Last update
Loading...

বদলে গেছে সেই ওমরান বাবার মুখে ভিন্ন সুর

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের প্রতীকে পরিণত হওয়া ছোট্ট শিশু ওমরান দাকনিশের নতুন একটি ছবি চলতি সপ্তাহে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। গত বছরের আগস্টে আলেপ্পোর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ওমরানদের বাড়িতে বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করা হয়। বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারের পর অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেয়া হয় ওমরানকে। ওই মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর থেকে তোলা হয় রক্তাক্ত ও ধুলায় ধূসরিত নির্বিকার বসে থাকা ওমরানের ছবিটি। ছবিটি পুরো বিশ্বকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছিল। সিরিয়ার আলেপ্পোয় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে উঠেছিল ওমরান। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের। সেদিনের বেঁচে যাওয়া ওমরানের নতুন একটি ছবি রোববার আনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে শিশু ওমরানকে তার বাবা ও বোনের সঙ্গে পূর্ব আলেপ্পোতে তাদের নতুন বাড়িতে দেখা যাচ্ছে। পূর্ব আলেপ্পো এখন পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে। খালেদ ইসকাফ নামে ইরানের এক সাংবাদিক ওই ছবিটি তোলেন। সাংবাদিক খালেদকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ওমরানের বাবা মোহাম্মদ দাকনিশ বলেন, সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ চালাতে তার ছেলের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সিরিয়ার বিদ্রোহী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে আক্রমণ করতে ওমরানের ছবি ব্যবহার করতে চেয়েছে।
তারা আমার ছেলের রক্ত নিয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছে। এজন্য তারা ওমরানের ছবি প্রকাশ করেছে।’ দাকনিশ জানান, ওমরান ওই দিন সামান্য চোট পেয়েছিল এবং তার শরীরের একটি আঘাত থেকেই ওই দিন তার ছেলের মুখমণ্ডলে রক্ত পড়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আমার অন্য সন্তানদের খুঁজছিলাম। ওই সময় বন্দুকধারীরা ওমরানকে নিয়ে যায় এবং একটি অ্যাম্বুলেন্সে বসিয়ে তার ছবি তোলা শুরু করে। এরপর তারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। যদিও তার কোনো প্রয়োজন ছিল না।’ ওমরানের বাবা এমনটা দাবি করলেও আলেপ্পো মেডিকেল সেন্টার (এএমসি) থেকে প্রকাশ করা ভিডিও ফুটেজ বলছে অন্য কথা। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ওমরানকে একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসছে। তার হাতে কোনো অস্ত্র নেই। ওই ব্যক্তি একজন উদ্ধারকর্মী ছিলেন বলেই মনে করা হয়। তিনিই ওমরানকে একটি অ্যাম্বুলেন্সের চেয়ারে বসিয়ে দেন। ওমরানকে যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেখানকার একজন চিকিৎসক ওই সময় বিবিসিকে বলেছিলেন, ওমরান মাথায় চোট পেয়েছে এবং সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়াও সে প্রচণ্ড আতঙ্কে ভুগছে। গত বছরের শেষ দিকে আসাদ বাহিনী আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলের দখল নিলে ওমরানের বাবা পরিবার নিয়ে সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বাস করার সিদ্ধান্ত নেন।

0 comments:

Post a Comment