Last update
Loading...

কে রাঘববোয়াল আর কে চুনোপুঁটি ভাবলে চলবে না

বাংলাদেশের প্রায় এক বছর পর ২০০৫ সালে গঠিত হয়েছে ভুটানের দুর্নীতি দমন কমিশন। কিন্তু গঠনে পিছিয়ে থাকলেও সাফল্যে এগিয়ে গেছে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ছোট দেশের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ২০১৬ সালের ধারণা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৫ হলেও ভুটানের অবস্থান ২৭। এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে দেশটির দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা। ১৩-১৬ জুন বাংলাদেশ সফর করে গেছেন ভুটানের দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান কিনলে ওয়াংজুম। একজন নারী হিসেবে এ পদে আসার আগে সরকারি কাজে ছিল তার বিস্তর অভিজ্ঞতা। চাকরিজীবন শুরু শিক্ষা বিভাগে। সরকারের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান ও রয়াল সিভিল সার্ভিস কমিশনে কমিশনারের পর হয়েছেন দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার চেয়ারম্যান। সেই অভিজ্ঞতায় তিনি কথা বলেছেন দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন আলমগীর স্বপন
যুগান্তর : স্বাগতম বাংলাদেশে। দক্ষিণ এশিয়া শুধু নয়, এশিয়ায় দুর্নীতি প্রতিরোধে উদাহরণ এখন ভুটান। সেখানে বাংলাদেশ দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে অনেক পিছিয়ে আছে।
কিনলে ওয়াংজুম : ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ধারণা সূচকের বিভিন্ন মানদণ্ড রয়েছে। তারা যেসব তথ্য সংগ্রহ করে এর ভিত্তিতে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকা করা হয়। সে অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারিত হয়েছে। তবে আমি মনে করি, এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য জনসংখ্যা একটি অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের ভুটানে জনসংখ্যা কম। তাই চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি আমাদের সুবিধাও আছে। জনসংখ্যা কম হওয়ার কারণে আমাদের পক্ষে দুর্নীতি প্রতিরোধে যেসব সংস্কার করা হয়েছে, তা সহজে সম্ভব হয়েছে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতির জায়গা থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তবে এর সাফল্য অনেকটা নির্ভর করবে সরকার দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কতটা সহায়তা করছে। টিআইর ধারণাসূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৪৫। তাই এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে এখনও অনেক কাজ করতে হবে। নানা মানদণ্ডের বিচারে জেগে উঠতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে ঘাটতি কী আছে তা বাংলাদেশই বুঝবে, আমি না।
যুগান্তর : দুর্নীতি প্রতিরোধে ভুটানের সফলতা অনুসরণীয়। এর পেছনের কারণ কী বা কোন কোন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে প্রতিরোধ কার্যক্রমে?
কিনলে ওয়াংজুম : যে কোনো কার্যক্রম হাতে নিলে তা পরিকল্পনা অনুযায়ী সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শুধু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নয় তা ভবিষ্যতে কতটা টেকসই হচ্ছে সে বিষয়েও লক্ষ্য রাখতে হবে। দুর্নীতি দমন ও প্রতিকারে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম ও শিক্ষার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাই কেবল পারে আচরণের পরিবর্তন ঘটাতে। জনগণের বদ্ধমূল ধারণা পরিবর্তন করে সততার চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে শিক্ষাই হবে বড় হাতিয়ার। এ ক্ষেত্রে সময় লাগবে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা কার্যকর ও টেকসই হবে। এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো একক পন্থা নেই। বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হলে প্রতিরোধ, শিক্ষা ও তদন্ত- এই তিন কার্যক্রমের মাধ্যমেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। এভাবেই কর্মকৌশল ঠিক করে আমরা অনেকটা সফলতা পেয়েছি।
যুগান্তর : বাংলাদেশ সফরের চার দিনে আপনার সব কার্যক্রম এখানকার দুর্নীতি দমন কমিশনকে ঘিরে ছিল। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন। এতে দুই দেশের দুর্নীতি দমন কমিশন কিভাবে লাভবান হবে?
কিনলে ওয়াংজুম : এর আগে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে দল সফর করেছে। আমাদের কার্যক্রম দেখেছে। এর অংশ হিসেবেই আমাদের সফর। এরই মধ্যে আমরা এখানকার দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রম দেখেছি। পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি। এই সমঝোতা দুই দেশের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাকে বিভিন্ন ইসু্যতে একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্র প্রসারিত করবে। এতে দুই দেশের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার সক্ষমতা আরও বাড়বে। আমাদের দুই সংস্থার যেসব ভালো কার্যক্রম আছে এর বিনিময় করা যাবে, একে অপরের কাছে শিখতে পারব আমরা। দুর্নীতির তদন্ত, অনুসন্ধান, জনবলের ব্যবহার কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, শুধু তাই নয়, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে এগোনো যায় সেসব বিষয়ও থাকছে। পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমনে একসঙ্গে কাজ করে যাবে দুই দেশের দুর্নীতি দমন কমিশন।
যুগান্তর : অর্থনৈতিক দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো পিছিয়ে আছে। দুর্নীতি এখানে বিষফোঁড়ার মতো উন্নয়ন কার্যক্রমে বাধার সৃষ্টি করেছে? এ ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের দেশগুলোর সমন্বিতভাবে কাজ করা কতটা জরুরি?
কিনলে ওয়াংজুম : আসলে দুর্নীতি শুধু উন্নয়ন নয়, মানুষের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্যও বড় বাধা। তবে এর প্রভাব দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একেক দেশে একেক রকম। কিছু দেশ এ ক্ষেত্রে ভালোও করছে। তাই এর সাধারণীকরণ করা যাবে না। তবে সাধারণভাবে বলা যায়, এই অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশই দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমনের ক্ষেত্রে সঠিক পথে হঁাটছে না। দুর্নীতির ধারণা সূচকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১৯টি দেশের মধ্যে ১৩টিই ২০১৬ সালের টিআইর ধারণা সূচকে ৫০ ভাগের নিচে নম্বর পেয়েছে। তাই এই ইসু্যতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ দুর্নীতি কোনো দেশের একক সমস্যা না। এর কোনো সীমান্ত নেই। সব সমাজেই দুর্নীতি বিরাজ করে। তাই এ অঞ্চলের মানুষ হিসেবে আমাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে লড়াই করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।
যুগান্তর : দুর্নীতি নিয়ে ভুটানের রাজার একটি বাণী আছে, 'দুর্নীতি দুর্নীতিই, এখানে ছোট কিংবা বড় দুর্নীতি বলে কিছু নেই।' আপনাদের ওয়েবসাইটে আছে সেটি। এর মাধ্যমে কী বোঝাতে চেয়েছেন তিনি?
কিনলে ওয়াংজুম : টিআইর ধারণা সূচকে ভুটানের অবস্থান ২৭। তাই আমাদের আত্মতৃপ্তির কোনো সুযোগ নেই। কারণ এখনও আমরা নম্বর ওয়ান হতে পারিনি, এখনও আমরা ২৭ নম্বরে আছি।  আবার যদি এক নম্বরেও যাই, তাহলেও কিন্তু বলা যাবে না যে, দুর্নীতি পুরোপুরি নির্মূল হয়ে গেছে। তাই এ ক্ষেত্রে আমাদের নীতি হচ্ছে- দুর্নীতিকে বৃহৎ পরিসরে দেখা। আমরা মনে করি, দুর্নীতি দুর্নীতিই। আপনারা শুনেছেন, বাংলাদেশের দুদকের চেয়ারম্যানও এমন কথা বলেছেন। দুর্নীতি যতই ছোট হোক, যদি ব্যবস্থা নেয়া না হয়, যদি দুর্নীতি বাড়তে দেয়া হয়, তাহলে ছোট দুর্নীতিই ভবিষ্যতে বড় রূপ ধারণ করে। বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করে। তাই এ ক্ষেত্রে অস্পষ্টতার কোনো সুযোগ নেই, দুর্নীতি-দুর্নীতিই, বড় হোক আর ছোট।
যুগান্তর : ভুটানের দুর্নীতি দমন কমিশনের ওয়েবসাইটে চোখে পড়েছে আরও একটি তথ্য। আপনারা বলছেন, 'ইফ ইউ কেয়ার, ইউ উইল ডেয়ার।'
কিনলে ওয়াংজুম : আমরা কি সত্যিই দুর্নীতির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করতে চাই? দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাই? আমরা যদি সত্যিই দুর্নীতিমুক্ত সমাজ নির্মাণের কথা বিশ্বাস করি, জনগণের ভালো চাই, তাহলে অবশ্যই কাউকে ভয় পেলে চলবে না। আমরা ভুটান ও ভুটানিজ সমাজের জন্যই এমন নীতি গ্রহণ করেছি। কে দুর্নীতি করেছে তার পরিচয় মুখ্য না আমাদের কাছে। এ ক্ষেত্রে সাহসের সঙ্গে এগোতে হবে। কে রাঘববোয়াল আর কে চুনোপুঁটি ভাবলে হবে না। কার রাজনৈতিক পরিচয় কি এটা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ না। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতিই প্রধান লক্ষ্য হবে এবং তা সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, জনগণের ভালোর জন্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ছি আমরা।
যুগান্তর : এ ক্ষেত্রে বাইরে থেকে বাংলাদেশের অবস্থান কি লক্ষ্য করেছেন?
কিনলে ওয়াংজুম : বাংলাদেশ নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এটা আসলে এ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এখানকার দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার নিজস্ব কেৌশলের বিষয়।
যুগান্তর : উন্নত, উন্নয়নশীলসহ প্রায় সব দেশেই আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব দুর্নীতিমুক্ত সমাজ নির্মাণে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। এ ক্ষেত্রে ভুটানের অভিজ্ঞতা কী?
কিনলে ওয়াংজুম : আমি মনে করি, দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে আমলাতন্ত্র ও রাজনীতি নিয়ে সব সময়ই প্রশ্ন আছে। এ কারণে বাধার যেমন সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক সহায়তার কারণে অনেক দেশেই দুর্নীতি প্রতিরোধ কার্যক্রম সহজ হয়েছে। রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় আসে আবার চলে যায়। কিন্তু আমলারা থেকেই যায় ক্ষমতার কাঠামোর মধ্যে। তাই দুটি বিষয়কে আমলে নিয়েই দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হবে। রাজনীতিবিদরা নীতি তৈরি করে আর তা বাস্তবায়ন করে আমলারা। তাই তারা যদি অনুভব না করে যে, সাধারণ মানুষের স্বার্থে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন করা জরুরি, তাহলে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে না। তবে আমরা ভুটানিজরা ভাগ্যবান। আমাদের শীর্ষ পর্যায়ে যারা আছে, মহামান্য রাজা থেকে সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরা তারা দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে সহায়ক। আমরা তাদের কার্যক্রমে অনুপ্রেরণা পাই। আমাদের ক্ষমতাসীন সরকার দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সেবা খাত, প্রশাসনে শিক্ষিত একটি গ্রুপ আছে। তাই আমি মনে করি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়তে হলে সমন্বিতভাবেই কাজ করতে হবে। কোনো কিছুই একা করে পারা যাবে না।
যুগান্তর : ভুটানের দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কোনো পরামর্শ আছে কি আপনার?
কিনলে ওয়াংজুম : আমাদের দেশের কথা যদি বলি, টিআইর ধারণা সূচকে ভুটানের অবস্থান দেখেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর অবস্থান দেখেন- তাহলে দেখা যাবে ভুটান দুর্নীতি দমনে ভালো করছে। তবে আমি মনে করি না যে, আমরা সব সুরক্ষিত করে ফেলেছি। আমাদের অনেক কিছু করার বাকি আছে। সরকারি সেবা খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আমরা জবাবদিহিতার আওতায় এনেছি। তাদের ধারণা দিচ্ছি দুর্নীতিমুক্তভাবে সেবা দিলে শুধু জনগণই নয়, তুমিও লাভবান হবে। বাংলাদেশের কথা যদি বলি তাহলে বলব, এ দেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের বর্তমান নেতৃত্ব দুর্নীতির বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। আমি যতটুকু জেনেছি বর্তমান চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেয়ার পর নানা ক্ষেত্রে সংস্কার করেছে। আমরা মঙ্গলবার একটি স্কুলে সততা স্টোর দেখতে গিয়েছিলাম। এই স্টোরে দেখলাম কোনো দোকানি নেই। ছাত্রছাত্রীরা দোকান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে, পণ্যের গায়ে লেখা দাম অনুযায়ী মূল্য বাক্স জমা দিচ্ছেন। এতে স্কুল পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীরা সততার চর্চা করতে পারছে বলে মনে করি। এ ছাড়া শুনেছি, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটিও আছে দুদকের। আমি মনে করি, এসব পদক্ষেপ দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে বড় ভূমিকা রাখবে। আর আমি আগেই বলেছি, শিক্ষাই পারে দুর্নীতিপ্রবণ মানসিকতার পরিবর্তন আনতে। আমরা মামলা করে কিংবা কাউকে গ্রেফতার করে কতদূর আর এগোতে পারব যদি না মানসিকতার পরিবর্তন হয়। এ ক্ষেত্রে প্রতিরোধ, শিক্ষা ও তদন্ত- এই তিন কার্যক্রমের সমন্বয় ঘটাতে হবে। তবে এর ফল খুব দ্রুত পাওয়া যাবে না। কিন্তু যে ফল পাওয়া যাবে তা টেকসই হবে। এ ক্ষেত্রে তরুণদের কাজে লাগাতে হবে, তাদের এগিয়ে আসতে হবে।
যুগান্তর : ব্যস্ত সফরে আমাদের সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
কিনলে ওয়াংজুম : ধন্যবাদ।

0 comments:

Post a Comment