙ্ক নামের এক নারী। ওই ঘটনার ছবি প্রকাশ হয়েছে। তা বৃটিশ মিডিয়ায় ফলাও করে প্রকাশ করা হয়েছে। ওই সময় রেবেকা ছিলেন ২১ বছর বয়সী যুবতী। তিনি তখন ফকল্যাল্ডে আরএএফ মাউন্ড অ্যালিস ঘাঁটিতে নিয়োজিত ছিলেন। সেখানে পুরুষ সহকর্মীদের হাতে তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে দু’পুরুষ সহকর্মী নিজেরা একেবারে নগ্ন অবস্থায় রেবেকাকে জড়িয়ে ধরে শূন্যে তুলে নিয়েছেন। একজন সামনের দিকে। অন্যজন পিছন দিকে। তারপর তারা অসংলগ্ন আচরণ করছেন। ছবিতে এমন কিছু অংশ আছে যা সেন্সর করে প্রকাশ করতে হয়েছে। রেবেকা ১৭ বছর বয়সে যোগ দিয়েছিলেন রয়েল এয়ার ফোর্সে। তারপর সেখানে চার বছর দায়িত্ব পালন করে। এরপর ২০০১ সালে তাকে চার সপ্তাহের জন্য পাঠিয়ে দেয়া হয় ফকল্যান্ডের ওই ঘাঁটিতে। সেখানে প্রায় ২৮ জন পুরুষ সহকর্মীর মধ্যে তিনি একজনই ছিলেন নারী। বর্তমানে তার বয়স ৩৬ বছর। বসবাস উত্তর লন্ডনে। বর্তমানে তিনি একজন লেখিকা ও অভিনেত্রী। রেবেকা বলেছেন, তিনি ওই ঘাঁটিতে যোগ দেয়ার পরই তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন ওই পুরুষ সহকর্মীরা। তারা বলেছিলেন, এটাই অন্ধকার সময়ের সূচনা। সেখানে অশালীন আচরণ শুরু করেন তারা। তারই কিছু ছবি তুলে রেখেছিলেন রেবেকা। তিনি বলেন, এর পরে তাকে একজন পুরুষ কর্মকর্তার সঙ্গে নিজের বেডরুমে ব্যক্তিগতভাবে মিটিং করতে হয়েছিল। ওই পুরুষ কর্মকর্তা তাকে এসব বিষয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন। বিনিময়ে তাকে প্রস্তাব করেছিলেন টর্নেডো এফ-৩তে একটি ফ্লাইটে নেয়ার। রেবেকা বলেন, এখন সম্মুখ যুদ্ধে যোগ দিতে সক্ষম নারীরা। কিন্তু যেভাবে যৌন হয়রানির অভিযোগ বাড়ছে তাতে মনে হচ্ছে সেনাবাহিনী যথেষ্ট কাজ করছে না। যেখানে কর্মক্ষেত্রে সমতার শিক্ষা প্রশিক্ষণকালে দেয়া হয়। যৌন হয়রানি, অন্যান্য হয়রানির বিরুদ্ধে শূণ্য সহনশীলতার কথা বলা হয়, সেখানে প্রশিক্ষণের শুরুতে এসব বিষয় নজরে আনা দরকার। রেবেকার ভাষায়, এখন থেকে অনেক আগে ২০০১ সালে আমি যে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি তা আমার জীবনের ওপর বিরাট একটি প্রভাব ফেলেছে। আমার কণ্ঠকে থামিয়ে রাখা যাবে না। যদি অন্য কোনো মানুষ আমার কাহিনী পড়েন এবং তারা হোক সেনাবাহিনী বা অন্য যেকোনো কর্মক্ষেত্র সেখানকার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা যদি সাহস করে প্রকাশ করেন, তাহলে আমরা সবাই মিলে এ ধরনের আচরণ পাল্টাতে পারবো। অবিচারের বিরুদ্ধে শূণ্য সহনশীলতা দেখাতে পারবো। রেবেকা দাবি করেন, করপোরালরাও যুবতী প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। গত বছরে মিলিটারি পুলিশ এমন ১১৩ টি অভিযোগের তদন্ত শুরু করে। বলা হয়, প্রতি সপ্তাহে একজন নারী সদস্য দু’বার যৌন আক্রমণের শিকার হন। তথ্য পাওয়ার অধিকার সংক্রান্ত আইনের অধীনে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে মোট ৩৬৩ টি যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২৮২ টি মামলা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। ৯৯ জন  ইন্সট্রাক্টরকে বরখাস্ত করা হয়েছে।  এখন পর্যন্ত বৃটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এমন হয়রানির শিকার নারীদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছে ২০ লাখ পাউন্ডের বেশি। এ মন্ত্রণালয়ের মতে, মিলিটারি পুলিশ গত বছর ধর্ষণ, যৌন হয়রানি ও হয়রানির কমপক্ষে ১১৩টি অভিযোগ তদন্ত করেছে। তবে অনেক  যৌন নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দেয়া হয় বলে অভিযোগ আছে। বিবিসি প্যানোরমা তদন্তে দেখেছে যে, নির্যাতিতরা যাতে পুলিশের কাছে রিপোর্ট না করেন বা অভিযোগ দাখিল না করেন সে জন্য কর্মকর্তারা তাদেরকে চাপ দিয়েছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ক্যাডেটদের সুরক্ষা দেয়ার বিষয়টিতে জোর দেয়া হয়েছে।

0 comments:

Post a Comment