Last update
Loading...

সুরমা-কুশিয়ারায় পানি কমছে : বাড়ছে যমুনা-ব্রহ্মপুত্রে

সুরমা-কুশিয়ারাসহ সিলেট অঞ্চলের নদীগুলোর পানি কমছে। তবে এখনও এসব নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার ওপর দিয়ে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, ৪৮ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমতে পারে। তেমনটি হলে এ অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যেতে পারে। তবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায় পানি বাড়ছে। এ দুই নদীতে দু’দিনে যে হারে পানি বেড়েছে তা আর তিন দিন অব্যাহত থাকলে কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া এবং সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের (এফএফডব্লিউসি) নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন যুগান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, তবে সবই নির্ভর করছে বৃষ্টিপাতের ওপর। বৃষ্টিপাত কম হলে বিপদের আশঙ্কা নেই। তবে সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি প্রস্তুতি আছে। টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে সিলেট অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ব্যাপক হারে বাড়ছে। এতে প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। দেশের নদ-নদীর পানির প্রধান তিন উৎস গঙ্গা-পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকা। এর মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা ছাড়া দুই অববাহিকার নদীগুলোর পানিই বাড়ছে। প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন,
কয়েক দিন ধরে আসাম-অরুনাচলে বৃষ্টিপাত বেড়েছে। এ কারণে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায় পানিপ্রবাহ বেড়েছে। এফএফডব্লিউসি দেশের ৯০টি স্টেশনে পানিপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩ স্টেশনে পানি বেড়েছে। এ নিয়ে ৬১ স্টেশনে পানির উচ্চতা বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে। সোমবার পর্যন্ত সুরমা-কুশিয়ারায় অন্তত ৪টি স্টেশনে বিপদসীমার ওপরে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। মঙ্গলবার এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মাতামুহুরী। এ নদীর পানি বান্দরবানের লামা ও চিরিঙ্গা পয়েন্টে বিপদসীমার যথাক্রমে ১২৬ সেন্টিমিটার ও ৪১ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিএমডি পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস জারি করেছে। এতে দেশের ৮ বিভাগে ভারি বৃষ্টিপাতের কথা বলা হয়। বিভাগগুলো হচেছ- রংপুর. ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা হ্রাস পেতে পারে বলে বলা হয়।আরেক বিজ্ঞপ্তিতে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে পাহাড় ধসের আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিএমডির কর্মকর্তা মুহম্মদ আরিফ হোসেন বলেন, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ থেকে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমি ধসের শঙ্কা আছে। বিএমডি দেশের ৪২ স্টেশনে আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। সংস্থাটির মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ ও খুলনা ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় সব স্টেশনেই বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সীতাকুণ্ডে। সেখানে ১৩৫ মিলিলিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

0 comments:

Post a Comment