Last update
Loading...

প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশ সরকারের ৮ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি পর্যালোচনা করে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে এসব তথ্য জানায় আইএমএফ। আর্টিকেল ফোর মিশনের আওতায় এই পর্যালোচনা করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন উৎসের মাধ্যমে অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে পারে বাংলাদেশ। উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে নিজস্ব সম্পদের দক্ষ ব্যবস্থাপনা, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানো, ব্যাংক ঋণ অথবা স্থানীয় পুঁজিবাজার শক্তিশালীকরণ। এফডিআই বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদনের মাত্র এক শতাংশ, যা বাড়ানোর মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগের শূন্যতা কিছুটা পূরণ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে বেশির ভাগ অর্থায়ন স্থানীয় উৎস থেকে ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমানে দেশটির ব্যাংকগুলো এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় মাধ্যম হতে পারে। কিন্তু ব্যাংকগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত নয় বলে জানিয়েছে আইএমএফ। যদিও তা প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য জরুরি। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। দেশটির সার্বিক আর্থিক বাজারের উন্নয়ন তলানিতে রয়েছে।
বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের পুঁজি ব্যবস্থাপনা প্রতিবেশী ও প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। দেশটির কর্পোরেট বন্ড মার্কেট নেই বললেই চলে এবং সরকারি বন্ড মার্কেটের অবস্থাও অন্যান্য দেশের তুলনায় অনুন্নত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে রেমিটেন্স কমার অন্যতম কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়া ও অবৈধ পথে বা হুন্ডির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো। তেলের দাম কমে যাওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মজুরি কমে গেছে, যার ফলে তাদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণও কমেছে। বাংলাদেশের মোট দেশজ আয়ের গড়ে প্রায় সাড়ে আট শতাংশ আসে এ রেমিটেন্স থেকে, যা এফডিআইয়ের প্রায় আট গুণ। বাংলাদেশের অধিকাংশ শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করেন। রেমিটেন্সের প্রায় অর্ধেকের বেশি আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। বিশেষ করে সৌদি আরব থেকে। রেমিটেন্সের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে গত পাঁচ বছরে জিডিপির তুলনায় রেমিটেন্সের পরিমাণ কমেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিটেন্সের পরিমাণ প্রায় পাঁচ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। আইএমএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে রেমিট্যান্স কমার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে অবৈধ উপায়ে বা হুন্ডির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো। সংস্থাটি জানিয়েছে, রেমিটেন্স পাঠানোর ফি কমানোসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন ধরনের নীতির কারণে এখন বড় অঙ্কের অর্থ রেমিটেন্সের মাধ্যমে আসে। কিন্তু অবৈধ পথেও প্রচুর পরিমাণ অর্থ দেশে আসে, যা দেশে আসা বৈদেশিক মুদ্রার পরিসংখ্যানে যোগ হয় না। বাংলাদেশের রেমিটেন্স কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে এসব অবৈধ পথে আসা অর্থ বিশাল বড় ভূমিকা রাখছে। অবৈধভাবে আসা এসব অর্থের সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই সরকারের কাছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে মোট রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল প্রায় এক হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার বা স্থানীয় মুদ্রায় এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮০ টাকা ধরে)। আইএমএফ মনে করছে, চলতি অর্থবছরে সর্বমোট এক হাজর ২০০ কোটি ডলার বা স্থানীয় মুদ্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা রেমিটেন্স আসবে। অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ১১ মাসে এক হাজার ১৫৫ কোটি ডলারের রেমিটেন্স এসেছে। ফলে অর্থবছর শেষে রেমিটেন্স এক হাজার ২০০ কোটি ডলার ছাড়াবে। যদিও তা আগের অর্থবছরের চেয়ে অনেক কম হবে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসের হিসাবে গত অর্থবছরের তুলনায় রেমিটেন্স কমেছে প্রায় ১৬ শতাংশ।

0 comments:

Post a Comment