Last update
Loading...

দুই মাসে এক কোটি সদস্য সংগ্রহের টার্গেট

দল পুনর্গঠনের পাশাপাশি এবার প্রাথমিক সদস্য পদ নবায়ন এবং নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানে নেমেছে বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি। দুই মাসব্যাপী এ কর্মসূচি চলবে আগামী পয়লা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এ দুই মাসে অন্ততপক্ষে এক কোটি সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে দলটি। গত শনিবার রাতে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি নেতাকর্মীদের সদস্য সংগ্রহ অভিযানে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গতবার আমাদের সদস্য সংগ্রহের ল্যমাত্রা ছিল ৫০ লাখ। এবার আমাদের টার্গেট এক কোটি। সকলে সদস্য হোন, দলের জন্য কাজ করুন। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এ কর্মসূচি পুরোদমে শুরু হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় বেগম খালেদা জিয়া ১০ টাকার বিনিময়ে সদস্য রশিদে স্বার করে নিজের সদস্যপদ নবায়ন করেন। এরপর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম মিয়া, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাদের সদস্যপদ নবায়ন করেন। এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দেিণর ছয়জন নতুন সদস্যপদ সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন শিক্ষক, একজন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক যুগ্ম পরিচালক, একজন সাংবাদিক এবং একজন ব্যবসায়ী। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ জন সদস্য হন বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান। প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০০৯ সালে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান হয়েছিল। কিন্তু তা শেষ হয়নি। এর আগে ২০১২ সালে তা আবারো শুরু হয়। বিএনপি নেতারা জানান, আন্দোলনের কারণে পরে এ সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি করা যায়নি। জানা গেছে, বর্তমানে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য আছে প্রায় পঞ্চাশ লাখ।
নতুনভাবে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। গতকাল সোমবার দলের নয়া পল্টন কার্যালয়ে অনেককে নতুন সদস্য ফরম সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। তবে সব জেলায় এখনো এই কার্যক্রম শুরু না হলেও অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তা শুরু হবে। জানতে চাইলে বিএনপির দফতরের দায়িত্বে নিয়োজিত সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপির সদস্য সংগ্রহ এবং নবায়ন কার্যক্রম দীর্ঘ দিন ধরে চলমান। এ লক্ষ্যে নতুনভাবে দুই মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো নেতাকর্মীদের মধ্যে আরো বেশি কর্মস্পৃহা তৈরি এবং নতুন সদস্য সংগ্রহ করা, যা ইতোমধ্যে আমাদের দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া উদ্বোধন করেছেন। কিছু দিনের মধ্যেই সারা দেশে এ কর্মসূচি পুরোদমে শুরু হবে। বর্তমানে বিএনপির প্রায় ৫০ লাখ প্রাথমিক সদস্য রয়েছেন। আমরা আগামী দুই মাসের মধ্যে নতুন করে এক কোটি সদস্য সংগ্রহের টার্গেট নিয়ে কাজ করছি। নয়া পল্টন কার্যালয়ে অনেকেই এসে সদস্য ফরম সংগ্রহ করছেন। বিএনপি তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে বলে প্রত্যাশা করেন রিজভী। এ দিকে গতকাল বগুড়াতে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পয়লা জুলাই থেকে আগামী পয়লা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম চলবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবার এক কোটি নতুন সদস্য সংগ্রহের টার্গেট নির্ধারণ করেছেন। নেত্রীর এ টার্গেট পূরণ এবং কার্যক্রম সফল করার জন্য বগুড়াবাসী যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। সুনির্দিষ্ট টার্গেটের কথা উল্লেখ না করলেও বগুড়াতে এবার নতুন সদস্য সংগ্রহের সংখ্যা ‘একটি বড় ফিগারের’ হবে বলে তিনি জানান। ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতর থেকে পাঠানো সদস্য সংগ্রহ ফরম এখনো হাতে না পাওয়ায় আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম শুরু করতে পারিনি। ফরম হাতে পেলেই কার্যক্রম শুরু করব। এই কার্যক্রম ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে বলে তিনি জানান। এ দিকে খুলনা মহানগরীতে বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি এখনো শুরু হয়নি। আগামী ৮ জুলাই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এবং খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু ও অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগরের সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, সর্বশেষ ২০০৯ সালে পরিচালিত কর্মসূচির সময় থেকে খুলনা মহানগরীতে ২৫ হাজার নতুন সদস্য সংগ্রহ করা হয়। এবার মহানগরীতে ৫০ হাজার নতুন সদস্য সংগ্রহ করা আমাদের টার্গেট। সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদেরও এবার নতুন সদস্য করার টার্গেট নেয়া হয়েছে। মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড এই তিনটি ধাপে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে এ কর্মসূচির মাধ্যমে দল আরো বেশি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে বলে তিনি মনে করেন। যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, বিএনপিকে আরো গতিশীল ও শক্তিশালী করতে জেলা নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা ইতোমধ্যে যশোর জেলায় এক লাখ ৪৭ হাজার নতুন সদস্য সংগ্রহ করেছি। কেন্দ্রকে অবহিত করে গত এক বছর ধরে আমরা এ কার্যক্রম পরিচালনা করি, যা গত মে মাসে সমাপ্ত হয়েছে। তবে গত ছয় মাস ধরে জেলায় যুবদল-ছাত্রদলসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে। তিনি জানান, আমরা ইতোমধ্যে কেন্দ্র থেকে পাঠানো বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ ফরম হাতে পেয়েছি। ফলে আগে থেকে সংগৃহীত এসব সদস্য এখন নবায়ন করা হবে। এ ছাড়া শনিবার থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন করে সদস্য সংগ্রহ করা হবে। সবমিলিয়ে প্রায় দুই লাখ সদস্য আমরা সংগ্রহ করতে পারব।

0 comments:

Post a Comment