Last update
Loading...

ভালুকায় ৩৪০ টাকার আমন বীজ ৭৫০ টাকা

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার সর্বত্রই আমন বীজের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। মোট চাহিদার চেয়ে বিএডিসির বীজের বরাদ্দ কম থাকায় এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের তদারকির অভাবে ৩৪০ টাকার প্রতি বস্তা আমন বীজ কৃষকদের কিনতে হচ্ছে ৭৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায়। খোঁজ নিয়ে ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভালুকার সর্বত্রই আমন বীজের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সুষ্ঠু বাজার তদারকি ও চাহিদার চেয়ে বিএডিসির আমন বীজের বরাদ্দ কম থাকায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে ১০ কেজির প্রতি বস্তা ব্রী ধান ৪৯ বীজ ৩৪০ টাকার স্থলে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আসন্ন মৌসুমে ভালুকা পৌরসভাসহ ১১ ইউনিয়নে ১৯ হাজার ৪৫ হেক্টর জমি আমন ধান আবাদের জন্য লক্ষমত্রাা নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মাঝে উফসি ১৬ হাজার ৫৮০ হেক্টর ও স্থানীয় দুই হাজার ৪৬৫ হেক্টর চাষাবাদ করার কথা এবং এতে উৎপাদন লক্ষমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন ধান। আর এই পরিমান জমির জন্য আমন বীজের চাহিদা দেয়া হয়েছিল ৪৭৭ মেট্রিক টন কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ৯৭.৭৫ মেট্রিক টন।
যা চাহিদার তুলনায় মাত্র ২০ ভাগ। পৌরসভাসহ ১১ ইউনিয়নে মোট ২৩ জন ডিলার যথা সময়ে এই বীজ উত্তোলন করে তা সরবরাহ করার কথা থাকলেও ১৬ জন ডিলার নির্ধারীত তারিখের শেষ সময়ে বীজ উত্তোলন করেছে। আগে আসলে আগে পাবে এই শর্তে ডিলারদের বীজ উত্তোলনের চিঠি দেয়া হলেও নির্ধারীত ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে সকল ডিলার বীজ উত্তোলন না করায় বরাদ্দকৃত ৯৭.৭৫ মেট্রিক টন বীজের মাঝে ৪০ মেট্রিক টন বীজ উত্তোলন করা সম্ভব হয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। ভালুকায় গত বোরো মৌসুমে জলাবদ্দতার সৃষ্টি হয়ে ও ব্লাস্টসহ বিভিন্ন পোকায় আক্রমনের কারণে ফলন কম হওয়ায় এমনিতেই ধান আবাদে কৃষকদের মনোবল অনেকটাই দুর্বল, আর আসন্ন আমন মৌসুমে বিএডিসির বীজ সংকট ও চড়া দামে তা কেনার কারণে আবাদের লক্ষমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উপজেলার চান্দাব গ্রামের কৃষক মফিজ উদ্দিন তালুকদার, শামছুদ্দিন, আব্দুস সাত্তার মড়ল এবং সোহাল গ্রামের রহিম সরকার ও আবুল হাসেনসহ অনেকেই জানান, ভালুকা বাজার থেকে ১০ কেজির প্রতি বস্তা আমন বীজ ৭০০ টাকায় কিনতে হয়েছে, হবিরবাড়ি ও মেদুয়ারী ইউনিয়নের বগাজান গ্রামের অনেক কৃষক একই অভিযোগ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক কৃষক জানান, বিএডিসির বীজের অভাব নেই, যদি টাকা ৭৫০ টাকা পকেটে থাকে। উপজেলার বগাজান গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান, উথুরা বাজারের ডিলারের দোকানে বিএডিসির বীজের অভাব নেই কিন্তু ৩৪০ টাকার স্থলে ৭৫০ বা ৮০০ টাকা দিয়ে ১০ কেজির এক বস্তা বীজ আনতে হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার সর্তে এক ডিলার জানান, চাহিদার চেয়ে যে পরিমাণ বিএডিসির বীজের বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। তাই বিভিন্ন উপজেলা থেকে বেশি দামে বীজ সংগ্রহ করে ডিলারগণ এই উপজেলার কৃষকদের সরবরাহ করে যাচ্ছেন। তারপরও চাহিদা মেটাতে না পারায় বেসরকারী সংস্থার বীজ দিয়ে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: সাইফুল আজম খান জানান, আসন্ন আমন মৌসুমে ভালুকায় আমন বীজের চাহিদা দেয়া হয়েছিল ৪৭৭ মেট্রিক টন কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ৯৭.৭৫ মেট্রিক টন। যা চাহিদার তুলনায় মাত্র ২০ ভাগ। আর ৮০ ভাগ বীজের চাহিদা মেটাতে হচ্ছে বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থার বীজ দিয়ে। এক প্রশ্নের জাবাবে কৃষি অফিসার জানান, যে সকল ডিলার বীজ উত্তোল করেননি, তাদের ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নোট দেয়া হবে।

0 comments:

Post a Comment