Last update
Loading...

মধ্যপ্রাচ্যে গোপনে নজরদারি প্রযুক্তি বিক্রি ব্রিটেনের

মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের কাছে গোপনে গণনজরদারি প্রযুক্তি বিক্রি করেছে ব্রিটেন। দেশটির বৃহত্তম অস্ত্র কোম্পানি বিএই মধ্যপ্রাচ্যে ছয়টি স্বৈরতান্ত্রিক দেশের কাছে দেশগুলোর জনগণের উপর নজরদারির জন্য প্রচুর নজরদারি যন্ত্রপাতি বিক্রি করেছে। নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো জন্য এই দেশগুলোর সরকারের সমালোচনা করে আসছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। বিবিসির বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, নজরদারির এ সূক্ষ্ম প্রযুক্তি বিশালসংখ্যক জনগণের ই-মেইল ও মোবাইল ফোনের ওপর নজরদারি ও গুপ্তচরবৃত্তির কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। বিবিসির সংগৃহীত দলিলপত্র মতে, সম্প্রতি এ প্রযুক্তি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, আলজেরিয়া এবং মরক্কোর কাছে বিক্রি করেছে বিএই। এ প্রযুক্তির সহায়তায় একসঙ্গে অনেক মানুষের ই-মেইল এবং মোবাইল ফোনের বিরুদ্ধে আড়িপাতা সম্ভব। সংকেত ব্যবস্থার মাধ্যমে যেসব বার্তা আদান-প্রদান করা হয় তাও ভেঙে ফেলতে পারে এ প্রযুক্তি। মানবাধিকার সংস্থাগুলো মনে করছে, ভিন্নমতালম্বীদের মুখ বন্ধ করতে বা তাদের কারাগারে পাঠাতে এ প্রযুক্তির প্রয়োগ করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ব্রিটেন এবং তার মিত্রদের জন্য বুমেরাং হয়ে উঠতে পারে এ প্রযুক্তি। এমনকি তাদের নিরাপত্তাও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বুধবার প্রকাশিত বিবিসির অনুসন্ধানমূলক ওই প্রতিবেদন মতে, বিতর্কিত এ নজরদারি প্রযুক্তির বিক্রি সম্পন্ন হয় ডেনমার্কের একটি কোম্পানির মাধ্যমে। ব্রিটেনের কোম্পানি বিএই ২০১১ সালে ডেনমার্কের কোম্পানি কিনে নেয়। বর্তমানে বিএই সিস্টেম অ্যাপ্লাইড ইন্টেলিজন্স নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি এমন উন্নতমানের নজরদারি যন্ত্র প্রস্তুত করে, যা লাখ লাখ মানুষের ইলেক্ট্রনিক যোগাযোগ যেমন কম্পিউটার ও মোবাইল থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। আর এ ধরনের সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতিই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তাদের জনগণের বিরুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির এক সময়ের একজন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে নজরদারি প্রযুক্তির বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনি ইন্টারনেটভিত্তিক যেকোনো যোগাযোগব্যবস্থা হ্যাক করতে পারবেন।’ ওই ব্যক্তি দাবি করেন, এই প্রযুক্তিতে মোবাইল ফোনের তথ্যউপাত্তের ওপর ভিত্তি করে যেকোনো লোকের সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা যায়। বিবিসির মতে, যেকোনো ধরনের দুর্ভেদ্য যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে ফেলতে সক্ষম এই প্রযুক্তি। গত দুই বছর ধরে ইয়েমেন আগ্রাসনে জড়িত সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রির চুক্তি করে ব্রিটেন যখন চাপের মুখে তখন এ খবর প্রকাশিত হল। এমন খবর খোদ ব্রিটিশ সরকারকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। ২০১৫ সালে এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, এই প্রযুক্তির রফতানির ব্যাপারে যদি সরকারের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়, তাহলে তা সঙ্গে সঙ্গেই নাকচ করা হবে। তাদের মতে, এই প্রযুক্তি ব্রিটেন ও তার মিত্র রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

0 comments:

Post a Comment