Last update
Loading...

৫ই জানুয়ারির মতো নির্বাচন আর হবে না

আগামী দিনে দেশে ৫ই জানুয়ারির মতো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিনিয়ত ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছে আর বিএনপি নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। সরকার বিএনপিকে বাদ দিয়ে আবার নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু বিএনপি নেতাকর্মীদের কারাগারে পাঠিয়ে বা আদালতের সামনে হাঁটিয়ে নির্বাচন করার কথা কেউ চিন্তা করলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। আপনারা (আওয়ামী লীগ) মাঠে রেফারি নিয়ে খেলবেন আর যদি মনে করেন আমরা মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে দেখবো, এবার তা হবে না। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনের নামে যা হয়েছে, তেমন প্রহসন দেশে আর হবে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছাড়া হতে দেয়া হবে না। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে, ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এখন বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। সেজন্য সবাইকে সংগঠিত হতে হবে, রুখে দাঁড়াতে হবে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে সহায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনে সরকারকে বাধ্য করতে হবে। তিনি বলেন, অনেকে মনে করেছিলেন জিয়াউর রহমানকে হত্যা করলেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনকে ধ্বংস করে দেয়া যাবে। মানুষের স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নকে ধূলিসাত করে দেয়া যাবে। কিন্তু সেটা করা যায়নি। কারণ, মানুষ আজ সেই দর্শনই ধারণ করে। তবে দুর্ভাগ্য সেই চক্রান্তকারীরা আজ দেশের শাসন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে অগণতান্ত্রিক ও সম্পূর্ণ অবৈধভাবে। আর তারাই গত আট বছর ধরে তাদের দখলদারি শাসনব্যবস্থা রেখে দেশপ্রেমিকদের হত্যা ও গুম করছে। মামলা দিয়ে জুলুম করে জেলে আটকে রাখছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, তারা চুরি, লুটপাট করে বিদেশে বাড়ি বানাবে আর সেটার খেসারত দিতে হবে মানুষের করের টাকা দিয়ে। একটা মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে এই বাজেটকে ভালো বলেছে। আওয়ামী লীগের প্রতি যেসব অর্থনীতিবিদের দুর্বলতা আছে, তারাও বলছেন এটা সবচেয়ে খারাপ বাজেট। জনগণের ওপর বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। মির্জা আলমগীর বলেন, সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে ফেলার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে আমি উদাহরণ দিয়ে বলতে চাই, বর্তমান ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এক লাখ টাকা রাখলে আগে যেখানে ৫শ টাকা ছিল এখন সেখানে ৮শ টাকা কেটে নেবে, আবগারি শুল্ক দিতে হবে। একদিকে তারা ব্যাংক লুট করে শেষ করে দিয়েছে। ৬টা রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংক, সেটাকে লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। এখন ১৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেবে জনগনের ট্যাক্সের পয়সায়, তাদের পকেট কেটে। ‘আমার দেশ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, জিয়াউর রহমান যে আমাদের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ দান করে গেছেন, সেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের কারণে বাংলাদেশের স্বাধীনতা চলে গেছে। পতাকা কিন্তু এখনও আছে। নইলে এত দিনে এ দেশে তিন রঙের ভারতীয় পতাকা দেখতে পেতেন। এখন দেখতে পারছেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদ আবার বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিল্লির কাছে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচন হবে কি হবে না, এদেশে দখলদার প্রধানমন্ত্রী থাকবে কি থাকবে না- এটা নির্ধারিত কোথায় হয়?  নির্ধারণ দিল্লিতে হয়। এর প্রমাণ, ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনের সময় ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা বারবার দিল্লিতে ছুঁটে গিয়েছেন কেন? বাংলাদেশে নির্বাচন কীভাবে হবে, এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে কেন দিল্লি যেতে হয়? তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাজপথে নামুন, দখলদার যে সরকার ক্ষমতায় আছে, সেই সরকারকে স্রোতের মতো উৎখাত করে দিন। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র ফেরত আসবে। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলের পরিচালনায় আলোচনা সভায় ‘আমার দেশ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান, মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসান, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা মুস্তাফিজুর রহমান, গোলাম সরোয়ার, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সাদরেজ জামান, এসএম জিলানি, রফিক হাওলাদার, নজরুল ইসলাম, ফখরুল ইসলাম রবিন, গাজী রেজওয়ানুল হক রিয়াজ, আওলাদ হোসেন উজ্জল, আবদুর রহমান বাবু ও জাহিদ হোসেন বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে ‘কমল’ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন বিএনপি মহাসচিব।

0 comments:

Post a Comment