Last update
Loading...

এটি বেপরোয়া অর্থ সংগ্রহের বাজেট : ফখরুল

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বিএনপি বলেছে, এই বাজেট বেপরোয়া অর্থ সংগ্রহের বাজেট। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা বলেতে পারি এই বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়। কেবলমাত্র অলীক স্বপ্ন-কল্পনাই এই প্রস্তাবিত বাজেটের ভিত্তি। কেননা রাজস্ব আদায় ছাড়াও বাজেটের বেশ কিছু কল্যাণমুখী লক্ষ্য থাকে। কিন্তু এই বাজেট দেখে মনে হচ্ছে কল্যাণমুখী লক্ষ্যগুলো অর্থমন্ত্রীর বিবেচনায় আসেনি। এসব কারণে আমরা আশাহত এবং ক্ষুব্ধ। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ রোববার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বাজেটের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, জনগণের প্রতিনিধিত্বহীন পার্লামেন্টে যেখানে কোনো জবাবদিহিতা নেই, সেই পার্লামেন্টে এই বাজেট পেশ করা হয়েছে। এখানে সরকারের দায় কোথায়? জনগণের কাছে সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা নেই বলেই এই বঞ্চনার বাজেট জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লক্ষ ২৬৬ কোটি টাকার ব্যয় সম্বলিত একটি বাজেট পেশ করেছেন। যা টাকার অঙ্কের দিক থেকে বাংলাদেশের জন্য সর্বকালের বৃহত্তম বাজেট। এই বাজেট বিশ্লেষণ করে আমরা যুগপৎ বিস্মিত, ক্ষুব্ধ এবং হতাশ হয়েছি। বর্তমান সরকার যেসব মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সেগুলোর কাজ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করাই সরকারের অঘোষিত লক্ষ্য। এর জন্য প্রয়োজন হবে প্রচুর অর্থের। সেই অর্থের যোগান দেখানোর জন্যই জনগণের ওপরে করের বোঝা চাপিয়ে একটি গাণিতিক হিসেবের বাজেট হিসেবে এই বাজেট পেশ করা হয়েছে।
পরবর্তী নির্বাচনের পূর্বে সরকার এইসব প্রকল্পকে নির্বাচনী প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে। তারা বলতে চাইবে দেশের একমাত্র সার্থক উন্নয়নকারী তারাই। বিএনপি মহাসচিব বাজেটের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজেট ব্যয়ের লক্ষ্য ছিল ৩ লক্ষ ৪০ হাজার ৬ শত ৫ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এই ব্যয়ের মাত্রা নি¤œমুখী সংশোধন করে স্থির করা হয়েছে ৩ লক্ষ ১৭ হাজার ১ শত ৭৪ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মার্চ ২০১৭ পর্যন্ত প্রকৃত ব্যয়ের পরিমান ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৩ শত ৩৩ কোটি টাকা। এনবিআর-ট্যাক্স রাজস্ব এর লক্ষ্য ছিল ২ লক্ষ ২ হাজার ১ শত ৫২ কোটি টাকা। পরে এই অংককে সংশোধন করে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কাক্সিক্ষত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ওই বাজেটে বহিঃস¤পদ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৭ হাজার ৩ শত ৫ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এই লক্ষ্যমাত্রা ২৮ হাজার ৭ শত ৭১ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু এই সূত্র থেকে এসেছে মাত্র ২ হাজার ৫ শত ৫১ কোটি টাকা। অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ এবং বৈদেশিক সূত্র থেকে স¤পদ আহরণ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম হয়েছে। তাই আমরা সন্দিহান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য বাজেটের যে আকার প্রস্তাব করা হয়েছে সেটি অর্থায়নের জন্য দেশি এবং বিদেশি সূত্র থেকে কাক্সিক্ষত মাত্রায় স¤পদ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না। অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষক মির্জা ফখরুল বলেন, গেল অর্থবছরের অনুন্নয়ন খাত ও উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে সংশোধিত বাজেটের অনুন্নয়ন ব্যয় জিডিপির ৯.১% এবং উন্নয়ন ব্যয় জিডিপির ৫.৯%। অর্থাৎ জিডিপির অংশ হিসেবে উন্নয়ন ব্যয় অনুন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় ৩.২% কম। অথচ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অনুন্নয়ন ব্যয় উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় কম থাকাই কাক্সিক্ষত। বাজেটের উন্নয়ন ব্যয়ের হিস্যা বাড়ানো সম্ভব হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অধিকতর ত্বরান্বিত করা সম্ভব। একটি জাতীয় দৈনিকের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৭ সনের মে মাস পর্যন্ত ১১ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের মাত্র ৬৫% বাস্তবায়িত হয়েছে।
অর্থবছরের শেষ ১ মাসে উন্নয়ন বাজেটের অবশিষ্ট অর্থ ব্যয় দেখাতে হলে সেই ব্যয় দুর্নীতি আর অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের স¤পদ সীমিত। সীমিত স¤পদের যথাযথ ব্যবহার দেশের প্রতিটি করদাতা নাগরিকের কাম্য। তিনি বলেন, ¯পষ্টতই প্রতীয়মাণ হয় প্রস্তাবিত বাজেটে অতীতের ধারায় অনুন্নয়ন ব্যয়ের প্রাধান্য অব্যাহত থাকছে। এত বিশাল আকারের বাজেটেও এই ধারা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব হল না, এটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। এমনকি একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান মন্তব্য করেছে, অর্থায়নের সব উৎস দেখার পর যখন ব্যয়ের হিসাব মিলছে না, তখন পুরোটাই বৈদেশিক সাহায্য থেকে আসবে বলে ধরে নিয়ে যোগ করে দেয়া হয়েছে। যে লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে সেটা ৪ বছরেও বাংলাদেশ করতে পারেনি। ২০১৫-১৬ সালে সর্বোচ্চ ২৭০ কোটি ডলার বৈদেশিক সাহায্য এসেছিল, আর প্রস্তাবিত বাজেটে সেটাকে ৭৬০ কোটি ডলার দেখানো হয়েছে যা ১৮১% বেশি, যা মোটেই অর্জন করা সম্ভব না। এটা জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা মাত্র। প্রস্তাবিত বাজেটেও ঘাটতি অর্থায়নের জন্য বৈদেশিক সূত্র থেকে বড় ধরনের প্রাপ্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীকে এই অর্থবছরেও এক্ষেত্রে নিরাশ হতে হবে। অর্থনীতি শাস্ত্রের বিচারে ঘাটতি অর্থায়ন অবাঞ্ছিত কিছু নয়। কিন্তু এর ফলে জাতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর ঋণ পরিশোধের বোঝা চেপে বসে। মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ঘাটতি অর্থায়নের মাধ্যমে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বিশেষ করে মেগা-উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চলেছে সরকার। বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এগুলো বাস্তবায়িত করতে না পারার অজুহাতে উদ্দেশ্যপ্রণেদিতভাবে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বাস্তবায়নাধীন অনেক মেগা প্রকল্পের ইউনিট প্রতি ব্যয় স¤পর্কে দায়িত্বশীল মিডিয়া কিছু মারাত্মক প্রশ্ন তুলেছে। পৃথিবীর অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায়, বিশেষ করে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে প্রকল্পগুলোর ব্যয় ৫ থেকে ৯ গুন বেশি। এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির। এসব বিষয়ে মিডিয়াতে প্রশ্ন উঠলেও সরকার আজ পর্যন্ত খোলামেলা ভাবে হিসাব কষে দেখাননি কেন প্রকল্প ব্যয় এত বেশি। এ সকল মেগা প্রকল্পে যে মেগা চুরি হচ্ছে তা এখন সর্বজনবিদিত। বলা বাহুল্য, সরকার ঘনিষ্ট কিছু সুবিধাভোগীরাই কেবল এ সকল প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত। বিএনপি মহাসচিব বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্দ্ধগতি সম্পর্কে বলেন, ইতোমধ্যে বাজারে চালের দাম, বিশেষ করে মোটা চালের দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। যা কেজি প্রতি ১০ টাকার কম নয়। এখনো এ দেশের অর্থনীতিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতির প্রভাব সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ১০ টাকা কেজিতে চাল নিশ্চিত করা। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী ৬ জুন ২০১৭ স্বর্ণা/চায়না ইরি মোটা চালের দাম ছিল ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা। এক মাসে এই বৃদ্ধির হার ৪.৬%। এক বছর পূর্বে জুন মাসের ৬ তারিখে মোটা চালের দাম ছিল ৩০ থেকে ৩৪ টাকা। বাৎসরিক মুল্যবৃদ্ধির হার ৪২.১৯%। একই তারিখে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৮৪ থেকে ৮৬ টাকা। এর এক বছর আগে একই ধরনের তেলের দাম ছিল ৭৯ থেকে ৮৪ টাকা। গত ২৮ মে প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিকের সংবাদ অনুযায়ী প্রতি কেজি মোটা চালের দাম বাংলাদেশে ৪৮ টাকা, ভারতে ৩৪.৩৩ টাকা, পাকিস্তানে ৩৮.৫৪ টাকা, থাইল্যান্ডে ৩৭.৮১ টাকা এবং ভিয়েতনামে ৩৩.৬২ টাকা। এই হিসেবে সারা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে চাল বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের মানুষের গড়ে ৬৫% ক্যলোরি আসে চাল বা ভাত থেকে। প্রতিদিন তারা খাবারের পেছনে যে অর্থ ব্যয় করে, তার ২৭ শতাংশ যায় চাল কিনতে। চালের দাম বাড়লে গরীব মানুষ ভাত খাওয়া কমিয়ে দেয়। চালের দাম ৪৮ টাকা হয়ে যাওয়ায় প্রায় ২ কোটি নি¤œবিত্ত পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে। কয়েক বছর ধরে সরকার চাল ও অন্যান্য খাদ্য বিষয়ে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় আজ চালের দাম জনগণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গিয়ে তাদের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। জিডিপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিসংখ্যানের তেলেসমতি ঘটিয়ে উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের চমক দেখানো হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী উভয়ই বলেছেন বিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭.২৪%। এদিকে পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী শিল্পখাতে ৬.২৬% প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যার মধ্যে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে স্থির মুল্যে উৎপাদন বেড়েছে ১০.৯৬%। সার্বিক শিল্পখাত থেকে এখন জাতীয় অর্থনীতিতে ৩২.৫% অবদান আসে। এর মধ্যে ম্যানুফ্যাকচারিং খাত থেকে আসে ২১.৭৫%। এবার ম্যানুফ্যাকচারিং এ ১০.৯৬% প্রবৃদ্ধি হিসাব করা হয়েছে। বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বাজারে শিল্প পণ্যের চাহিদার তুলনায় রপ্তানি বাজারের চাহিদা বেশি। অথচ যে সময়ে শিল্পের উৎপাদন ১০.৯% বেড়েছে বলা হয়েছে সে সময়ে রপ্তানি বেড়েছে ৩% এর কিছু বেশি। শিল্পের কাঁচামালের আমদানি এলসি বেড়েছে ১.৫% এর মত। এই বিশ্লেষণে এটি ¯পষ্ট যে গত অর্থবছরে ৭.২৪% প্রবৃদ্ধির বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। যেখানে বিশ্ব ব্যাংক তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদন 'গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস'এ চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবিদ্ধির হার ৬.৮% প্রাক্কলন করেছে। এক্ষেত্রে সরকারের হিসাবের চেয়ে বিশ্ব ব্যাংকের প্রাক্কলন ও পূর্বাভাসকেই নির্ভরযোগ্য ও বাস্তবসম্মত বলে বিবেচনা করেন অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা। তারা বলছেন, রফতানি আয় ও রেমিটেন্স প্রবাহে মন্দা, বেকারত্ব বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসল হানি বিবেচনা করলে প্রবৃদ্ধি আরো কম হওয়ার কথা। বর্তমানে রেমিটেন্স প্রবাহে মন্দা থাকায় উদ্বেগ কিছুটা বাড়ছেই। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর মন্দা ঝুঁকি তৈরি করেছে। প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের ধ্বস দেখা দিলে বাংলাদেশের সামষ্টিক ভোগ ও বিনিয়োগেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৬.৪% নামতে পারে বলে বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে। সরকার পরিসংখ্যান জনিত বিভ্রাট ঘটিয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বাড়িয়ে দেখানোর সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। প্রশ্নবিদ্ধ জিডিপি প্রবৃদ্ধি দেখিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকরা এক ধরনের আত্মতুষ্টিজনিত রোগে ভুগছেন। বাজেটে প্রস্তাবিত ১৫% ভ্যাট প্রসঙ্গে বিভিন্ন দেশের পরিসংখ্যা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, অর্থমন্ত্রী মানুষকে বোকা বানানোর লক্ষ্যে অপ্রয়োজনীয় পণ্যের লম্বা তালিকা যোগ করে বাহাবা কুড়ানোর চেষ্টা করেছেন।
এগুলোর মধ্যে আছে জীবন্ত ঘোড়া, গাধা, খচ্ছর ও ঘোটক, নানা ধরনের শুকরের মাংশ, টার্কি এবং বিভিন্ন জীবন্ত পক্ষী সহ বেশকিছু পণ্য সামগ্রী। এই তালিকায় বেশ কিছু পণ্য রয়েছে যেগুলো বাংলাদেশের সাধারন মানুষ আদৌ ব্যবহার করে না এবং এদেশের অনেক মানুষের জীবদ্দশায় একবারও দরকার পড়ে না। এভাবে শুন্য ভ্যাট তালিকাকে প্রহসণে পরিণত করা হয়েছে। উচ্চহারে ভ্যাট আহরণের ফলে দ্রব্যমূল্য বাড়বে, মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে, জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়বে, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত, নি¤œবিত্ত, ও দরিদ্র মানুষ ভয়ানক দুর্ভোগের মধ্যে পড়বে। আমরা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর আরোপিত ১৫% ভ্যাটের হার ভোক্তাদের সহনীয় পর্যায়ে হ্রাস করার দাবি জানাচ্ছি। বিএনপি মহাসচিব অর্থমন্ত্রী ব্যাংকে আমানতকারীদের জমানো আমানতের ওপর বিভিন্ন ¯¬্যাবে শুল্ক বাড়ানোর সমালোচনা করে বলেন, এরইমধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এর ফলে আমানতকারীরা ব্যাংক এ টাকা রাখার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বে। দেশে যেভাবে ব্যাংকিং অভ্যাস বাড়ছিল তা বাধাগ্রস্ত হবে, এমনকি ব্যাংক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হবে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতে লেনদেন না হয়ে অনানুষ্ঠানিক খাতে লেনদেন বাড়বে। মানুষ সিন্দুকে টাকা রাখবে; না হয় বিদেশে পাচার করবে। এমনিতেই আমাদের অর্থনীতিতে অনানুষ্ঠানিক খাত বিশাল অংশ দখল করে আছে। এর ফলে সামাজিক অস্থিরতা বেড়ে যাবে, দুর্নীতি করার সুযোগ বাড়বে, স্বচ্ছতা হ্রাস পাওয়ার ফলে সরকারের রাজস্ব আহরণ কমে যাবে এবং সঞ্চয় প্রবনতা বাধাগ্রস্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা ব্যাংক আমানতের ওপর এহেন অন্যায় ও অনৈতিক বর্ধিত শুল্ক আরোপ বাতিল এবং ব্যাংক ব্যবস্থার পরিপূর্ণ সংস্কার দাবি করছি।

0 comments:

Post a Comment