Last update
Loading...

ভুল পথে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম রাজনীতি by মাহবুব মাসুম

ক্রমেই জটিলতর হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি। মরবে মুসলমানরা। বাইরে থেকে তালি বাজাবে আমেরিকা আর ইহুদিবাদী ইসরাঈল। তাদের কূটকৌশল আজ অনেকটা সফলতার পথে। আসলে আমেরিকা যে দেশের বন্ধু সে দেশের শত্রুর প্রয়োজন নেই! শয়তান কখনো মুসলমানের বন্ধু হতে পারে না। সম্প্রতি আমেরিকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইশারায় ইরান বিরোধী জোট গঠন করেছে সৌদি আরব-মিশর সরকার। ঘটনাক্রমে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকারও এই জোটে যোগ দিয়েছে। আশংকার বিষয় হচ্ছে এ সিদ্ধান্তের কারণে বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বাংলাদেশ। সৌদি আরব-মিশর তাদের অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ইরান, হামাস, হিজবুল্লাহ ও মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো ইসলামী সংগঠনগুলোকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিচ্ছে। অথচ প্রকৃত সন্ত্রাসীগোষ্ঠী ও আমেরিকার-ইসরাঈলের মতো সন্ত্রাসী ইসলাম বিরোধী রাষ্ট্রকে বন্ধু হিসেবে নিয়েছে সৌদি-মিশর জোট।
আল্লাহ কোরআনে সূরা নিসার ১১৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন- ‘যে শয়তানকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে পতিত হয়।’ বর্তমান সৌদি রাজপরিবারের বিলাসী জীবনযাপনের কাহিনী কে না জানে! আমারিকা-ইসরাঈলকে বন্ধু বানিয়ে নিরহ ইয়েমেনিদের হত্যা করছে সৌদি। কি জঘন্য ক্ষমতার রাজনীতি! বিপর্যস্ত ইয়েমেনবাসী না খেয়ে ধংশস্তুপের নিচে মারা যাচ্ছে। অন্যদিকে মদ-জুয়া-নারী নিয়ে ফুর্তি করছে তথাকথিত সৌদি আরবের রাজ পরিবারের সদস্যরা। ইসলামী রীতি-নীতি তোয়াক্কা করে না তারা। এসবতো সবারই জানা। মিশরের কথা আর কি বলবো! মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো জনপ্রিয় জনগণের ভোটে নির্বাচিত বৈধ সরকারকে হটিয়ে আমেরিকার সমর্থনে ক্ষমতাকে আকড়ে ধরে আছে বর্তমান অবৈধ সরকার। আমেরিকার মদদপুষ্ট এসব অবৈধ সরকারগণ সম্প্রতি নতুন জোট করেছে। নাম দিয়েছে সুন্নী সামরিক জোট। আসলে প্রকৃত মুসলমাদের শিয়া বা সুন্নী বলতে কিছু নেই। আমেরিকা-ইসরাঈলের সহায়তায় এরা মুসলমানদের বিভক্তি করছে। পেছন থেকে তালি বাজাচ্ছে আমেরিকা। কারণ মুসলমানদের ধংশ করতে তারা মুসলমানদের ব্যবহার করার কৌশলে শতভাগ সফল।
এবার আসা যাক চলতি সপ্তাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এ।  কাতারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশ। সৌদি আরব, আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিশর। শুধু তাই নয় দেশটির সাথে সব ধরণের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। ফলে সে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরণের ধ্বস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগেই বলে  নিচ্ছি এ দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৫ লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ করে। তাদের ঘাম জড়ানো অর্থে সচল আমাদের অর্থনীতি। এ অবস্থায় অনিশ্চিয়তার পথে এসব শ্রমিকের ভাগ্য।  কাতারের অপরাধ কি? কাতারের অপরাধ হলো তারা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী  সংগঠন হামাসকে আর্থিক ও আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করছে। তারা মিশরসহ মধ্যেপ্রাচ্যের নির্যাতিত সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের পাশে দাঁড়িয়েছে। কাতার ইরানের সাথে অন্ধ বিদ্বেষ বজায় না রেখে সম্পর্ক রেখেছে। কাতার মুসলমানদের জন্য আলজাজিরার মত একটি স্ট্রং ভয়েস তৈরী করেছে। যেটি  মিশরের সিসি ও সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের ডিক্টেটরদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাতার বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৌদি/মিশর/দুবাই থেকে ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল তারাই আয়োজন করবে।
এসব কারণেই মূলত আমেরিকা ও ইসরাইলের এই ৪ পুতুল কাতারের বিরুদ্বে এক হয়ে মাঠে নেমেছে।  ট্রাম্পের সৌদি সফরের সময় কেনা অস্ত্র সৌদি জোটের ইয়েমেন হামলার পর এখন কাতারের উপরে ব্যবহার করার আশঙ্কা করছে অনেকে। কাতারের মত একটি ছোট মুসলিম কান্ট্রি, আলজাজিরার মত একটি বড় মিডিয়া নেটওয়ার্ক চালাচ্ছে তা মুলত ধংশ করবে আমেরিকা ও ইসরাঈল। এরপর আর কোন গণমাধ্যম মুসলিমদের পক্ষে কথা বলার থাকবে না। প্রকৃত বিজয় হবে আমেরিকা-ইসরাঈলের!
সাম্প্রতিক সময়ে কাতার বেশ কিছু বিষয়ে প্রকাশ্যে ইরানের পক্ষ নিয়েছে। দেশটি বলেছে, ইরান প্রকৃত ইসলামি শক্তি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া, হামাস, হিজবুল্লাহ ও মুসলিম ব্রাদারহুড সন্ত্রাসী সংগঠন নয়। এসব সংগঠন প্রকৃত ইসলামিক সংগঠন।স্বাভাবিকভাবেই শয়তানরা এ বক্তব্য মেনে নিতে পারেনি।  এখন দেখার বিষয় সত্যের পক্ষে টিকে থাকতে পারবে তো কাতার? আমেরিকার দালাল মিশর-সৌদি শাসকদের পতন কি হবে? যে সৌদি শাসকদের কারণে গোটা মুসলিম বিশ্বে আজ ভাঙন, ফাটল ও অনৈক্য সৃষ্টি হয়েছে এবং আরো বড় পরিসরে হতে যাচ্ছে সেখানে সৌদি শাসকদের পতন ছাড়া এ ক্ষতি ঠেকানো কঠিন। কারণ আমেরিকা সরাসরি সমর্থন করছে রাজপরিবারের বেহায়াপনাকে। আমেরিকা দিচ্ছে অস্ত্র নিচ্ছে তেলসহ মুল্যবান সব সম্পদ। তারপরও ক্ষমতার লোভে বেহুঁশ সৌদি। তবে পাকিস্তান বলে দিয়েছে- তারা কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিকল্পনা করছে না। বাকি মুসলিম বিশ্ব কে কী করবে তা তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়। হে আল্লাহ এই রমজানে শয়তারদের তুমি হেদায়েত দাও। তা যদি না থাকে তাহলে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নাও। শান্তিময় পৃথিবী চাই। মুসলিমদের ঐক্য চায়।
লেখক: জাপান প্রবাসী সাংবাদিক
masum86cu@yahoo.com

0 comments:

Post a Comment