Last update
Loading...

অর্ধশত বছরের পুরনো ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলছে

৪০ বছরের বেশি পুরনো লঞ্চও চলছে নদীতে। এতে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফিটনেসবিহীন এই লঞ্চগুলো যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। ব্যাপক জানমালের ক্ষতিরও আশঙ্কা রয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এরূপ বেশ কয়েকটি ত্রুটিপূর্ণ লঞ্চকে বার্ষিক সার্ভে (ফিটনেস সনদ) দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোদ সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকেও এই লঞ্চগুলো চলাচল করছে। মাওয়া এবং পাটুরিয়া ঘাটে বেশির ভাগ লঞ্চই ত্রুটি নিয়ে চলছে বলে জানা গেছে। এবারের ঈদে বাড়তি চাপের কারণে এই দুই ঘাটের যাত্রীরা চরম ঝুঁকির মধ্যে আছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এ-বিষয়ে তারা সোচ্চার আছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ৪০ বছরের বেশি পুরনো এসব লঞ্চ নৌনিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, নৌপথে সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের স্বার্থে অবিলম্বে এসব লঞ্চের ফিটনেস সনদ বাতিল করা উচিত। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ নৌপথে চলাচলরত বিভিন্ন নৌযান পরিদর্শন এবং ঈদ উপলক্ষে নৌনিরাপত্তায় গৃহীত সরকারি পদক্ষেপের ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালায় নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি। জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে বলেন, তাদের অনুসন্ধানে অন্তত চারটি যাত্রীবাহী নৌযানের ফিটনেস প্রদানে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। যেগুলোর অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল অনেক আগেই শেষ হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল অধ্যাদেশ (আইএসও) ১৯৭৬ লঙ্ঘন করে নৌপরিবহন অধিদফতরের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয় থেকে এই লঞ্চগুলোর ফিটনেস দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-চাঁদপুর নৌপথে চলাচলকারী এমএল শাহ আলী প্লাস এর নির্মাণকাল ১৯৬০ সাল। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ নৌপথে চলাচলরত এমএল হৃদয় এক্সপ্রেস ১৯৭৪ সালে, ‘এমএল সোমা এক্সপ্রেস-১’ ১৯৭৩ সালে এবং এমএল শাহান ১৯৬৪ সালে নির্মিত হয়। অথচ আইএসও-১৯৭৬ এর সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ নৌপথে ৪০ বছরের বেশি পুরনো নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এসব ত্রুটিপূর্ণ নৌযানকে ফিটনেস দেয়া হয়েছে বলে সংবাদ ব্রিফিংয়ে অভিযোগ করা হয়। আশীষ কুমার দে বলেন,
উল্লিখিত চারটি নৌযান ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ কার্যালয় থেকে সম্প্রতি আরো অন্তত ১০টি লক্কড়-ঝক্কড় লঞ্চের ফিটনেস প্রদানের তথ্য তারা পেয়েছেন। চলতি ঈদ মৌসুমে এসব লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে মেঘনার মতো প্রবল খরস্রোতা নদীতে চলাচল করবে। এতে নৌনিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং যেকোনো সময় দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে অনাকাক্সিত প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। ফিটনেস প্রদানকারী কর্মকর্তা নৌপরিবহন অধিদফতরের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক (অতিরিক্ত দায়িত্বে) ড. এস এম নাজমুল হকের বরাত দিয়ে জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, উল্লিখিত লঞ্চগুলো ৪০ বছর আগে নির্মিত হলেও তখন এগুলোর অবকাঠামো ছিল কাঠের তৈরি। তিনি (নাজমুল) বলেন, পরে এসব নৌযানের অবকাঠামো পরিবর্তন করে স্টিল দ্বারা নির্মাণ করা হয়। তাই এগুলো চলাচলের জন্য মোটেও ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবে অবকাঠামোগতভাবে মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ এসব লঞ্চ মোটেও চলাচলের যোগ্য নয় বলে দাবি করেছে জাতীয় কমিটি। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে জাতীয় কমিটির নেতারা বলেন, ৪০ বছরের পুরনো নৌযানের ফিটনেস সনদ প্রদানের কোনো সুযোগ নেই। জননিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে এসব লঞ্চের ফিটনেস বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছে জাতীয় কমিটি। এ দিকে, বিআইডব্লিউটিএর একাধিক কর্মকর্তা বলেন, তারা সোচ্চার রয়েছেন। কোনো অনিয়ম হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে অনিয়মের দায়ে চারটি লঞ্চকে ১৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানান।

0 comments:

Post a Comment