Last update
Loading...

‘এবার ভারতের সুরটাও একটু বদল’

পার্বত্য জেলায় পাহাড় ধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুইডেন সফরকে আনন্দ ভ্রমণ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বলেছেন, পাবর্ত্য চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে ১৫৫ জন লোক মারা গেছে। আর্মির লোকজনও সেখানে মারা গেছে। এখনও অনেক নিখোঁজ রয়েছে। আর আওয়ামী লীগের নেত্রী এখন ভ্রমণে আছেন। দেশের মানুষের প্রতি তার কোনো মমতা নেই। রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়া বলেন, শেখ হাসিনা বলেন তিনি নাকি দেশের মানুষের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। দেশের মানুষ জীবন দিচ্ছে, তিনি ভ্রমণ করছেন। তাহলে এটায় কী প্রমাণ হয়? তিনি কী দেশের মানুষের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত? ওয়ান ইলেভেনের সময় শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে খালেদা জিয়া বলেন, মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীন বললো, আর তারপরই তো তিনি দেশ ছেড়ে গেলেন। তারপরে তাদের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক নাটক করে আবার আসলেন। আসার পরে তাদের সঙ্গে বুঝাপড়া করে সবকিছু করেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সে সময় আমাকেও দেশের বাইরে চলে যেতে ওরা বলেছিল। আজকে যদি আমরা চলে যেতাম দেশের বাইরে, তাহলে আমার বড় ছেলেটা (তারেক রহমান) ভালো থাকতো। আমার ছোট ছেলেটাকেও (আরাফাত রহমান কোকো) আমি হারাতাম না। খালেদা জিয়া বলেন, আমি কিন্তু দেশ ছেড়ে যাইনি। দেশের মানুষকে ছেড়ে যাইনি। আমি বলেছি, এই দেশ আমার, এই দেশের মাটি ছেড়ে আমি যাবো না। আল্লাহর ইচ্ছা দেখেন, আমি দেশ ছেড়ে যাইনি কিন্তু মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীন দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। আজকে বুঝতে হবে দেশের মানুষের সঙ্গে বেইমানি করে, দেশের সঙ্গে বেইমানি করে কোনোদিনও কিন্তু আল্লাহর হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দেশের যে অবস্থা বিরাজমান, মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। দেশে অবিলম্বে নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। ২০১৪ সালে নির্বাচন হয়নি। কেউ ওই নির্বাচনের স্বীকৃতি দেয়নি, একমাত্র আমাদের প্রতিবেশী দিয়েছে। কিন্তু এবার তাদের সুরটাও একটু বদল। তারা বুঝেছে, তারা ভুল করেছে, ঠিক করেনি। সেজন্য এবার বিএনপি যদি না যায়, ২০ দল যদি না যায় এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। আওয়ামী লীগ একলা নির্বাচন করতে পারবে না। খালেদা জিয়া বলেন, আমরা ও ২০ দল নির্বাচনে যাবো। আমরা বিশ্বাস করি, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা জিতবো। সেজন্য বলতে চাই, নিরপেক্ষ নির্বাচনটা তখনই সম্ভব-যখন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকবে না। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার যেটা আওয়ামী লীগ দাবি করেছিল আমাদের সময়ে (১৯৯৫ সালে) আমরা দিয়েছিলাম। তখন তত্ত্বাবধায়ক নাম ছিল, এখন যেকোনো নাম দিতে পারেন। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, হবে না, হতে পারে না। খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান সরকার দেশে যত অপরাধ করেছে, কত মা তাদের সন্তান হারিয়েছে, কতজন তাদের স্বামী হারিয়েছে- তাদের কান্না, তাদের আহজারি বৃথা যাবে না। আমরা বিশ্বাস করি, এবার নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে আরেকবারের মতো শিক্ষা দেবে। খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগের ছোট ছোট নেতারা বুঝতেছেন সময়টা কিন্তু সামনে ভালো নয়। আপনাদের সময় ভালো আসছে না। যারা গণনা করেন, গণনাকারীরাও এটা বলেছে। কাজেই ছোট-খাটো নেতারা যারা আছেন, যা কিছু বানিয়েছেন, ওগুলো নিয়ে কেটে পড়ার ব্যবস্থা করেন। বড় নেতারা তাদের ব্যবস্থা করেছে, পকেটে টিকিট নিয়ে ঘুরছে। অবস্থা দেখলেই তারা উড়াল দেবে- আপনাদের দিকে চাইবে না ফিরে। এ সময় তিনি বিরোধী দলের কারাবন্দি নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বিনা টেন্ডারে চাল আমদানির সমালোচনা করেন। মূল মঞ্চে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, মহানগর দক্ষিণ সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারসহ দক্ষিণের নেতাদের নিয়ে ইফতার করেন খালেদা জিয়া। ইফতারে ২০ দলীয় জোটের নেতা অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, গরীবে নেওয়াজ, বিএনপির সিনিয়র নেতা ডা. জাহিদ হোসেন, আবদুল হালিম, হাবিবুর রহমান হাবিব, তাহসিনা রুশদীর লুনা, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আলহাজ সালাহউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, এমএ মালেক, মীর সরফত আলী সপু, যুবদল নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব, সুলতানা সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি নেতাদের মধ্যে- শামসুল হুদা, ইউনুস মৃধা, মীর হোসেন মীরু, নাসিমা আখতার কল্পনা, সাজ্জাদ জহির, মোশাররফ হোসেন খোকন, মো. মোহন, জয়নাল আবেদীন রতন, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, হাবিবুর রশীদ হাবিব, আনম সাইফুল ইসলাম, শেখ রবিউল আলম রবি, সাইফুল ইসলাম পটু, রফিকুল ইসলাম রাসেল, সাইদুর রহমান মিন্টু, আবদুল হাই পল্লব, উত্তরের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসান, যুগ্ম সম্পাদক এজিএম শামসুল হক, খন্দকার জিল্লুর রহমান অংশ নেন।

0 comments:

Post a Comment