Last update
Loading...

‘ইসলামিক ট্যুরিজম’র আওতায় ওমরা

‘ইসলামিক ট্যুরিজম’ শিরোনামে পর্যটন শিল্প প্রসারের উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি সরকার। এতে পবিত্র ওমরাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সৌদি সরকারের এমন উদ্যোগের সঙ্গে অনেকটাই একমত বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ দেশ। এটি দেশে কার্যকর হলে ওমরা পালন করতে ইসলামিক ট্যুরিজমের আওতায় যেতে হবে। এরই অংশ হিসেবে ইসলামিক ট্যুরিজম পরিচালনা করতে ওমরা লাইসেন্স চেয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বিপিসি)। সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার পর এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুল জলিল বুধবার নিজ দফতরে যুগান্তরকে বলেন, সৌদি সরকার ইসলামিক ট্যুরিজমের নামে বিশ্বব্যাপী পর্যটন শিল্পের প্রসারের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে পবিত্র ওমরা পালনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ওমরা পালনের জন্য এই ট্যুরিজমের আওতায় লোকজন সৌদি আরব যাচ্ছেন। বাংলাদেশকেও তারা এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে আহ্বান জানিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইসলামিক ট্যুরিজম পরিচালনা করতে ওমরা লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছে বিপিসি। বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
তবে এর সঙ্গে হজের কোনো সম্পর্ক নেই। সম্প্রতি সৌদি আরব সফরের কথা উল্লেখ করে ধর্ম সচিব আবদুল জলিল আরও বলেন, এবারের সৌদি আরব সফরের সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ আমাদের ওমরা পালনের সুযোগ দিয়েছে সরকারিভাবেই। ওমরা পালনকারী সবাই ছিল ইসলামিক ট্যুরিজমের প্যাকেজে। এমনকি বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশই সৌদির এ কনসেপ্টের সঙ্গে একমত। এটি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ থেকে সরকারি-বেসরকারি দু’ভাবেই ওমরা পালন করা যাবে। বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ইসলামিক ট্যুরিজমের অংশ হিসেবে বিপিসি ওমরা প্যাকেজ প্রবর্তন করতে যাচ্ছে। ওমরা লাইসেন্স সংগ্রহে সম্প্রতি ধর্ম মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিপিসি। একই সঙ্গে ওমরা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন চেয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছেও আবেদন জানিয়েছে তারা। এ ব্যাপারে মন্তব্য নিতে বুধবার বিপিসির চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান খান কবিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এরপর তার মোবাইল ফোন নম্বরে এ প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে এসএমএস পাঠানো হলেও রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি উত্তর দেননি। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশকে আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যের দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে বিপিসি প্রতিষ্ঠা করা হয়। দেশের পর্যটন স্থাপনাগুলো রক্ষণাবেক্ষণ, আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন ও অন্যান্য সুবিধাদি গড়ে তোলা এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এ প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ। অভ্যন্তরীণ পর্যটন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসার অনুমতিও বিপিসির রয়েছে। মানি এক্সচেঞ্জ কেন্দ্র, ক্যাসিনো, ডিউটি ফ্রি শপ পরিচালনার এখতিয়ার বিপিসির রয়েছে। দেশজুড়ে বিপিসির নিয়ন্ত্রণাধীন হোটেল, মোটেল, কটেজ, রেস্তোরাঁ, পিকনিক স্পট, রেন্ট এ কার ও ভ্রমণ ইউনিট দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সেবা দিয়ে আসছে।

0 comments:

Post a Comment