Last update
Loading...

১০ ইস্যুতে সংলাপে বসছে নির্বাচন কমিশন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন পরিচালনা, নির্বাচনী আইন সংশোধন, সীমানা পুনঃনির্ধারণ অধ্যাদেশ সংশোধনসহ ১০ ইস্যুতে সংলাপে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, পর্যবেক্ষক সংস্থা ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে পৃথক আলোচনায় এসব ইস্যু এজেন্ডাভুক্ত করেছে কমিশন সচিবালয়। ৩০ জুলাই সুশীল সমাজের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে সংলাপ শুরু হবে। কমিশন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ১১ সেপ্টেম্বর থেকে সংলাপে বসবে।
দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ চলবে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত। রোববার সংলাপের এ নতুন সময়সূচি ও আলোচ্য বিষয়ের খসড়া প্রস্তুত করেছে কমিশন সচিবালয়। আজ কমিশন সভায় এসব বিষয় তোলা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামী ১৬ জুলাই নির্বাচনের রোডম্যাপ চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করবে কমিশন। বই আকারে প্রকাশিত এ রোডম্যাপ রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হবে। এতে কবে কখন সংলাপ ও নির্বাচনী অন্যান্য কার্যক্রম নেয়া হবে তার সময়সূচি উল্লেখ থাকবে। এছাড়া এবার সংলাপে কমিশন রাজনৈতিক দলসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের কাছে যে কোনো বিষয়ে মতামত নেয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, পর্যবেক্ষক সংস্থা ও সিনিয়র সাংবাদিকরা সংলাপে লিখিত সুপারিশ বা মতামত দিলে তা গ্রহণ করবে কমিশন। এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, ‘৩০ জুলাই সুশীল সমাজের সঙ্গে বসার মধ্য দিয়ে সংলাপ শুরু করার বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংলাপে যেসব পয়েন্ট বা বিষয় থাকবে, তার বাহিরেও সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা উন্মুক্ত মত দিতে পারবেন। আমরা উন্মুক্ত ও উদারভাবে এসব মতামত নেব।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগস্টে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বসার পরিকল্পনা ছিল। তবে ওই সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে। সব বিষয় ইসির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।’ প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবরের পর শুরু হবে একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় গণনা। জানা গেছে, ইসির খসড়া অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ১০টি বিষয়ে আলোচনার জন্য সংলাপের এজেন্ডায় রাখা হয়েছে। এগুলো হল- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ (আরপিও) সংশোধন এবং এটি বাংলায় অনুবাদ করা, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আদেশ- ১৯৭৬ এর সংশোধন ও এ আইন বাংলায় অনুবাদ করা, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ও ভূমিকা (ইসির সক্ষমতা বাড়ানো), আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব ও ভূমিকা, নির্বাচন কেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা, প্রবাসী ভোটারদের ভোটদান প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত করা, নির্বাচনী দায়িত্বে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা নিয়োগ প্রদান, পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশনের সহায়তা, সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের নিজস্ব পরামর্শ এবং রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বিধিমালা সংশোধন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির কয়েক কর্মকর্তা বলেন, ‘সংলাপে আলোচনার এসব বিষয় অনুমোদনের জন্য কমিশন সভায় তোলা হবে। ওই সভায় আলাপ-আলোচনার পর এজেন্ডা চূড়ান্ত করা হবে। এতে এজেন্ডার সংখ্যা কমে আসতে পারে।’ তারা আরও বলেন, ‘এবার সংলাপের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- নির্বাচনী আইন আরপিওতে কী কী সংশোধন দরকার, সে বিষয়ে মতামত নেয়া। ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আরপিওতে যেসব সংশোধনী দরকার তার ওপর মতামত নেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, পর্যবেক্ষক, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিকদের মতামত পাওয়ার পর যেসব সংশোধনী গুরুত্বপূর্ণ মনে হবে সেগুলো একীভূত করা হবে।’
সংলাপের নতুন সময়সূচি : সংলাপের সময়সূচির নতুন খসড়া রোববার প্রস্তুত করেছে কমিশন সচিবালয়। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী সুশীল সমাজের সঙ্গে সংলাপ আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ১৭ জুলাই এ সংলাপের কার্যপত্র তৈরি ও ২৪ জুলাই সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। সংলাপের খসড়া প্রতিবেদন আগামী ২ আগস্টের মধ্যে প্রস্তুত করা হবে। এরপর ৮ আগস্ট থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত নিবন্ধিত পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি। এর আগে ২৭ জুলাই পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। গণমাধ্যমের সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপ হবে ১৬-১৭ আগস্টের মধ্যে। এ সংলাপের অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে ২৭ জুলাই। নির্বাচন পরিচালনা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা হবে ২২-২৪ আগস্টের মধ্যে। তাদেরকে ১০ আগস্টের মধ্যে আমন্ত্রণ জানানো হবে। আর সর্বশেষ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবরের মধ্যে সংলাপ হবে। এর আগে ২৩ আগস্টের মধ্যে রাজনৈতিক দলের সংলাপে অংশ নেয়া নেতাদের নামের তালিকা তৈরি ও তাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সংলাপের ওপর বিস্তারিত প্রতিবেদন বই আকারে প্রকাশ করা হবে।

0 comments:

Post a Comment