Last update
Loading...

স্ত্রী-কাজের মেয়ে বদল ছিল তার নেশা

অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করা ব্যবসায়ী সালেহ আহমেদ (৩০) কিছুদিন পরপরই স্ত্রী বদল করতেন। বেশি বেতনে সুন্দরী কাজের মেয়েও নিয়মিত বিরতিতে সরবরাহ করা হতো তার বাসায়। বিকৃত যৌনাচার যেন ছিল তার নেশা। কথিত স্ত্রীর সামনেই কাজের মেয়ের ওপর চলত অকথ্য অত্যাচার। যৌন উত্তেজক ইনজেকশন নিয়ে মাঝে মধ্যে বেসামাল হয়ে পড়তেন তিনি। প্রতি সপ্তাহে বাসায় বসত নারী-মদের আড্ডা। তাতে ভাগ বসাতেন তার বাবাও। শুক্রবার রাতে রাজধানীর পরীবাগে গৃহকর্মীর ওপর যৌন অত্যাচার শেষে বেসামাল সালেহ আহমেদ তাকে সাততলা থেকে ছুড়ে ফেলে দেয়ার পর এসব বের হয়ে আসে। পুলিশ শনিবার সালেহ আহমেদকে গ্রেফতার করেছে। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া গুরুতর আহত অবস্থায় হতভাগ্য গৃহকর্মীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শাহবাগ থানার ওসি আবুল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, পরীবাগের দিগন্ত টাওয়ারের সাততলার বেলকুনি থেকে মেয়েটিকে ফেলে দেয়া হয়েছে। তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানতে পেরেছি। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ওসি বলেন, মেয়েটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। গৃহকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। একই সময়ে মদ্যপ সালেহ আহমেদ তার কথিত স্ত্রীকে মারধর করে জখম করে। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত ছিলেন সালেহ আহমেদ। মাদকাসক্তও ছিলেন। দালালদের মাধ্যমে সালেহ আহমেদ সুন্দরী নারীদের কাজের বুয়া হিসেবে নিয়োগ দিতেন। কথিত স্ত্রীর চোখের সামনেই কাজের মেয়েদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হতেন। তদন্তে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সালেহ আহমেদের বাবা শহিদ হাওলাদারও একজন ব্যবসায়ী। বাড়ি পুরান ঢাকার মাতুয়াইলে।
সালেহ আহমেদ অস্ট্রেলিয়ায় লেখাপড়া করেছেন। দেশে ফিরে বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করছেন। দিগন্ত টাওয়ারে বাবা-ছেলের পাশাপাশি দুটি অ্যাপার্টমেন্টে বাস। কথা হয় হাসপাতালের বিছানায় গুরুতর আহত ভুক্তভোগী গৃহকর্মীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ওই বাসায় কাজে যোগদানের পর থেকেই সালেহ আহমেদ তাকে বিকৃত যৌনাচারে বাধ্য করে। তিনি জানান, মদ এবং ইয়াবার নেশায় টালমাটাল থাকতেন সাহেব (সালেহ আহমেদ)। মেমও ইয়াবায় আসক্ত। সালেহ আহমেদ কথিত স্ত্রীর চোখের সামনেই তার সঙ্গে যৌনাচারে লিপ্ত হতেন। শুক্রবার রাতে সালেহ আহমেদ নিজের শরীরে একাধিক বিদেশি যৌন উত্তেজক ইনজেকশন পুশ করেন। এতে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় আমার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান। বাধা দেয়ায় মারধর করে সাততলার বেলকুনি দিয়ে আমাকে নিচে ফেলে দেন। আমার সঙ্গে তার কথিত স্ত্রীকেও মারধর করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাত তখন সোয়া ১০টা। মেয়েটিকে নিচে পড়তে দেখেন অ্যাপার্টমেন্টের কাজের লোক জাহাঙ্গীর। তিনি তাৎক্ষণিক বিষয়টি বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীদের জানান। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে রাত পৌনে ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর সালেহ আহমেদের বাসা তল্লাশি করতে গিয়ে পুলিশ তার কথিত স্ত্রী এবং বাসার আরেক কাজের বুয়া বৃদ্ধ মনোয়ারাকে আহত অবস্থায় রাত আড়াইটায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তারা এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। মামলার বাদী ভুক্তভোগীর মা যুগান্তরকে বলেন, ১৬ জুন বাড্ডা এলাকার নাজমা নামের এক মহিলা আমার মেয়েকে ওই বাসায় কাজের জন্য নিয়ে যায়। দুদিন পর আরেক বুয়ার মোবাইল ফোন থেকে আমাকে ফোন দেয়। ফোনে মেয়ে আমাকে জানায়, ভালো চাকরি পেয়েছে। কাজ কম। বেতন ১৫ হাজার টাকা। তারপর থেকে তার ফোনে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গতরাতে ওই বাসার এক নিরাপত্তাকর্মী ফোন দিয়ে মেয়ে গুরুতর আহত বলে মেডিকেলে আসতে বলে। ঢাকা মেডিকেলে এসে মেয়ের করুণ অবস্থা দেখতে পাই।
শনিবার দুপুরে পরীবাগে ৩/৩/এ দিগন্ত অ্যাপার্টমেন্টের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সালেহ আহমেদের বিকৃত যৌনাচারের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন, প্রতি শুক্রবার সালেহ আহমেদের বাসায় মদ ও নারীর জলসা বসত। ছেলের জলসায় ভাগ বসাতেন সালেহ আহমেদের বাবা আবুল হোসেনও। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সালেহ আহমেদ এ পর্যন্ত ১১টি বিয়ে করেছেন। নির্ধারিত সময় পর আগের স্ত্রীকে আর দেখা যায় না। এ ব্যাপারে দিগন্ত অ্যাপার্টমেন্ট মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক শাহজাদা রনি যুগান্তরকে বলেন, সালেহ আহমেদকে আমরা একাধিকবার সতর্ক করেছি। বলেছি, এখানে বেলেল্লাপনা চলবে না। আপনি হয় সংশোধন হন, নয় ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে অন্যত্র গিয়ে থাকেন। তিনি কারও কথায় পাত্তা দেননি। দিগন্ত অ্যাপার্টমেন্টের ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন বলেন, ১৫ তলার এই অ্যাপার্টমেন্টে ১৫০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ফ্ল্যাট মালিকদের কেউ শিল্পপতি, কেউ সরকার কিংবা প্রশাসনের বড় কর্তা। যে কারণে এ বাড়ির নিরাপত্তার ধরনই আলাদা। কঠোর নিরাপত্তার মাঝেও এমন ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক। ওই অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, বাবা-ছেলেকে পুলিশে ধরে নিয়ে গেছে। তাদের একটি গাড়ি নিয়ে গেছে র‌্যাব। রাতেই ৭ তলার ৭এম ফ্ল্যাটটি সিলগালা করে দিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, তার বাসা থেকে যৌন উত্তেজক নেশাজাতীয় বিভিন্ন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে তার ব্যবহৃত ল্যাপটপও। ওই ল্যাপটপে দেশি-বিদেশি ৪ শতাধিক তরুণীর ফোন নম্বর পাওয়া গেছে। এদের অনেকেই তার বাসায় কলে আসত।

0 comments:

Post a Comment